“এবং থরথর করে উঠবে দরজা জানালা। আর তোমার হৃৎপিন্ড। … নিথর স্তব্ধ হ’য়ে যেত ঢাকা শহরের জনগণ”।
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সাম্প্রতিক একটি সাক্ষাৎকারের আবহে একথা বলাই যায় যে দরজা-জানালা থরথর করে কেঁপে উঠেছিল। কেঁপে উঠেছিল হৃৎপিণ্ড। ঢাকা শহরেও নেমে আসে আশ্চর্য নীরবতা। রাষ্ট্রপতি চুপ্পু বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় দৈনিককে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেই সাক্ষাৎকার বেশ দীর্ঘ। সাক্ষাৎকারের মূল কথা বিগত ১৮ মাস তাঁকে দমবন্ধ করার পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে থাকতে হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে হয়েছে নানা ষড়যন্ত্র। তাঁকে ক্ষমতা থেকে উপড়ে ফেলারও চেষ্টা চলেছে তলে তলে। রাষ্ট্রপতি বলেন, “এখানে যখন ঘেরাও করল, সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশন থেকে ফোর্স এসে তিন স্তরে নিরাপত্তা দিল। তারপর ওই যে মেয়েটা, লাফ দিয়ে কাঁটাতারের বেড়ার ওপরে উঠে ঝাঁপ দেয়। কী আশ্চর্যের ব্যাপার! এগুলো ভাড়াটিয়া। তারপর যখন সাউন্ড গ্রেনেড মারা হল, লাফ দিয়ে পড়ল। পড়ার পর সে পড়েই থাকবে, ছবি তোলা হবে। সে ডাকছে ক্যামেরাম্যানকে যে ছবি তোলো, ছবি তোলো। মানে এটা দিয়ে সে ব্ল্যাকমেইল করবে। তারপর তাকে মহিলা পুলিশ দিয়ে আর মহিলা আর্মি দিয়ে টেনেহিঁচড়ে তুলে আর্মির জিপে করে নিয়ে যায়। ”
সাহাবুদ্দিন চুপ্পির কথায়, ওই রাতটা তাঁর জন্য ছিল বিভীষিকাময়। পত্রিকাকে তিনি বলেন, “ওই দিন রাত ১২টার সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা তখনকার তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম ফোন করল, ‘এ রকম একটা খবর পাওয়া গিয়েছে। ওরা আমাদের লোক না। আমি এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলেছি। এগুলো সব আমরা ডিসপার্স করার চেষ্টা করছি। তারপর দেখি, কিছু স্থানীয় লোক এসে ওদের নিয়ে যায়। কিন্তু কিছু লোক আবার থেকে যায়। তাদের সরাতে রাত ২টা বেজেছে। রাত ২টা-৩টা পর্যন্ত আমরা তো জেগে আছি। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় তারা মিটিং করছে- রাষ্ট্রপতির অপসারণ চাই, রাষ্ট্রপতির অপসারণ চাই।”
এই সাক্ষাৎকারের আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকেও তিনি একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। সেই সাক্ষাৎকারও ছিল রীতিমতো বিস্ফোরক। বার্তা সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি চুপ্পু বলেছিলেন, তাঁর আর ওই পদে থাকার কোনও ইচ্ছে নেই। তিনি চলে যাওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত। কারণ, পূর্বতন তদারকি সরকার তাঁকে পদে পদে হেনস্থা করেছে। অপমান করছে। সেই অপমানের জ্বালা আর তাঁর পক্ষে সহ্য করা সম্ভব হচ্ছে না। দু’দিন আগে রাষ্ট্রপতি চুপ্পু জানিয়েছেন, বিএনপি চাইলে তিনি তাঁর পদে থেকে যেতে পারেন। আর বিএনপি যদি তাদের পছন্দমতো কাউকে রাষ্ট্রপতি পদে নিয়োগ করতে চায়, তাহলে তাঁর চলে যেতে আপত্তি নেই। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাকার, দুদিন আগে বাংলাদেশের একটি দৈনিক, পরে আরও একটি দৈনিকের প্রতিবেদকের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর সাক্ষাৎকার কোনও কোনও মহল মনে করছে স্ববিরোধী। তিনি একবার বলছেন, রাষ্ট্রপতি পদে থাকার তাঁর কোনও ইচ্ছে নেই। আবার কোনও গণমাধ্যমকে বলেছেন, বিএনপি চাইলে তিনি স্বপদে থেকে যেতে পারেন। আবার শাসকদল চাইলে তিনি চলে যেতে পারেন – গোটা বিষয়টা নানা প্রশ্ন তুলছে পদ্মাপারে। এদিকে, এই ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমে পড়েছে জামায়াত। দলের আমির শফিকুর রহমান বলেন, ৫ আগস্ট ২০২৪–এর ঘটনাবলি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতি অনেক তথ্য গোপন করেছেন। কথিত পলাতক প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে সে সময় উপস্থিত নেতৃবৃন্দকে যা বলা হয়েছিল এবং পরে জাতির উদ্দেশে যা জানানো হয়েছিল—বর্তমান বক্তব্যে তার সঙ্গে মিল পাওয়া যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮-য়ের এপ্রিল পর্যন্ত। কোনও কোনও প্রান্ত থেকে বলা হচ্ছে, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বাস্তবে আওয়ামী লীগার হলেও এখন তিনি বিএনপির থেকে সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করছেন। এই সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টাকেই রাজনৈতিকমহলের একাংশ মনে করছে হাসিনার সঙ্গে একপ্রকার বিশ্বাসঘাতকতা করলেন রাষ্ট্রপতি চুপ্পু।












Discussion about this post