প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, নির্বাচন হয়ে গেলে নির্বাচিত সরকার দ্রুত দায়িত্ব গ্রহণ করবে। এর মধ্য দিয়ে শেষ হবে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে তিনি ভাষণ দেন। সেই ভাষণে তিনি স্মরণ করেন মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রাপ্তির কথা। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আর মাত্র একদিন পরই সারাদেশে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোট। সারা জাতির বহু বছরের আকাঙ্ক্ষার দিন। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা বাংলাদেশ পেয়েছি এবং স্বৈরাচারবিরোধী দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের সাফল্যের পর আজ আবার গণতান্ত্রিক উত্তরণের যুগ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। আপামর জনগণের—বিশেষ করে জুলাইয়ের যোদ্ধাদের আত্মত্যাগ ছাড়া এই নির্বাচন, এই গণভোট – কোনোটিই সম্ভব হতো না। সমগ্র জাতি তাই তাদের কাছে চিরঋণী।”
তিনি বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে এবং গৌরবের সঙ্গে নবনির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব অর্পণ করে, তাদের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করে বিদায় নিয়ে নিজ নিজ কাজে ফিরে যাব। আমরা এই শুভ মুহূর্তের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’ প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন, আগামী পরশু দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আমরা সবাই মিলে নতুন সরকার গঠনের নির্বাচন করব। পাশাপাশি গণভোটের মাধ্যমে আমাদের প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশের রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণ করব।
এবারের নির্বাচন প্রসঙ্গে ইউনুস জানিয়েছেন, “ এবারের নির্বাচনকে ঘিরে সার্বিক প্রচার-প্রচারনা পূর্ববর্তী যে কোনও নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে শান্তিপূর্ণ হয়েছে। মত ও আদর্শের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক দলগুলি সংযম দেখিয়েছে। প্রার্থীরা দায়িত্বশীল আচরণ করেছেন এবং সাধারণ মানুষ সচেতন থেকেছেন। এই পরিবেশ হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। এটি সম্মিলিত দায়িত্ববোধের ফল। ” প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “তবে এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মাঝেও আমাদের হৃদয়ে গভীর বেদনার ছায়া রয়েছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এবং প্রচার-প্রচারণাকালে সংঘটিত কয়েকটি সহিংস ঘটনায় আমরা কিছু মূল্যবান প্রাণ হারিয়েছি। এই সহিংসতা আমাদের জাতীয় বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। গণতন্ত্রের চর্চায় কোনো প্রাণ ঝরে যাওয়া—কোনো সভ্য রাষ্ট্রের জন্যই গ্রহণযোগ্য নয়।”
তিনি বলেন এবারের নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে, যা এ যাবৎকালের যে কোনও নির্বাচনের মধ্যে সর্বাধিক সংখ্যক রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ। স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট প্রার্থীর সংখ্যা দুই হাজারে বেশি। আগের জাতীয় নির্বাচনগুলিতে এর চেয়ে বেশি প্রার্থী প্রায় কখনই দেখা যায়নি। ইউনূস আরও বলেন, “এবারের নির্বাচন শুধু আরেকটি নিয়মিত নির্বাচন নয়। এটি একটি গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। দীর্ঘ সয়ম ধরে জমে থাকা ক্ষোভ, বৈষম্য, বঞ্চনা ও অবিচারের বিরুদ্ধে জনগণের যে জাগরণ দেখেছি, এই নির্বাচন তার সাংবিধানিক প্রকাশ। রাজপথের সেই দাবি আজ আপনাদের ব্যালটের মাধ্যমে উচ্চারিত হতে যাচ্ছে। তাই এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। ”
এই ভাষণ একটি রুটিন ভাষণ বলা যেতে পারে। যে কোনও সরকার প্রধান ভোটের আগে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে থাকেন। সেই রীতি বজায় রাখলেন তদারকি সরকার প্রধান। তিনি ভোটারদের অভয় দিয়েছেন। নাগরিক অধিকার প্রয়োগের আবেদন জানিয়েছেন। ভাষণের একটি পর্যায়ে তাঁকে বলতে শোনা, “একটি চিহ্নিত মহল পরিকল্পিতভাবে গুজব এবং বিকৃত তথ্য ছড়িয়ে নাগরিকদের মনে সন্দেহ, ভয় ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তাদের উদ্দেশ্য একটাই – নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করা, জনগণের আস্থাকে দূর্বল করা।” এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “এখন নতুন করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে যে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার না কি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে না। এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও পরিকল্পিত অপপ্রচার, যার একমাত্র উদ্দেশ্য আমাদের গণতান্ত্রিক উত্তরণে বিঘ্ন সৃষ্টি করা। আপনারা নিশ্চিন্তে থাকুন, নির্বাচনে বিজয়ী জনপ্রতিনিধিদের কাছে দ্রুততম সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করে অন্তর্বর্তী সরকার তাঁর দায়িত্ব সমাপ্ত করবে। ” প্রথম প্রশ্ন হল, তিনি কোনও নির্দিষ্ট সময়ের কথা বলেননি। বলেছেন দ্রুততম সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা। কিন্তু কেন। অথচ শফিকুল আলম জানিয়েছেন, নির্বাচনের ফল ঘোষণার চারপাঁচ দিনের মধ্যে জনপ্রতিনিধিদের শপথবাক্য পাঠ করানো হবে। তবে কি ইউনূসের ইচ্ছা জুলাই সনদের পক্ষে ভোট পড়ুক আর তিনি ক্ষমতায় আরও কিছুদিন থেকে যান। গুজবের কথা তাঁর কানে গিয়েছে বলেই ভাষণে তাঁর উল্লেখ করেছেন। তবে কি আন্ডার দ্য টেবিল কোনও কোনও দলের সঙ্গে সমঝোতা হয়ে গিয়েছে যে তিনি রাষ্ট্রপতি হবেন। ইউনূস কিন্তু একবারের জন্য বলেননি যে না তাঁর সরকারে থাকার ইচ্ছে আছে না. কোনও দায়িত্ব পালনের ইচ্ছে আছে।












Discussion about this post