তারেক রহমান এখনও প্রধানমন্ত্রী পদে শপথগ্রহণ করেননি। বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আজ মঙ্গলবার বিকাল চারটায় শপথ নেবেন বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশে এই মুহূর্তে জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার না থাকায় শপথ বাক্য পাঠ করাবেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। তারেকের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শুভেচ্ছা বার্তা নিয়ে যাচ্ছেন ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। তার সঙ্গেই যাচ্ছেন বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি। তিনি তারেক রহমানের হাতে ভারত সফরে আসার জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদির আমন্ত্রণ পত্র তুলে দেবেন। ভারত, পাকিস্তান-সহ ১৩টি দেশের রাষ্ট্র প্রতিনিধিরা তারিখের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে চলেছেন। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হবে। শপথ বাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বারোশো অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার তারেক রহমানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশও একই পরিবারের তিনজনের রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার নজির গড়তে চলেছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ অগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে নৃশংস হত্যার চার মাসের মাথায় রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান। তিনি পরবর্তীকালে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮১ সালের মে মাসে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দলীয় নেতাদের বিবাদ মেটাতে চট্টগ্রামে গেলে বিক্ষুব্ধ সেনা সদস্যরা সেখানকার সার্কিট হাউসে ঢুকে প্রেসিডেন্টকে হত্যা করে। স্বামীর অকাল মৃত্যুতে দলের হাল ধরেন খালেদা জিয়া তিনি তিন দফায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। সদ্যপ্রয়াত খালেদা ছিলেন বিএনপির টানা ৪৫ বছরের চেয়ারপারসন। গত ৩০ ডিসেম্বর তিনি প্রয়াত হওয়ার পর দলের চেয়ারম্যান হন তারেক রহমান। মঙ্গলবার বিকালে বাবা ও মায়ের পর এবার পুত্র তারেক হতে চলেছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান।
তাঁর আগে হাসিনা পুত্র জয় একটি বিতর্ক তুলে দিলেন। সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছে। বিবিসিকে বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জয় বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির কোনো আসন না পাওয়া এবং জামায়াতের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেছেন, “বৃহত্তম ও পুরনো একটি দলকে নির্বাচনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রগতিশীল দলগুলোকে নিষিদ্ধ না করলেও তাদের কোনো সভা সমাবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তাদের অনেক নেতাকে কারাগারে রাখা হয়েছে। তৃতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল কোনো আসন পায়নি এটা অবিশ্বাস্য”।
নির্বাচনে জামায়াতের ইসলামী জোটের ফল নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেছেন, “জামায়াত যেখানে সাধারণত ৫-১০টার বেশি আসন জিতে না সেখানে তারা প্রায় ৮০টি আসন পেয়েছে, সুতরাং এটা প্রতিযোগিতাপূর্ণ নির্বাচন ছিল না”। আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনতে তিনি বিএনপির সাথে কথা বলতে রাজি কি না এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, “আমরা সবার সাথে কথা বলতে প্রস্তুত আছি। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি হলো যুক্তরাজ্যে টরি ও লেবার পার্টির মতো যেখানে এই দুই দল ছাড়া রাজনীতি কল্পনা করা যায় না”।
জয় আরও বলেন, “ বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ সব সময় একটি ফ্যাক্টর হিসেবে থাকবে। আমাদের ৪০ শতাংশ ভোট আছে, জাতীয় পার্টির রয়েছে আরও ৫ থেকে ১০ শতাংশ, সুতরাং তাদেরকে সারা জীবন এড়িয়ে যাওয়া যাবে না”।
অর্থাৎ সজীব ওয়াজেদ জয় একটা সিগন্যাল দিলেন যে বিএনপির সঙ্গে তারা কথা বলতে প্রস্তুত। বাংলাদেশে নির্বাচনের পর থেকে গুঞ্জন ছিল বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে জাতীয় রাজনীতিতে আওয়ামী লীগকে ফেরার রাস্তা খুলে দেবে। শাসক দল আরও একটি বার্তা দিয়েছে। সেটা থেকে বোঝা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে তারা কুস্তির বদলে দোস্তি চায়। দ্য হিন্দুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দলের প্রবীণ নেতা তথা বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, আমরা মনে করি হাসিনা সত্যিই গুরুতর ভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন। তাঁকে শাস্তি দেওয়ার দাবি তুলেছে জনতা। এবং, আমাদের মতে, তাঁকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া উচিত ভারতের। কিন্তু শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর না-করার বিষয়টি বাণিজ্য-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৃহত্তর সম্পর্ক গড়ে তোলার পথে কোনও বাধা হবে না। আমরা আরও ভাল সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই।”












Discussion about this post