একসময় আসিফ নজরুলকে দেখা যেত, বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত জীবনকাহিনী বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলতেন। কিন্তু এখন তাকেই দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চরিত্রে। তিনি বিষধগর করছেন আওয়ামী লীগের প্রতি। যখন নির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্যে দেশ ঢুকে গিয়েছে, তখনও তিনি আওয়ামী লীগকে নিয়ে নানা কথা বলছেন। এদিকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না আওয়ামীলীগ। এছাড়াও আওয়ামী লীগকে নিয়ে অনেকে ভেবেছিলেন, যে আওয়ামী লীগ নির্বাচন বানচাল করতে পারে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগ কোনও খবরেই নেই। অথচ ফের নতুন করে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিষোদকার করলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। আসিফ নজরুল নিজে যে আতঙ্কে রয়েছেন ক্ষমতার বিদায় বেলায়, সেটা তার বক্তব্যে স্পষ্ট।
আসিফ নজরুল শেষ কর্ম দিবসে বললেন, অন্তবর্তী সরকারের সদস্যদের হত্যার নির্দেশ দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। তার এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এমন ভয়ংকর অভিযোগ করছেন আইন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতারা অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যদের হত্যার নির্দেশ দিচ্ছে। মঙ্গলবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ঢাকায় সফলরত কমনওয়েলথ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মুখোমুখি হয়ে এই অভিযোগই করেন আসিফ নজরুল। বৈঠকটি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। আসিফ বলেন, নির্বাচনকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার বিষয়ে প্রতিনিধির দল প্রশ্ন তুললে তিনি জানান, জোর করে কাউকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগের কারও মধ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণের মানসিকতা দেখা যায়নি। বরং তারা বিদেশে বসে জুলাই গণঅভ্যুত্থান কারীদের এবং অন্তর্ভুক্তির সরকারের দায়িত্বশীলতাদের হত্যার নির্দেশ দিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, যে জুলাই এর হত্যাকাণ্ডে জড়িত আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের বিচার চলছে এবং দলটি শীর্ষ নেত্রীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ রয়েছে। তবে সেক্ষেত্রে ওই সময়ের ঘটনায় আওয়ামী লীগের কোন নেতাকে অনুশোচনামূলক বা নিন্দা সূচক বক্তব্য দিতে দেখা যায়নি এখনো পর্যন্ত। কিন্তু যে অভিযোগ আসিফ নজরুল করছেন, সেটার বাস্তবতা কি আদেও রয়েছে? কারণ আওয়ামী লীগের চিহ্ন নেই বাংলাদেশে। অন্তত মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার, সেই দাবিই করে। তাহলে তারা দেশের বাইরে থেকে কিভাবে হত্যার ছক কষবেন ?
এরপরে নারীদের ভোটে অংশগ্রহণ সম্পর্কে একটি বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, দেশের নারী ভোটারদের ভয় পাবার মত কোনও পরিস্থিতি নেই। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও তা নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণে প্রভাব ফেলবে না। অর্থাৎ যে সমস্ত ঘটনা ঘটেছে, সেটাকে তিনি বলছেন, বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এটা বলে কি আদেও দায় সারা যায়? তিনি বলেন, অতীতের শাসনামলে হিজাব ও বোরখা পরা নারীদের একটা বড় অংশ নানা ধরনের হয়রানি ও নিপীড়নের শিকার হয়েছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই নারীদের বড় অংশগ্রহণ সঙ্গে ভোট দিতে আসবেন বলে আশা তার। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, সংখ্যালঘুরা কি ভোট দিতে যাবেন? তাদের প্রতি কি কোনও নিশ্চয়তা দিচ্ছেন আসিফ নজরুল? কারণ, বিগত কয়েকদিনের সংখ্যালঘুদের ওপর যে অত্যাচারের ঘটনা, সেটা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এবং বিভিন্ন মহলে এর বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় উঠেছে। এখন প্রশ্ন, নির্বাচনের মাত্র কয়েক ঘন্টার আগে এমন আওয়ামী লীগ আতঙ্কে ভুগছেন কেন আসিফ নজরুল?












Discussion about this post