“ক্ষীণ দেহ, খর্বকায় মুণ্ড তাহে ভারী, যশোরের কই যেন নরমূর্তিধারী”।
এটি সুকুমার রায়ে “পাগলাদাশু ” রম্যরচনা থেকে ধার করা। যার সম্পর্কে বলতে গিয়ে পাগলা দাশুর প্রসঙ্গ অবতারণ, তাঁর দেহ মোটেই ক্ষীণ নয়। চেহারায় বেশ দম আছে। দাশুর সঙ্গে তাঁর মিল সে ছিল যশোরের বাসিন্দা। মানে পদ্মাপার। আর যাকে নিয়ে এই প্রতিবেদন তিনি পদ্মাপারবাসী। নারায়ণ স্যানালের ভাষায় “আবার সে এসেছে ফিরিয়া।”
তারেক রহমান কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন। তাঁক ক্যাবিনেটে জায়গায় হয়েছে খলিলুর রহমানের। সরকার গঠনের কয়েকদিনের মধ্যে উত্তরপাড়া আর ২৮/১, নয়া পল্টনের মধ্যে শুরু হয়েছে দড়ি টানাটানি খেলা। এই দড়ি টানাটানি আসলে ক্ষমতাকে কেন্দ্র করে। এই দড়ির এক প্রান্তে খলিলুর রহমান আর অপর প্রান্তে সেনাপ্রধান ওয়াকার। ভারতীয় পত্রিকা নর্থ ইস্ট নিউজ তাদের নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেই প্রতিবেদন অনুসারে খলিলুর রহমানের সঙ্গে সেনাপ্রধান ওয়াকারের মধ্যে অতীতে যে তিক্ততা ছিল, সেই তিক্ততা মাত্রাতিরিক্তভাবে বৃদ্ধি পাবে। এই সংঘাত এক নতুনরূপে আত্মপ্রকাশ করবে। এই তিক্ততা বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে, সামরিক বাহিনী যেমন প্রভাব ফেলবে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতেও বড়ো ধরনের প্রভাব ফেলবে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও এখন বেশ ঘোরাঘুরি করছে। নিউজ বর্তমানে সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেননি। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে যাকে দেখা গিয়েছে তিনি খলিলুর রহমান। যার উদ্দেশে তিনি কিছু কথা বলছে, তিনি হলে খলিলুর রহমান। ভিডিওতে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলছেন, “ আপনার সরকারে একজন বিদেশি নাগরিককে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা করেছেন। আপনার কি সেই আক্কেলজ্ঞান নাই? একজন বিদেশি নাগরিকের কাছে এই দেশের সেনাবাহিনী নিরাপত্তা সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রদান করবে কীভাবে ভাবলেন। ”
খলিলুর রহমান তারেকের হেঁসেল ঘরে ঢুকে গিয়েছেন। পেয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক। অথচ এই খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে ডিপ স্টেটের তকমা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেনার সঙ্গে এই দ্বন্দ্বে তারেক রহমানের ভূমিকা কী হতে চলেছে? শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে। অন্তর্বর্তী সরকারে আমলে খলিলুর ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। সেই সময় তিনি মায়ানমারের রাখাইনে একটি মানবিক করিডোর প্রস্তাব দেন। কিন্তু এখানে বাধে বিরোধ। সেনাপ্রধান ওয়াকার এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেন। নর্থ ইস্ট নিউজের প্রতিবেদন অনুসারে, এই বিষয়ে সেনাপ্রধান ওয়াকার তার ক্ষোভ গোপন রাখেননি। তিনি বলেছিলেন, “কোনও রক্তক্ষয়ী করিডোর হতে দেওয়া হবে না।”সেনাবাহিনী মনে করেছিল এই করিডোর বাংলাদেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে। এই বিরোধ একসময় এতটাই ব্যক্তিগত পর্যায়ে চলে যায় যে জেনারেল জামান খলিলুর রহমানের ঢাকা সেনানিবাসে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। একজন নিরাপত্তা উপদেষ্টার জন্য সেনানিবাসের দরজা বন্ধ করে দেওয়াটা যে চরম অপমানের তা আর নতুন করে বলার দরকার হয় না। সেই নিষেধাজ্ঞা কিন্তু আজও বহাল রয়েছে বলে সূত্রের খবর। অর্থাৎ, সেনাপ্রধান ওয়াকার অতীতের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা এখন সেদিনের মতই টাটকা। আর এখন সেই ব্যক্তি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
নির্বাচনের পর যখন মন্ত্রীপরিষদ গঠনের নানা আলোচনা চলছিল, সেই সময় কিন্তু শোনা যায় খলিলুর রহমানের নাম শোনা যায়নি। সূত্রের খবর, প্রাথমিকভাবে মন্ত্রীদের যে তালিকা তৈরি হয়েছিল, সেখানে নাম ছিল না খলিলুরের। বিএনপির সিনিয়র নেতারাও জানতেন না যে খলিলুরকে মন্ত্রী করা হচ্ছে। শেষ মুহূর্তে টেকনোক্র্যাট কোটায় তাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়। এটা অনেকের কাছেই বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো ছিল। আর নারায়ণ স্যান্যালের কথায়, আবার সে এসেছে ফিরিয়া। নর্থইস্ট নিউজ দাবি করছে এটা আসলে পর্দার আডা়লে বিশাল একটি ডিল।












Discussion about this post