তিনি সংকটের সময় দেশের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। তিনি সমস্ত সমালোচনা দূরে সরিয়ে রেখে, জনগণকে ভালো রাখার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। আপাত দৃষ্টিতে অন্তত তাই মনে হয়েছিল। অনেক প্রশংসাও পেয়েছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশের একমাত্র নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ নিজের আখের গোছাতে যে এই দায়িত্ব নিয়েছিলেন, সেটা এখন দিনের আলোর মত পরিস্কার। এমনকি তিনি যে বহিঃদেশের জন্য ক্যাডার হয়ে কাজ করেছিলেন, সেটাও এখন ওপেন সিক্রেট। মার্কিন ডিম স্টেটের তাবেদারি করেছিলেন নোবেল জয়ী মুহাম্মদ ইউনূস। প্রশ্ন উঠছে, ১৬ মাসে করে যাওয়া তাঁর কর্মকাণ্ড নিয়ে। তিনি হলেন, প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। গোটা বিশ্বের মানুষ তাঁকে এক নামে চেনেন। কিন্তু নিজ দেশে ক্ষমতায় এসে দরিদ্র বাড়িয়ে বিদায় নিলেন তিনি। তাঁর বিদায়ের আগে আমেরিকার ‘গোলামীর’ চুক্তি এখন সামনে আসছে। তবে কি তাঁর দেশ বিক্রির ছক ছিল?
ক্ষমতায় এসে একাধিক বিতর্কিত চুক্তি করেছেন মুহাম্মদ ইউনূস। কিন্তু শেষ মুহূর্তে করা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিটি সব বিতর্ককে ছাপিয়ে গিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা হয়, এমন চুক্তি কেন তিনি করতে গেলেন? চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদশ কিনবে, ১৪ টি বোয়িং বিমান। ১৫ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করবে, ১৫০০ কোটি ডলারের জ্বালানি। প্রতি বছর কৃষি পণ্য আমদানি হবে সাড়ে তিনশো কোটি ডলারের। চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ৬ হাজার ৭১০ টি পণ্য শুল্ক ছার পাচ্ছে। অথচ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সংখ্যাটি মাত্র ১ হাজার ৬৩৮ টি।
জানা যাচ্ছে, চুক্তির নাম এগ্রিমেন্ট অব রেসিপ্রকাল ট্রেড। এমন চুক্তিতে দুই দেশের স্বার্থ রক্ষা হওয়ার কথা। কিন্তু সেটা হয়েছে এক পেশে। বাংলাদেশের কথা ভাবাই হয়নি। এমনকি স্টারলিংকের সঙ্গে চুক্তির পিছনে লবিংয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সমস্ত চুক্তি দেশের অর্থনীতিকে আরও সংকটের দিকে ঠেলে দেবে। কৃষি খাতের চুক্তি নিয়েও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি একটি পরাধীনতা চুক্তি হয়েছে। যেখানে কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব বাড়বে। এবং কৃষকরা চাপে পড়বে। এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এর সঙ্গে চুক্তির ফলে রাজস্ব আয় কমার ঝুঁকি রয়েছে। পাশাপাশি চীন ও রাশিয়ার মত দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্যও চাপ তৈরি হতে পারে। কিছু কারণে উঠছে দুর্নীতির অভিযোগ। কারণ মাহমুদ ইউনূস ক্ষমতায় এসে তাঁর গ্রামীণ ব্যাংকে বিশেষ রাষ্ট্রীয় সুবিধা দিয়েছে। গ্রামীণ কল্যাণ সংস্থাকে ৬৬৬ কোটি টাকা বকেয়া কর থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এছাড়াও শেখ হাসিনার আমলে মহম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা তুলে নিয়েছেন নিজে ক্ষমতায় এসে।
সেই মামলাগুলি প্রত্যেকটি খারিজ করে দিয়েছিলেন। এমনকি ইউনূসের আমলে আইন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে ইউনূসের আমলে দুর্নীতি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছে সিপিডির সম্মানিত ফেলো ডঃ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, বিদেশী চুক্তিগুলিকে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি। অর্থাৎ অন্তবর্তীকালীন সরকার যে যে কর্মকাণ্ড করে দিয়ে গিয়েছে, সেগুলি প্রশ্নের মুখে শুধু নয়। কাঠগড়ায় উঠতে পারে। কিন্তু মনে করা হচ্ছে বা আলোচনা চলছে, বাংলাদেশে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হতে চলেছেন মুহাম্মদ ইউনূস। বিএনপি নাকি মনোনিত করতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, যদি ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি করে বিএনপি বা তারেক রহমান, তাহলে তাদেরও ভূমিকা প্রশ্ন চিহ্নের মুখে পড়বে। পাশাপাশি লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে মুহাম্মদ ইউনূসের যে বৈঠক হয়েছিল কয়েক মাস আগে, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে অনেকে বলছিলেন সমঝোতা হয়েছে দুজনের মধ্যে। এখন ইউনূস রাষ্ট্রপতি হলে, অনেকে বলবে, সেই সমঝোতা করতেই গিয়েছিলেন মুহাম্মদ ইউনূস। এখন দেখার, অন্তবর্তীকালীন সরকারের আমলে হওয়া কর্মকাণ্ডগুলি কি কাঠগড়ায় তুলবেন তারেক রহমান? নাকি তাঁকে রাষ্ট্রপতি করে নতুন করে বতর্ক তৈরি করবেন?












Discussion about this post