নির্বাচন বাকি আর কয়েকদিনও নয় কয়েক ঘন্টা মাত্র। তার আগেই ক্ষমতা দেখালো বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ‘নো বোট নো ভোট’ হাসিনার এই উক্তি আজ অক্ষরে অক্ষরে পালন করছে বাংলাদেশ জুড়ে।বাংলাদেশের ১৬৭৫ জন বিশিষ্ট নাগরিক আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট বয়কট করার ডাক ডাক দিয়েছেন। দেশে ও দেশের বাইরে অবস্থানরত এই নাগরিকদের মধ্যে আছেন চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, কবি- সাহিত্যিক, সাংবাদিক প্রমূখ।এক বিবৃতিতে তারা বলেছেন, আমরা বাংলাদেশের বিভিন্ন পেশাজীবী ও সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও তথাকথিত গণভোট নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদের সঙ্গে বর্জনের আহ্বান জানাচ্ছি।বর্তমানে বাংলাদেশে কোনও গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক, অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের ন্যূনতম রাজনৈতিক, আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক বা নিরাপত্তাগত পরিবেশ বিদ্যমান নেই। যা আয়োজ করা হচ্ছে, তা কোনও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নয়; বরং একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রহসন—যা দেশকে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার দিকে ঠেলে দেবে।প্রসঙ্গত বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে আওয়ামী লিগকে অংশ নিতে দেওয়া হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা তার দলকে ভোট বয়কটের নির্দেশ দিয়েছেন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লিগের নেতারা ভোট বয়কটের আহ্বান জানিয়ে ভার্চুয়াল মাধ্যমে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।বিবৃতিতে ওই নাগরিকেরা ব্যাখ্যা দিয়েছেন কেন আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট অবৈধ ও বেআইনি। সেই সঙ্গে তারা বারো দফা দাবি পেশ করেছেন। আর সেই দাবি অনুযায়ী মেনে চললে বাংলাদেশের ভোট আজ বড়ই অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলাই বাহুল্য। দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-
সরকারের আইনগত ও সাংবিধানিক বৈধতার অনুপস্থিতি একটি গুরুতর বিষয়। বর্তমান সরকার একটি অনির্বাচিত কর্তৃত্ব, যার কোনও গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট নেই। এমন একটি সরকারের পক্ষে জাতীয় নির্বাচন বা গণভোট আয়োজন করার মতো কোনও নৈতিক বা সাংবিধানিক অধিকার নেই।
নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া ছিল অস্বচ্ছ, বিশেষ পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রভাবিত। এতে রাজনৈতিক ঐকমত্য ও প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি।
গণভোট আয়োজনের অধিকার কেবল একটি নির্বাচিত সরকারের । তাই বর্তমান কর্তৃপক্ষের এই বিষয়ে কোনও নৈতিক বা সাংবিধানিক বৈধতা নেই।
এই প্রক্রিয়ায় গঠিত কোনও সরকারই আইনি বা রাজনৈতিক বৈধতা পাবে না। ফলে রাষ্ট্র পরিচালনা যেমন দুরূহ হবে, তেমনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বর্তমানে দেশে মব সন্ত্রাস, রাজনৈতিক নিপীড়ন, ঢালাও গ্রেপ্তার, মতপ্রকাশ দমন ও বিচার ব্যবস্থার অবক্ষয় চলছে। এই পরিস্থিতিতে কোনও নাগরিক স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবে না।
দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লিগ এবং অর্ধেকরও অধিক রাজনৈতিক দল ও প্রতীককে পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এতে জনগণের প্রতিনিধিত্ব অসম্ভব!
সাংবাদিক, শিক্ষক, আইনজীবী, লেখক ও বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও হয়রানি চলছে নিয়মিত ।
গুম, হত্যা, হুমকি, ধর্মীয় নিপীড়ন, নারী ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তাহীনতা—সব মিলিয়ে মানবাধিকার পরিস্থিতি চরমভাবে বিপর্যস্ত।
বর্তমান সরকার নিজেদের নিরপেক্ষ দাবি করলেও বাস্তবে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে সমর্থন করছে।
বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের কাছে রাজনীতিকরণ: রাষ্ট্রের মৌলিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় অকার্যকর রয়েছে। বর্তমানে কোনও আইনের প্রয়োগ নেই এবং বিচারালয়ের বিচার চলছে সরকারের ও বিশেষ শক্তির ইশারায়।
এই নির্বাচন রাজনৈতিক মেরুকরণ বাড়াবে, সামাজিক বিভাজন তীব্র করবে এবং দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা তৈরি করবে।
বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, বিনিয়োগ ও কূটনৈতিক সহযোগিতা হারাবে যা দেশের জন্য চরম ক্ষতির শামিল ।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক সমতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা—কোনোটিই কার্যকরভাবে নেই। এমতাবস্থায় ভোটের মাধ্যমে সঠিক জনমত আশা করা অসম্ভব।
স্বাভাবিক ভাবেই বাংলাদেশের নির্বাচন যে এক অশনি সংকেতের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে তা বোঝাই যাচ্ছে এখন দেখার ইউনুস উপদেষ্টাদের নির্বাচনী খেলা বাংলাদেশের জনগণের উপর কতটা প্রভাব ফেলতে পারে অন্যদিকে আবার আওয়ামী লীগের নেত্রী শেখ হাসিনার ভোট বয়কটের ডাক কতটা প্রভাব ফেলতে পারে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ নির্বাচনে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post