বাংলাদেশে কি নির্বাচন হচ্ছে, নাকি ছোটখাটো কোনও যুদ্ধ লাগতে চলেছে! গত মঙ্গলবার ঢাকার উপকণ্ঠে গাজীপুরে আয়োজিত এক মতবিনিময়সভায় বাংলাদেশের বর্তমান নির্বাচনী পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনায় বসেছিলেন বাংলাদেশ সেনার তিন বাহিনীর প্রধান এবং অন্যান্য সেনা জেনারেলরা। সেখানে বাংলাদেশ সেনার তিন বাহিনীর প্রধানই নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে আলোকপাত করলেন। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান দাবি করেছেন, ‘দেশ একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা অত্যন্ত আন্তরিকভাবে কাজ করছে। নির্বাচন না হওয়ার কোনও সুযোগ নেই’। অর্থাৎ তিনি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। সেনাপ্রধান আরও বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশন, সরকার, প্রশাসন এবং পুলিশসহ সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনী সবাই সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে। আমাদের সবার লক্ষ্য একটাই, আর তা হলো একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা’।
অপরদিকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন দাবি করেন, বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি বিমানঘাঁটিতে সামরিক হেলিকপ্টার মোতায়েন থাকবে।
আবার বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসানের দাবি, তাঁরা যে যে এলাকায় দুস্কৃতকারীদের দৌঁড়াত্ব বেশি সেখানে তাঁরা বেশি করে নজরদারি চালাচ্ছেন।
অর্থাৎ, আসন্ন ত্রয়োদশ নির্বাচনকে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে এখন সাজ সাজ রব। কিন্তু সেনাপ্রধানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। তিনি ঠিক কোন দিকে ঝুঁকে আছেন। মঙ্গলবার তিনি এ কথাও জানিয়েছেন, ভোটের দিন কোথাও কোথাও বিশৃঙ্খলা হতে পারে। তিনি সকলকে সাবধান করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় কিছু দুর্বৃত্ত থাকতে পারে, যারা ব্যালট ছিনতাই, কারচুপি বা ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। এই ধরনের অপতৎপরতা কঠোরভাবে দমন করা হবে। অপরাধের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক আটক অথবা মামলা—আইন অনুযায়ী যা প্রযোজ্য, সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। অর্থাৎ, আঁটঘাঁট বেঁধেই নামতে চান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান।
কিন্তু ২০২৪ সালের সেই ৫ আগস্টও জেনারেল ওয়াকার বহু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের মানুষদের জানমালের দায়িত্ব তিনি নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। কিন্তু বিগত আঠারো মাসে বাংলাদেশে কয়েকশো মানুষের জান গিয়েছে। কয়েক হাজার মানুষের ঘরবাড়ি, সম্পত্তি ধ্বংস হয়েছে। কিন্তু জেনারেল ওয়াকার মাঝেমধ্যে শীতঘুম ভেঙে উঠে বড় বড় হুমকি দেওয়া ছাড়া কিছুই করেননি। তিনি দাবি করেছিলেন, ছয় মাসের মধ্যেই বাংলাদেশে নির্বাচন হবে। কিন্তু আঠারো মাস পর সেটা হচ্ছে। কিন্তু তিনি কি চাইছেন, বাংলাদেশে একটা সুস্থ নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসুক? দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দাবি করা জেনারেল ওয়াকার আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে নিরব। গণভোটে হ্যাঁ চিহ্নে টিক দেওয়ার যে সরকারি প্রচারণা, সেটাতেও তিনি নিরব। কেউ কেউ দাবি করছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমনের সঙ্গে তাঁর গোপন সমঝোতা হয়েছে। আবার কেউ দাবি করেন, তিনি আসলে জামাতের লোক। অর্থাৎ জেনারেল ওয়াকার নিরপেক্ষ নন। তাহলে কিভাবে তিনি নিরপেক্ষ ভোট করাবেন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। তিনি আসলে কার পক্ষে খেলছেন, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।












Discussion about this post