দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। আজ, ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। ২০২৪ সালের অগস্ট মাসে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে দেশ শাসনের ভার ছিল মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের উপরে। দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে আজ হচ্ছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একইসঙ্গে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নিজেদের মত বোটাম টিপে ভোট দেবেন ১২ কোটিরও বেশি মানুষ। বাংলাদেশে মোট ৩০০ আসনে নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ। ভোটে প্রধান লড়াই হচ্ছে দ্বি-মুখী, বিএনপি বনাম জামায়াত-এনসিপি জোটের। ঢাকাসহ সারাদেশের ভোটকেন্দ্রগুলোতেই ভোট দেওয়ার জন্য সকাল থেকেই ভোটারদের কম বেশি উপস্থিতি দেখা গেছে। আবার ঢাকাসহ অনেক জায়গায় ভোট ধীরগতিতে হচ্ছে বলে অনেক ভোটার জানিয়েছেন। সকালে তো ভোট হচ্ছে কিন্তু গতকাল রাত থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে গিয়েছে। ২০১৮ সালের বাংলাদেশের নির্বাচনকে সব থেকে বিতর্কিত নির্বাচন বলি। কেন বলি, তার কারণ সেবার ভোট রাতের বদলে দিনে শুরু হয়েছিল। মুহাম্মই ইউনূস বলেছিল নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হবে কিন্তু এই নির্বাচনও সমালোচনা হচ্ছে। প্রিসাইডিং অফিসারের রুমে সেখানে গিয়ে আন্দোলনের অভিযোগ উঠেছে। সেই ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। ঢাকা ৬ আসনে এই ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ অভিযুক্তদের সেখান থেকে বের করে দেওয়া। কিন্তু প্রশ্ন একটা রাজনৈতিক দলের নেতারা সেখানে ঢুকে কী করছিল, তাদের মূল উদ্দেশ্যে কী ছিল এই প্রশ্নগুলো থেকেই যায়। তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা সেই বিষয়ে কিছুই জানা যায়নি। অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জের একটি আসনে গণভোটকে বানচাল করার চেষ্টা চলছে। গণভোটের ব্যালট বাইরে বের করা হয়েছে অনেক গুলো ব্যালট বের করা হয়েছে। যারা এই ঘটনা দেখে ফেলেছে তারা বলছে হ্যা ভোট দেওয়ার চেষ্টা চলছিল। অর্থাৎ ছাপ্পার চেষ্টা চলছিল। গণভোট জেতার চলছিল। যারা এই ঘটনা দেখেছে তারা প্রত্যেকে বিএনপির লোক। জামাত হ্যা ভোটের পক্ষে চেষ্টা চালাচ্ছিল। এবার আরও একটি্ ঘটনার কথা বলি, ঢাকার মীরপুরের একটি ছবি গণমাধ্যমে সামনে এসেছে। দুজন কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এবার আপনাদের প্রশ্ন থাকতেই পারে কেন দুজনকে গ্রেফতার করা হল? অবৈধ অনুপ্রবেশের কারণে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা ভোট কেন্দ্রে অবৈধভাবে ঢুকছিল। তাদের দুজনকে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। দুই অভিযুক্তের বয়স ৩২ এবং ২৩। যে খবর সংবাদমাধ্যমের সামনে আসছে সোগুলো সবই সত্যি ঘটনা। একের পর এক ঘটনার ঘনঘটা বাংলাদেশ নির্বাচনকে সামনে রেখে। শরীয়তপুরের নড়িয়া পৌরসভার দক্ষিণ বৈশাখীপাড়া এলাকার জামায়াতে ইসলামীর একটি নির্বাচনী কার্যালয় থেকে ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী। সেখান থেকে আটক ভোট গ্রহণের দায়িত্বে থাকা এক পোলিং কর্মকর্তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শুধু যে ভোট বানচাল হচ্ছে সেটা কিন্তু না সঙ্গে সঙ্গে রেজাল্ট শিট উদ্ধার হয়েছে। ঝিনাইদহ-৪ আসনের একটি ভোট কেন্দ্র থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এজেন্টের স্বাক্ষরিত ২৩টি রেজাল্ট শিট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে । গতকাল রাত ৯টার দিকে কালীগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর কেন্দ্র সলিমুন্নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে সব রেজাল্ট শিট জব্দ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী জেসমিন আরা। অর্থাৎ ভোটের আগে রেজাল্ট শিট তৈরী করা হয়েছে। এতো অভিযোগ কিন্তু সবই জামাতের দিকে। এখন দেখার ফলাফল কী হয়।












Discussion about this post