আর কয়েক ঘণ্টা বাদে প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নেবেন তারেক রহমান। এখনও পর্যন্ত যা খবর, তাতে তারেক রহমান মন্ত্রিসভা ছোট রাখার পক্ষপাতি। ভারতের হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির থাকার কথা ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে তাঁর সফর বাতিল করতে হয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো ভারত সফরে আসছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি। এই নির্বাচনী ফলাফল থেকে স্পষ্ট যে ইউনূস জমানা শেষ। পদ্মাপারে শুরু হচ্ছে তারেক যুগ। প্রশ্ন উঠছে, বিদায়ী সরকার প্রধান ইউনূস এবং তাঁর উপদেষ্টাদের কী পরিণতি হবে? পদ্মাপারে গুঞ্জন শুরু হয়েছে যে ইউনূস এবং তাঁর বিদায়ী উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা রুজু করে বিচার করা দরকার। সেটা হতে পারে অনুমান করে, অনেক উপদেষ্টা আগেই দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের আইসিটি ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ক সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যবের পদত্যাগ এবং দেশ ছাড়ার বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে হৈচৈ শুরু হয়েছে। নির্বাচনের ফল আসার ঠিক পরেই তিনি দেশ ছাড়েন বলে খবর। একে অন্তর্বর্তী সরকারে থাকা প্রথম সেফ এক্সিট বলেও কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন। রবিবার রাত একটার দিকে নিজের দেশ ছাড়া নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন মি. তৈয়্যব। সেখানে তিনি লেখেন গত সপ্তাহে কর্মক্ষেত্র থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়েছেন। তবে দেশে ফেরার জন্য তিনি রিটার্ন টিকিট কেটে রেখেছেন বলেও ফেসবুকে নিজের স্ট্যাটাসে তার উল্লেখ করেছেন। তার অধীনে থাকা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে নানা ধরনের দুর্নীতি এবং অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সে বিষয়ে কোনও ফয়সালা না করে হুট করে তাঁর দেশ ছাড়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যবের দেশ ছাড়াকে “ স্বাভাবিক” বলে মন্তব্য করেন দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ – টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
ইউনূস শুধু বাংলাদেশে রাজত্বই করেননি, একাধিক দুর্নীতি করেছেন। দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন বিদায়ী সরকারের একাধিক উপদেষ্টা। বাংলাদেশে এখন জোরালো দাবি উঠেছে, বিদায়ী সরকারের প্রধান ইউনূস এবং তাঁর উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা রুজুর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন জানিয়েছেন, “দুর্নীতির কথা যদি বলাই হোক, তাহলে দেখা যাবে বাংলাদেশে শাশন ক্ষমতায় যারাই ছিল, তারা কম-বেশি নানা দুর্নীতিতে জড়িয়ে গিয়েছে। এমনকী সেনাশাসনেও দুর্নীতি হয়েছে। ইউনুর সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ খুব স্বাভাবিক ঘটনা।” ৫ অগাস্টের পর জাতি ইউনূসকে একটা দায়িত্ব দিয়েছিলেন। দেশ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার দায়িত্ব। বিদায়ী সরকার সেই দায়িত্ব পালন করার পরিবর্তে পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতিতে জড়িয়ে যাওয়ার পাশাপাশি এমন কিছু পদক্ষেপ তারা করেছে, যা রাষ্ট্রদ্রোহিতার সামিল। খলিলুর রহমানের কথাই ধরা যাক। তিনি বাংলাদেশের নাগরিক নন। অথচ, তাকে প্রতিরক্ষামন্ত্রকের মতন একটি স্পর্শকাতর মন্ত্রকের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়। তাছাড়া ইউনূসের যে কোর কমিটি রয়েছে, সেই কোর কমিটির অধিকাংশই ভিনদেশি। অধ্যাক হাফিজুর রহমানের মতে, বিদায়ী সরকারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের করা উচিত। কারণ, তারা সংবিধান লঙ্ঘন করেছে। সব চেয়ে বড়ো কথা, তদারকি সরকার প্রধানের দায়িত্ব নেন ২০২৪-য়ের ৮ অগাস্ট। তিনি কিন্তু আদালতে দোষী সাব্যস্ত এক দণ্ডিত অপরাধী। আর ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর ইউনূস তাঁর বিরুদ্ধে থাকা সব মামলা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু সেগুলি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে হয়নি। সংবিধান অনুসারে, তদারকি সরকারের ক্ষমতা খুবই সীমিত। আর ক্ষমতায় থাকার দৌলতে ইউনূস সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করেছেন।
বাংলাদেশে রাজনৈতিক মহলের একাংশ এও বলছে, ইউনূসের জন্যই আজ জামাতের উত্থান। মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী একটি শক্তির বিরুদ্ধে বিদায়ী সরকার কোনও ব্যবস্থাই নেয়। উলটে আওয়ামী লীগের মতো একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণার ব্যবস্থা করেছেন।












Discussion about this post