১৮ মাসে ১৩৩টি অধ্যাদেশ। এর মধ্যে আবার ১৩২টি অধ্যাদেশ অনিশ্চয়তার মধ্যে। এই অধ্যাদেশ জারি করা হয়, যখন সংসদ মুলতুবি থাকে এবং সেটা বিশেষ প্রয়োজনেই। অধ্যাদেশ জারির শর্তও রয়েছে। বলা হয়েছে, এমন কোনও অধ্যাদেশ জারি করতে পারবে না যে অধ্যাদেশকে সংসদ আইনে পরিণত করতে পারে না। বাংলাদেশের পূর্বতন তদারকি সরকার সেই কীর্তিটাই করেছেন। তাঁর দ্বিতীয় অন্যন্য সাধারণ কীর্তিটি হল এমন কিছু অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে, যে অধ্যাদেশ সংবিধান বিরোধী। তাই, এখন তাঁর বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে বেশ কয়েকজন আইজীবী মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কুকীর্তি আরও আছে। রাষ্ট্রপতি আদেশ দিতে পারেন। সেখানে তিনি সই করতে পারেন। কিন্তু অধ্যাদেশে তাঁর সই করার কোনও এক্তিয়ার নেই বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। তদারকি সরকার তাদের ১৮ মাসের দুঃশাসনে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে দিয়ে সেই সব অধ্যাদেশে সই করতে বাধ্য করান। এই সব অধ্যাদেশের মধ্যে রয়েছে জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তির বিষয়টিও। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটা শুধু সংবিধান লঙ্ঘনের পর্যায়ে পড়ে না। ইউনূস যা করেছেন সেটা এক প্রকার রাষ্ট্রদ্রোহিতা। একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচিত সরকারকে যারা অন্যায়ভাবে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছে, তাদের যাতে কোনও বিচারের আওতায় আনা না যায়, তার জন্য পূর্বতন সরকার এই অধ্যাদেশ জারি করেছেন।
বলা হচ্ছে এই সরকার গঠিত হয়েছিল Doctrine of Necessity-র ভিত্তিতে। প্রধানমন্ত্রী নেই, সরকার নেই। এক কথায় দেশ অভিভাবকশূন্য। তাই, দরকার ছিল একটি অন্তবর্তী সরকারের। বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের দাবি ছিল Doctrine of Necessity- তত্ত্বের ভিত্তিতে একটা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রয়োজন আছে। জনগণের দাবিকে মান্যতা দিয়ে ক্ষমতায় আসীন হন মুহাম্মদ ইউনূস। ক্ষমতায় আসীন হওয়ার ছ মাসের মধ্যে ইউনূসের কর্মকাণ্ডে মানুষ রীতিমতো বিরক্ত। তাই, এদের এখন তাদের বিচারের দাবি উঠেছে। বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ সংবিধান বিশেষজ্ঞদের জোরাল দাবি, শুধু ইউনূস নন, ইউনূসের কুকীর্তির সঙ্গে বাকি যারা জড়িত ছিল, কুকীর্তিতে যাদের সমর্থন ছিল, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে মামলা করা দরকার।
এই ১৮ মাসে বহু আমলাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে সেই সব আমলাদের, যাদের মনে করা হত আওয়ামীপন্থী। কারও কারও বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা রুজু করা হয়েছে। কয়েক হাজার মানুষ মবক্র্যাসির শিকার হয়েছেন। হয়েছে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও নিপীড়ন। বাংলাদেশে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পর থেকে ইউনূস রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অভিভাবক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সঙ্গে যে আচরণ করেছেন, সংবিধানকে যেভাবে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন, সেটা শুধুমাত্র নিছক ধৃষ্টতা নয়। আইনের চোখে সেটা দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। রাষ্ট্রদ্রোহিতার সামিল। মবকে লেলিয়ে দিয়ে ইউনূস রাষ্ট্রপতিকে হত্যাও করতে চেয়েছিলেন।
যে সব বিষয়ে পূর্বতন সরকার প্রধানের বিরুদ্ধে মামলা করা হতে পারে, তার মধ্যে রয়েছে ১৮ মাসে ১৩৩টি অধ্যাদেশ, ১০৬ অনুচ্ছেদ। এই আইনে ক্ষমতা প্রয়োগ একেবারেই সীমিত। রাষ্ট্রপতি চাইলে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে সুপ্রিম কোর্ট। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে তিনবার ১০৬ ধারা প্রয়োগ করা হয়েছিল। বলা হচ্ছে, জুলাই অগাস্টের গণঅভ্যুত্থান “ সুপ্রিম উইল অব দ্য পিপল”। কিন্তু পরবর্তীকালে দেখা যায়, এটা গোটাটাই সাজানো। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল ডিপস্টেট। তারা চেয়েছিল বলেই পদ্মাপারে পালাবদল হয়েছে ক্ষমতায় আসীন হন মুহাম্মদ ইউনূস। আর ক্ষমতার দৌলতে তিনি গত ১৮ মাসে একের পর এক অসাংবিধানিক কাজ করে গিয়েছে। অসাংবিধানিক পদক্ষেপ করেছেন। এখন দরকার তাঁর বিচার। জনতা জনার্দন তারাই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা করবে।












Discussion about this post