জাহাজ যে ডুবতে পারে, সেটা প্রথম টের পায় ইঁদুরেরা। তাই পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করে। বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে উপদেষ্টাদের অনেকেই দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা তাদের লাল পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। খবরের সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তবে তিনি এটাও বলেছেন, যে তিনি এবং তাঁর স্ত্রী পাসপোর্ট জমা দেননি। তাঁরা সাধারণ পাসপোর্টের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে আবেদন করেছেন। তাদের আগে দুই ছাত্র উপদেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারি খোদা বকশ চৌধুরী লাল পাসপোর্ট ফিরিয়ে দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছেন। এখনও পর্যন্ত যারা লাল পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন, তাদের মধ্যে ফাওজল কবির খান ছাড়া রয়েছেন
সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, গত ২০ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তারা বিশেষ পাসপোর্টের পরিবর্তে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছেন। এই বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, “ কোনও কোনও উপদেষ্টা সাধারণ পাসপোর্ট দ্রুত পেয়ে প্রয়োজনীয় ভিসা নেওয়ার জন্য কূটনৈতিক পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন। তবে আমি বা আমার স্ত্রী কেউ আমাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিইনি। ”
প্রশ্ন হল, হঠাৎ এই লালপাসপোর্ট ছাড়ার হিড়িক কেন? আর সরকারি আবাসন ছেড়ে তাঁরা কোথায় গিয়ে উঠছেন? লালপাসপোর্ট ছাড়া কারণ হিসেবে উঠে আসছে দ্রুত বিদেশে যাওয়ার সুবিধা। এই তালিকায় এমন আরও অনেকে আছেন, যারা কিছুদিন আগেও জানিয়েছিলেন দেশ সরকার যাদের সেফ এক্সিটের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে, তারা তাদের সেই তালিকা প্রকাশ করবে। দেখা যাচ্চে, সেই সব উপদেষ্টাদের অনেকেই লাল পাসপোর্ট ছাড়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা খলিদ হোসেন বলেন, “ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন যথাসময়ে ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে আমরা চলে যাব। সেফ এক্সিট বলতে আমি কিছু বুঝি না। আমার কোনও সেকেন্ড হোম নেই। এমনকী ঢাকাতেও নিজের বাড়ি নেই। বর্তমানে আমি আমার সরকারি বাড়িতে এবং চট্টগ্রামের ভাড়া বাসায় থাকি। আমি এই দেশের মানুষ। এই দেশ আমার। আমি এই দেশেই থাকব।”
বাংলাদেশে তিন ধরনের পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়। সাধারণ নাগরিকদের জন্য বরাদ্দ পাসপোর্টের কভার পেজের রং সবুজ। নীল কভার পেজের পাসপোর্ট দেওয়া হয় সরকারি আধিকারিকদের। এছাড়া কুটনীতিক এবং মন্ত্রী, সাংসদ ও তাদের পরিবারের সদস্যদের দেওয়া হয়ে থাকে লাল রঙের কভার পেজ দেওয়া পাসপোর্ট। এই পাসপোর্ট লাল পাসপোর্ট বলেই পরিচিত। বাংলাদেশ আর দুই দিন বাদে ভোট। জাতীয় রাজনীতিতে এক অদ্ভুত মোড়। যারা একসময় সরকারের মুখ হয়ে উঠেছিল, তারাই এখন সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলছে। সেই মুখের মধ্যে অন্যতম দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি সরকারের শ্বেতপত্র কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন। রবিবার ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত এক আলোচনা চক্রে তাঁকে সরকারে বিরুদ্ধে বিষোদগার করতে শোনা গেল। বাংলাদেশের বিশিষ্ট এই অর্থনীতিবিদকে বলতে শোনা গেলে, “ আমি কেন বলতে চাই যে এই সরকারের যাওয়ার সময় হয়েছে। কারণ, তাদের যতটুকু সংস্কার করার সুযোগ ছিল, যেটুকু আমার … আমার… যেটুকু সংস্কার করার জায়গা ছিল যেটুকু বিচার করার জায়গা ছিল, ওনাদের দম ফুড়িয়ে গিয়েছে। আর ওনাদের এই … ওনাদের যেটুকু ক্ষমতা, যেটুকু সম্ভাবনা, তা শেষ সীমায় চলে এসেছে। এখন যেটা ওনারা করতে পারেন, সেটা হল একটা ভালো নির্বাচন। যেটুকু করা সম্ভব। অন্তর্বর্তী সরকার যদি তাদের দায়িত্ব শেষ পর্যায়ে একটি সুষ্ঠু ও নির্ভরযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে পারে, তাহলে সেই আয়োজন ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
তিনি একা নয়, তাঁর পাশে রয়েছেন বদিউল আলম মজুমদার। তদারকি সরকারের বিদায় বেলায় তিনি এখন বলছেন, নির্বাচন ব্যবস্থায় সংস্কার কমিশন ও জাতীয় ঐক্য কমিশনে দায়িত্ব পালন করলেও বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অংশ ছিলেন না। তিনি বলেছেন, ‘একটা ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটানো দরকার…সরকারের একটা অগ্রাধিকার এবং জনগণের দাবির মুখে আমরা আমাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সহায়তা করার চেষ্টা করেছি। সরকারের অংশ হিসেবে কাজ করিনি।’
অনুষ্ঠানে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, কোনও কোনও সময় একটা ধারণা তৈরি হয় যে তিনি সরকারের অংশ ছিলেন। কিন্তু তিনি কোনওভাবেই সরকারের দায়িত্বে ছিলেন না। দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনওরকম মতামত নেওয়া হয়নি। তিনি এও বলেন, যে ঐকমত্য কমিশনে তিনি সুজন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন। কমিশন গঠনের ব্যাপারে তাঁদের কোনও ভূমিকা ছিল না।












Discussion about this post