অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পতন ঘটেছে। মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের বিদায় ঘটেছে সরকার থেকে। প্রশ্ন উঠছে, ইউনূসের সরকার কি করেছে এই ১৬ মাসে? অনেকে বলছেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে। এইবার এই বিষয়গুলো উঠে আসবে। তবে কি কি কুকীর্তি করেছে ইউনূস সরকার, সেগুলো একমাত্র বের করতে পারতেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। আর করলেনও তাই। একটি সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বেশ কিছু মন্তব্য করেছেন। মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের সমস্ত অসাংবিধানিক কাজের ফিরিস্তি ফাঁস করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মুহাম্মদ ইউনূস সরকার চলেছে সবটাই অসাংবিধানিক পদ্ধতিতে। তারা সংবিধান মানতে চায়নি। এবং অসাংবিধানিকভাবে তারা রাষ্ট্রপতিকে উৎখাত করার চেষ্টা করেছে বারবার। এমনকি তিনি এটাও বলেন, যে আমার জায়গায় অন্য কেউ থাকলে, শক্তভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারেন কিনা, আমার সন্দেহ রয়েছে। অর্থাৎ মুহাম্মদ ইউনূসের কুকীর্তি ফাঁস করে দিলেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু।
রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পু একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত সংবাদমাধ্যমে। সেখানে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কেমন আছেন তিনি? তিনি উত্তর দেন, সপ্তাহখানেক ধরে ভালো আছি। অর্থাৎ তার আগের সময়টা তিনি খারাপ ছিলেন। মাহমুদ ইউনূসের আমলে তিনি যে ভালো ছিলেন না, সেটাই বলতে চাইলেন। পাশাপাশি তিনি তিন বাহিনীর প্রধান যথেষ্ট মোকাবিলা করেছে বলেও জানান তিনি। তাঁরা নাকি বারবার বলেছেন, স্যার আমরা কোনওভাবেই অসাংবিধানিক কিছু হতে দেব না। রাষ্ট্রপতিকে উৎখাত করার যে বিষয়গুলি সামনে এসেছে, সেখানে যে বিএনপি বাধ সেধেছে তারও উল্লেখ করেন তিনি। বিএনপি অসাংবিধানিক কিছু হতে দেয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়াও আর একটি গুরুত্বপুর্ণ কথা উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, একজন উপদেষ্টা, একজন সাবেক বিচারপতি, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তাকে আমার জায়গায় বসার প্ল্যান চূড়ান…
এমনকি রাষ্ট্রপতিকে দিতে শত শত অধ্যাদেশ জারি করানো হয়েছিল, সেগুলি কোনওটাই তার মতামত নেওয়া হয়নি। তাঁর মতামতের বিপক্ষে গিয়ে এই কাজটি করা হয়েছে। এমনকি তাকে যে চাপ দেওয়া হয়েছিল, সেগুলিতে কখনও নত স্বীকার করেননি, সেটাও বলেছেন তিনি।
এখন প্রশ্ন উঠছে, রাষ্ট্রপতি যখন খোলাখুলি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন, তখন কি মুহাম্মদ ইউনূস সহ তার উপদেষ্টারা আইনের মুখোমুখি হবেন? আদালত পর্যন্ত কি গড়াবে? অনেকেই বলছেন, এখন বোঝা যাচ্ছে, রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে যে সমস্ত বিষয় উঠে এসেছিল গত ১৬ মাস ধরে, সেগুলি সত্যি। রাষ্ট্রপতিকে তাঁর ভবনে আটকে রাখা, প্রেস উইং বন্ধ করে দেওয়া, মাঝে মধ্যেই তাঁর সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট হয়ে যাওয়া, সবটাই সত্যি ঘটেছে। কিন্তু তখন স্বাভাবিকভাবেই মুখ খোলেননি তিনি। কিন্তু প্রশ্ন উঠে যায়, মুহাম্মদ ইউনূসের শাসনামল শেষ হতেই বিএপির উপর আস্থা রাখছেন সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। তবে রাকে রহমানকে যেভাবে দেখা যাচ্ছে, তাতে কিন্তু রাষ্ট্রপতির প্রতি বিশেষ আনুগত্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। অন্তত ২১ ফেব্রুয়ারি দেখা গেল না। রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর যে শুভেচ্ছা বিনিময় দেখে এসেছিল এতকাল বাংলাদেশবাসী, সেটা দেখা গেল না। বরং দেখা গেল, মুহাম্মদ ইউনূস গত বছর যে রেওযাজ করে গিয়েছিলেন, সেটাই পালন করলে তারেক। এখন এটাও শোনা যাচ্ছে, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হতে পারেন মুহাম্মদ ইউনূস। এখন দেখার, যে তারেকের উপর, যে বিএনপির উপর এত ভরসা করছেন, সাহাবুদ্দিন চুপ্পু, সেটা আদে রাখতে পারে কিনা তারা।












Discussion about this post