গোটা দুনিয়া জেনে গিয়েছে তারা নেই। তারা নিষিদ্ধ। ফ্রিজড করা হয়েছে দলের প্রতীক। দলনেত্রী দেশে নেই। দেশে নেই দলের প্রথম সারিরা নেতারা। কিন্তু অথচ তারা না থেকেও প্রবলভাবে রয়ে গিয়েছেন। এটা কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে, সেটা একমাত্র তারাই বুঝতে পারছেন যাদের নখদর্পণে দেশের রাজনীতি। দেশের রাজনীতির নাড়ি যারা দেখতে পারেন। দেশজুড়ে বইছে ভোটের হাওয়া। আর তাঁর থেকেও প্রবলভাবে বইছে তাদের দলের হাওয়া। বইছে এতটা জোড়ে যে হাওয়া অফিসের সব যন্ত্র তার গতিবেগ ধরতে পারছে না।
বলা হচ্ছে আওয়ামী লীগ সম্পর্কে। দলনেত্রী হাসিনা রয়েছেন দিল্লিতে। তাঁর আমলের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জমান খান কামালও দিল্লিতে রয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। কলকাতায় রয়েছে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা। না থেকেও তারা ভোটের ময়দানে অদৃশ্যভাবে রয়ে গিয়েছে। দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ভোটের হার যা ছিল, তা দেখে সহজেই অনুমান করা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগের একটা বড়ো অংশ ভোট দেয়নি। দলনেত্রীর স্লোগান “নো বোট, নো ভোট”কেই বেছে নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বাংলাদেশে শুরু হয় ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন। ভোট হচ্ছে ২৯৯ টি আসনে। কয়েকদিন আগে শেরপুর ৩ আসনের এক প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় ওই কেন্দ্রে ভোট স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। ভোটে অংশ নিয়েছে ৫০টি রাজনৈতিক দল। স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে মোট ১৭৫৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ বছর মোট ভোটকেন্দ্র ৪২ হাজারের বেশি। দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ৩২ হাজার, সাতশো ৮৯টি কেন্দ্র ভোট পডে়ছে মাত্র ৩২.৮৮ শতাংশ। ভোটে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ সাক্ষী রইল এক অভিনব প্রতিবাদের। ব্যালট পেপারে তিনি লেখেন ‘নৌকা ছাড়া কিসের ভোট! জামায়াত রাজাকার, বিএনপি চোর! ’ মুহূর্তের মধ্যে সেটা অনেকে ক্যামেরাবন্দি করেন। পরে আওয়ামী লীগ তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তা পোস্ট করে দেয়। এদিন যে সব কেন্দ্র নজরে ছিল, তার মধ্যে গোপালগঞ্জ অন্যতম। এটি হাসিনার দূর্গ বলেই পরিচিত। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেই। লড়ছেন না দলনেত্রী। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জন্মস্থান। এখানেই রয়েছে তাঁর সমাধিস্থল। হাসিনা গোপালগঞ্জ – ৩ আসন থেকে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেন।
ভোটের হার কম হওয়ার অন্যতম কারণ বাংলাদেশজুড়ে তৈরি হওয়া এক নৈরাজ্য। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলছে তুমুল নৈরাজ্য। হিংসা-হানাহানির ঘটনা কম ঘটেনি। ভোট দিতে গেলে প্রাণ যাবে এই আশঙ্কায় অনেকে ভোট দিতে যাননি। বিশেষ করে হিন্দুরা। যদিও নির্বাচন কমিশন থেকে এই সংক্রান্ত কোনও নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়নি। তবে অনেকেই বলছেন, হাসিনা আমলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো ছিল। জাতীয় পার্টির নেতা তথা প্রাক্তন সেনাশাসক হুসেন মহম্মদ এরশাদের ভাই জিএম কাদের বলেন, “হাসিনা আমলে পরিস্থিতি অনেক ভালো ছিল। হাসিনা উৎখাত হওয়ার পর দেশে নৈরাজ্য অনেক বেড়ে গিয়েছে। ”
জুলাই আন্দোলনের অন্যতম নেত্রী উমানা ফতেমা জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে রাজনীতিতে মহিলাদের অংশগ্রহণ অনেকটাই কমে গিয়েছে। পরিবর্তে উত্থান ঘটেছে ধর্মকেন্দ্রি রাজনীতির। এই রাজনীতি মহিলাদের অধিকার খর্ব করতে বদ্ধপরিকর। ত্রয়োদশ নির্বাচনে এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। সেনাপ্রধান ওয়াকার এদিনও দেশবাসীকে নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ তিনি তাঁর নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করেন। তাঁর কেন্দ্র ছিল রাজধানীর আদমজি ক্যান্টনমেন্ট কলেজ। ভোট দিয়ে পরে তিনি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। সেনাপ্রধান বলেন, “সবাইকে অনুরোধ করব, সম্মানিত প্রত্যেক ভোটারের কাছে আমার অনুরোধ আপনারা নির্ভয়ে পোলিং স্টেশনে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন। ” তাঁর সেই অনুরোধ কাজেই এল না।
বাইট – সেনাপ্রধান ওয়াকার
02.37 – 03.31
https://www.youtube.com/watch?v=PJGlc1iQkTc
ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে গণনা। রাতের মধ্যে আভাস মিলতে পারে, আগামীদিনে কারা বাংলাদেশ শাসন করবে। জানা যাবে ইউনূসে ভাগ্যে কী আছে?












Discussion about this post