মাস্টার স্ট্রোক। মাস্টার স্ট্রোক প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সুষ্পষ্ট বিজয়ের জন্য দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার সকালে সাড়ে ন’টা তিনি তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তারেককে অভিনন্দন জানান। তিনি তাঁর পোস্টে তারেক রহমান ও বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজকে ট্যাগ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদিই প্রথম কোনও দেশের রাষ্ট্রপ্রধান যিনি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। ফেসবুক পেজে মোদি লেখেন, বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচনে বিএনপিকে সুস্পষ্ট জয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনি তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন। তারেকের উদ্দেশ্যে মোদি লেখেন, ‘ এই জয়ে আপনার নেতৃত্বের প্রতি বাংলাদেশের জনগণের আস্থার পরিচায়ক। ’
ভারত একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে বলে পোস্টে উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “ আমাদের বহুমুখী সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে এবং আমাদের অভিন্ন উন্নয়নের লক্ষ্য এগিয়ে নিয়ে যেতে আমি আপনার সঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা রাখছি। ” পোস্টে নমো বলেন, “ গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমুলক বাংলাদেশের পক্ষে ভারত তার সমর্থন অব্যাহত রাখবে। ”
অন্য দিকে, ‘ঐতিহাসিক বিজয়ে’র জন্য তারেককে ধন্যবাদ জানিয়েছে আমেরিকাও। শুক্রবার সকালে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের তরফ থেকে সমাজমাধ্যমে বাংলা এবং ইংরেজিতে পোস্ট করা হয়। সেখানে লেখা হয়েছে, “একটি সফল নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন। বিএনপি এবং তারেক রহমানকে তাদের ঐতিহাসিক বিজয়ের শুভেচ্ছা।” তারেকের সঙ্গে কাজ করার বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন দূতাবাসের তরফে করা পোস্টে লেখা হয়েছে, “আমাদের দুই দেশ (আমেরিকা এবং বাংলাদেশ)-এর সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার অভিন্ন লক্ষ্য বাস্তবায়নের আপনাদের কাজ করার জন্য যুক্ত রাষ্ট্র আগ্রহী।
বিএনপি জমানায় ভারতের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক হবে বাংলাদেশের, সে ব্যাপারে তারেক রহমানের দুই উপদেষ্টা জিয়াউদ্দিন হায়দার ও হুমায়ূন কবীর এবং বিএনপির প্রবীণ নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁদের মতামত দিয়েছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। তাঁকে জয়ের অভিনন্দন জানিয়েছেন। এই আলাপচারিতাকে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন,’এই উদ্যোগ দুই দেশের মধ্যে আলোচনার পথ প্রশস্ত করার উত্তম সুযোগ’। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফর। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতের শোকবার্তা পাঠানো। দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতিতে ইতিবাচক বার্তা বলে মনে করেন জিয়াউদ্দিন।
নতুন বাংলাদেশ সরকারের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির কথাও তুলে ধরেন জিয়াউদ্দিন হায়দার। তাঁর মতে, সরকারের অগ্রাধিকার হবে দেশের উন্নয়ন এবং জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং খাদ্য নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। এর পাশাপাশি অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের নীতি প্রণয়ন করবে সরকার।
এই অবস্থার উত্তরণ ঘটেছে। ভারতের অন্যতম একটি প্রথম শ্রেণির ইংরেজি দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থে যেসব প্রকল্প রয়েছে, সেগুলো দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে এবং ভারতের সঙ্গে উন্নয়ন অংশীদারত্ব আরও জোরদার করা হবে। বৃহৎ পরিসরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে, তা কোনো একক ইস্যুতে ‘আটকে’ থাকা উচিত নয় উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি যে শেখ হাসিনা সত্যিই মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন করেছেন। তাঁকে শাস্তি দেওয়ার বিষয়ে জনমানুষের দাবি রয়েছে। আর আমরা মনে করি, ভারত তাঁকে আমাদের হাতে তুলে দেবে। কিন্তু শেখ হাসিনাকে যদি বাংলাদেশের হাতে তুলে না দেওয়া হয়, তাহলে তা বাণিজ্যিক সম্পর্কসহ বৃহৎ সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কোনো বাধা হবে না। এমনকি আমরা আরও ভালো সম্পর্ক গড়তে চাই।’












Discussion about this post