জাতীয় নির্বাচন হয়ে গিয়েছে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হয়েছেন। গঠিত হয়েছে মন্ত্রিসভা। নতুন সাংসদরা শপথ নিয়েছেন। যাত্রা শুরু গণতন্ত্রের।
পদ্মাপারে আর একটি ভোট রয়েছে। এই ভোটের দিকে তাকিয়ে রয়েছে বাংলাদেশের রাজনৈতিকমহল। বর্তমান রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর মেয়াদ আছে ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত। সংবিধানের ৫০ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। তাই ওই পদে থাকাকালীন দ্বিতীয় কাউকে রাষ্ট্রপতি করা যায় না। সংবিধানেও তাঁর কোনও সংস্থান নেই। দুটি উপায় রয়েছে। প্রথমটি মেয়াদ শেষের আগে স্বেচ্ছায় ওই পদ থেকে সরে যাওয়া। আর দ্বিতীয়টি হল তাঁকে ইমপিচ করা। বাংলাদেশের রাজনৈতিকমহলে এখন থেকেই গুঞ্জন শুরু হয়েছে যে বিএনপি যেহেতু ক্ষমতায় এসেছে, তাই রাষ্ট্রপতি পদে চুপ্পুর বেশিদিন থাকা সম্ভব হবে না। এই প্রসঙ্গে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারের বিষয়টি উঠে আসছে। সেই সাক্ষাৎকারে তাঁকে বলতে শোনা যায়, নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারে তিনি অপমানিত বোধ করছেন। বার্তা সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বলেন, “ আমি বিদায় নিতে আগ্রহী। আমি এখান থেকে চলে যাই। নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আমাকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব রয়েছে বলেই আমি এই অবস্থানে আছি। ” সাহাবুদ্দিন এটাও বলেছিলেন, নতুন সরকার এলে তিনি বিদায় নেবেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কোন প্রক্রিয়ার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন? বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হবেন রাষ্ট্রপতি। সেটা হবে যদি রাষ্ট্রপতি পদের একাধিক দাবিদার তৈরি হল। আর যদি রাষ্ট্রপতি পদের দাবিদার একজন হলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবে।
এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে একটা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জামাত এবং এনসিপির নির্বাচিত সদস্যরা দুটি শপথ নিয়েছেন। একটি শপথ সংবিধান অনুসারে, দ্বিতীয়টি জুলাই সনদকে কেন্দ্র করে। বিএনপি নির্বাচিত সাংসদরা সংবিধানকে প্রাধান্য দিয়ে শপথবাক্য পাঠ করেন। জুলাই সনদ অনুযায়ী, বর্তমান সংসদ হবে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট। দুই কক্ষের সংদস্যদের মতামত বা ভোটের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। আর সেটা করতে গেলে সংবিধান সংস্কারের প্রয়োজন। এই নিয়ে শাসক দলের সঙ্গে বিরোধী জামাত এবং বাকিদের মধ্যে শুরু হয়েছে বিবাদ। বিএনপির বক্তব্য সংবিধান সংস্কার করা যেতেই পারে। কিন্তু সেটা জুলাই সনদ অনুযায়ী হবে না। আর সংসদকে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট করতে হলে সময় লেগে যেতে পারে ছয় থেকে আট মাস।
বর্তমান সংসদীয় ব্যবস্থায় দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে এনসিপি বা জামাতের অবস্থান কী হতে পারে? জামাতের বলয়ে থাকা এনসিপি নেতারা এবং জামাত নেতারা গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই রাষ্ট্রপতির অপসারণ দাবি করে এসেছিল। তারা বঙ্গভবন ঘেরাও কর্মসূচির ডাকও দিয়েছিল। সেই সময় বঙ্গভবনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সেনা সদস্যদের সঙ্গে দুই দলের নেতারা হাতাহাতিতেও জডি়য়ে যান। কয়েকজন সেনাকর্মী আহতও হয়েছিলেন। একমাত্র বিএনপি বলেছিল এইভাবে রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দিলে বাংলাদেশে নতুন করে তৈরি হবে সাংবিধানিক জটিলতা। চিত্রটা যদি এমন হয় যে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু মেয়াদ শেষের আগেই সরে গেলেন আর বিএনপি সরকার নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করল সেই সময় জামাত বা এনসিপির বিরোধিতা করার কোনও সুযোগ থাকবে?
এদিকে, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন কবে থেকে শুরু হবে, সে ব্যাপারে সরকারের তরফে কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে রাষ্ট্রপতি পদে বড়ো কোনও পরিবর্তনের সুযোগ থাকছে না। নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। এ ক্ষেত্রে অভিশংসনের প্রয়োজন হবে না। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার এখনও নির্বাচিত না হওয়ায় বিষয়টি প্রক্রিয়াগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এদিকে, আবার শোনা যাচ্ছে ইউনুস রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। আর সেই খবরে বাংলাদেশে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।












Discussion about this post