পুষ্পবৃষ্টির কথা আমরা শুনেছি। বিভিন্ন পুরাণে এর উদাহরণ পাওয়া যায়। আবার ২৬ জানুয়ারি সাধারণতন্ত্র দিবসের দিন দিল্লির রেডরোড, বর্তমানে যা কর্তব্য পথ নামে চেনেন, সেখানে অতিথিদের মাথায় হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টি করা হয়। তাই বলে টাকার বৃষ্টি!! শুনতে অবাক লাগলেও বাস্তবেই সেটা হয়েছে। কে বলবে বাংলাদেশে টাকার অভাব রয়েছে? টাকার বৃষ্টি হয়েছে মুষলধারে। কীর্তন বা বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যেভাবে ভক্তরা ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে বাতাসা ছুঁড়ে দেন. ঠিক সেইভাবে পদ্মাপারে হয়েছে টাকার হরির লুঠ। টাকা উড়েছে। তাও একজায়গায় হলে না হয় একটা কথা ছিল। একসঙ্গে বিভিন্ন জায়গায়। ফারাক, একই সময়ে হয়নি। টাকার বৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন সময়ে। শুরু হয় বুধবার সকাল থেকে। চলে রাত ৮টা পর্যন্ত। টাকার বৃষ্টি হয়েছে সৈয়দপুর, কুমিল্লা, শরীয়তপুর, পটুয়াখালি, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ, রাজধানী ঢাকার সূত্রাপুরে। কাঠগড়ায় জামায়াতের ১২ নেতা। অভিযোগ ভোট কেনার জন্য এই ১২ নেতা টাকা বিলিয়েছেন। নোয়াখালিত আবার টাকার সঙ্গে হ্যান্ডবিলও বিলি করা হয়েছে। সিরাগঞ্জে টাকা বিতরণকালে জনতা ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যান জামাতের এক নেতা। নীলমাফির সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বমাল সমেত ধরা পড়েছে জামাত নেতা বেলাল উদ্দিন। তিনি আবার ঠাঁকুরগাঁওয়ের জেলা জামাতের আমির। শরিয়তপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে সাড়ে সাত লাখ টাকা সহ এক জামাত কর্মীকে আটক করা হয়েছে। কুমিল্লার মুরাদনগরে দুই লক্ষ টাকা বিতরণের অভিযোগে জামায়াত ইসলামীর এক নেতাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বেলা ১১টা দিকে উপজেলার সালিয়াকান্দি ইউনিয়নের নেয়ামতকান্দি গ্রামে তাকে আটক করা হয়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বুধবার বেলা ১১টার দিকে আমির হাবিবুর রহমান একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে ছালিয়াকান্দি ইউনিয়নের নিয়ামতকান্দি গ্রামে ঢোকেন। স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে টাকা বিলি করছিলেন। স্থানীয়ার তাকে ধরে ফেলে বেঁধে রাখে। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে। সিরাজগঞ্জ ২ আসনের কামারখন্দ উপজেলার চার জামায়াত নেতা-কর্মীকে ধরে ফেলে বিএনপি। তাদের কাছে ছিল ৭১ হাজার টাকা। বিএনপির অভিযোগ, ওই টাকা ভোট কেনার জন্য বিলি করার মতলব ছিল এই চার জামাত নেতার। যদিও ওই চার নেতা জানিয়েছেন, এই টাকা বিলির জন্য তারা নিয়ে যাননি। ওই টাকা কেন্দ্রের জন্য খরচ করতে দলের তরফে দেওয়া হয়েছিল।
টাকা বিলির অভিযোগ এসেছে ঢাকা ৬ আসন থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে জামায়াত নেতা মো. হাবিবকে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে পেশ করা হলে আদালত তাঁকে দুই দিনের কারাবাসের সাজা দেয়। টাকা বিলির অভিযোগ এসেছে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থেকে। টাকা বিলির অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। টাকা বিলি হয়েছে মঙ্গলবারেও। ওই দিন ৬ নং ওয়ার্ড থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতরা হলেন, মো. এনামূল হক, মো. এমরান এবং গাড়ি চালক। তাদের থেকে উদ্ধার হয়েছে ১০ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা। ধৃতদের দাবি ভোট কেনার জন্য টাকা বিলি উদ্দেশ্য ছিল না। স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. মিজানুল হকের পোলিং এজেন্টদের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। যদিও ধৃতেরা জানাতে পারেনি, কতজন পোলিং এজেন্টের জন্য এই টাকা দল থেকে বরাদ্দ করা হয়।
টাকা বিলির অভিযোগ সব থেকে বেশি উঠেছে জামাতের বিরুদ্ধে। বলা হচ্ছে, যেহেতু জনমত সমীক্ষা দেখা গিয়েছে, তাদের স্থান বিএনপি পরেই, তাই তারা ভোটে টক্কর দিতে টাকা বিলির সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও রাজনৈতিকমহলের একাংশের দাবি, একা জামাত নয়, বিএনপির মতো শক্তিশালী দলের তরফ থেকেও টাকা বিলি করা হয়েছে। কিন্তু তারা যেহেতু রাজনৈতিক শক্তিতে ভারী, তাই তাদের নেতাদের পুলিশ গ্রেফতার করার সাহস দেখায়নি।












Discussion about this post