ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসন পেয়েছে। এটা নিঃসন্দেহে ভূমিধস জয়, তা নিয়ে কোনও মহলেই কোনও সন্দেহ নেই। বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহল মনে করছে, বিএনপি আরও বেশি সংখ্যক আসনে জয়ী হতে পারত। তারা অতিক্রম করতে পারতো ২৫০। কিন্তু সেটা হয়নি। তার কারণ হিসেবে উঠে এসেছে তাদের বিদ্রোহী প্রার্থী। দলের যখন টিকিট বিলি শুরু হয়, তখন থেকে দলের একাংশের মধ্যে এই আসন বন্টন নিয়ে ক্ষোভ ছিল। ঢাকা ১৪ আসনের কথা ধরা যাক। কেন্দ্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জামাত ওই কেন্দ্রে দাঁড় করায় মীর আহমাদ বিন কাসেমকে। তাঁর প্রতীক ছিল দাড়িপাল্লা। ওই কেন্দ্রে বিএনপি দাঁড় করায় সানজিদা ইসলামকে। জামাতেত মীর আহমাদ বিন কাসেম পেয়েছে মোট ১ লাখ ১ হাজার ১১৩ ভোট আর বিএনপির সানজিদা ইসলাম পেয়েছেন বিএনপির সানজিদা ইসলাম পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৩২৩ ভোট। শুক্রবার ভোর চারটায় ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার (রিটার্নিং কর্মকর্তা) শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এ ফলাফল ঘোষণা করেন। শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী জানান, ঢাকা-১৪ আসনে পোস্টাল ভোটসহ ১৭৪টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হয়। সব মিলিয়ে এই আসনে মীর আহমাদ বিন কাসেম ১৭ হাজার ৭৯০ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। জামাত প্রার্থীর জয়ের পিছনে উঠে আসছে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর ভোটকাটাকুটি। এবারের ভোটে বিএনপি সাতজন বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করেছিল।
রাজনৈতিকমহলের একাংশ বলছে, বিএনপি আরও বেশি আসন পেতে পারত, যদি তারা বিদ্রোহী প্রার্থীদের বুঝিয়ে তাদের দলে নিয়ে আসতো। দ্বিতীয় কারণ হল বিএনপি যদি আওয়ামী লীগকে খেপিয়ে না তুলত। তারা যদি আওয়ামী লীগের ভোটারদের আস্বস্ত করতে পারত, তাহলে আওয়ামী লীগের ভোট তাদের অনুকূলে চলেত যেত। আওয়ামী লীগের ভোটারদের আস্বস্ত করতে পারেনি বলে, তাদের ২০৯টি আসন নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। আওয়ামী লীগের ভোটারদের বুথে টানতে পারলে বিএনপির ব্যবধান আরও বেড়ে যেত বলে মনে করছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহল। তাদের ২৭০ থেকে ২৮০টি আসনে জয়ী হতে পারত। বাংলাদেশে কেউ কোনওদিন সেটা কল্পনা করতে পারেনি। বিদ্রোহী যে সাত প্রার্থী জয়ী হয়েছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হল রুহিন ফারহানা।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট হয়। শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মারা যাওয়ায় সেখানে ভোট বাতিল করা হয়। এই নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। এবারের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রায় দুই দশক পর বিএনপি সরকার গঠন করছে। বেসরকারিভাবে ২৯৭টি আসনের ফলাফল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বিএনপি ও জোটভুক্ত দলগুলো পেয়েছে ২১২ আসন। আর জামায়াতে ইসলামী ও মিত্রদলগুলো পেয়েছে ৭৭টি আসন। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আসন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন সাতটি আসন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর আংশিক) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা (হাঁস প্রতীক) বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৯৫ ভোট। টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী লুৎফর রহমান খান আজাদ। তিনি বিএনপির সাবেক নেতা, সাবেক প্রতিমন্ত্রী। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭ হাজার ৯০১ ভোট। কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান। তিনি পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৬০৪ ভোট। তিনি ২০১৮ সালে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৪৫০ ভোট। চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র আব্দুল হান্নান বিজয়ী হয়েছেন। উপজেলা বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হান্নান পেয়েছেন ৭৪ হাজার ১৭৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মো. হারুনুর রশিদ। তিনি পেয়েছেন ৬৯ হাজার ১৫৫। কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল আলম ওরফে শাওন কলস প্রতীকে পেয়েছেন ৯১ হাজার ৬৯০ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রার্থী বিএনপির প্রার্থী রেদোয়ান আহমদ পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৫০৯ ভোট। ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া) আসনে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর। বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, তিনি ১ লাখ ৭ হাজার ২৪১ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭৩৬ ভোট। দিনাজপুর-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এ জেড এম রেজওয়ানুল হক বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ৪৮৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আব্দুল আহাদ। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজার ১৯৫ ভোট। এই কেন্দ্রে বিএনপি দাঁড় করায় এ কে এম কামারুজ্জামানকে












Discussion about this post