দিল্লিতে সম্প্রতি আওয়ামী লীগ সুপ্রিমো একটি বৈঠক করেন। বৈঠক হয়েছে ভার্চুয়াল। এই বৈঠক ছিল দলের ওয়ার্কিং কমিটির। তিনি দলের নেতাকর্মীদের বেশ কিছু নির্দেশ দিয়েছেন। এই নির্দেশ ছিল দেশের মধ্যে এবং দেশের বাইরে থাকা দলের নেতাদের দেশে ফেরার বার্তা। সামনেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইছে। তাই আগে থেকে দলের নেতাকর্মীদের মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। এখন প্রশ্ন হল হাসিনা কবে দেশে ফিরবেন?
বাংলাদেশে গত দেড় বছর ধরে চলেছে রাজনৈতিক টানাপোড়েন। পদ্মাপারে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে শপথও নিয়েছেন। বাংলাদেশে বর্তমানে যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে বলা যায়, হাসিনার প্রত্যাবর্তন অবসম্ভাবি। আর তিনি ফিরবেন তারেক রহমানের হাত ধরেই। তারেক রহমান কিছুদিন আগে একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, তিনি কোনও রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণার পক্ষাপাতি নন। তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিকমহলে একাধিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বলা হচ্ছে, জিয়া-পুত্র বোঝাতে চেয়েছেন আগের সরকারের এই সব কর্মকাণ্ডের প্রতি তাঁর বিন্দুমাত্র সমর্থন নেই। তিনি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। গণতান্ত্রিক উপায়ে তিনি একটি রাজনৈতিক দলের মুখোমুখি হতে চান।
হাসিনার দেশে ফেরার ব্যাপারে সাউথব্লক একটা মস্ত বড়ো চাল চেলেছে। প্রাথমিকভাবে পদ্মাপারের সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে দেখা যাক। বাংলাদেশে নির্বাচনের কোনও সম্ভাবনা ছিল না। অভিযোগ পূর্বতন সরকার প্রধান এবং জামাতের গোপন অভিসন্ধি ছিল বাংলাদেশকে আরও একটি পাকিস্তান হিসেবে গড়ে তোলার। কিন্তু তাদের সেই অভিসন্ধি ভেস্তে গিয়েছে। সেই জামাত এখন তাদের ভূল বুঝতে পেরেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছে, সাউথব্লক নিশ্চিত ছিল বর্তমানে বাংলাদেশের যা রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাতে হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা কম। অতএব বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার একটাই উপায় বিএনপিকে যে কোনও উপায়ে ক্ষমতায় আসীন করা। যে ছকে তারেক রহমানকে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করে ভারত, ঠিক সেই ছকে ভারত হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে চলেছে বলে মনে করছে বাংলাদেশের রাজনৈতিকমহল।
বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হয়েছে। সামরিক ক্ষেত্রে পরিবর্তন হয়েছে। পরিবর্তন হয়েছে পুলিশ ও প্রশাসনে। এই পরিবর্তন ইঙ্গিত দিচ্ছে, প্রশাসনের সর্বোচ্চস্তরে যারা আওয়ামী বিরোধী বলে পরিচিত ছিল, তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা করা হয়েছে তারেক রহমানের নির্দেশেই। পরিবর্তন আনা হয়েছে বিচারবিভাগেও। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই তাজুল ইসলাম হাসিনা ও তাঁর আমলের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। তারেক রহমান যদি হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের ঘর ওয়াপসি না চাইতেন, তাহলে না সেনায় পরিবর্তন আনতেন। না পুলিশ ও প্রশাসনিক মহলে তিনি পরিবর্তন আনতেন। এই আমিনুল ইসলাম ভারত-ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। তাঁকে আইসিটির চিফ প্রসিকিউটারের দায়িত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়ে তারেক রহমান এই বার্তা দিতে চাইলেন যে তিনি হাসিনার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পরিপন্থী। তাছাড়া আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা না হলে তাঁর স্বচ্ছ ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত হবে। তিনি দেশে ফেরার আগে, দেশে ফিরে একটা কথা বলেছিলেন – নতুন বাংলাদেশ। সেই নতুন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে কোনওভাবেই সম্ভব নয়। তাছাড়া জামায়াত এখন প্রধান বিরোধী দল। সরকারকে তারা নানা ইস্যুতে বেগ দেবে। তাই, জামাতের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হলে দরকার এমন একটি রাজনৈতিকদলের সাহায্য। সে ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ ছাড়া তাঁর সামনে আর কোনও বিকল্প রাজনৈতিক দল নেই। সুতরাং, তারেক রহমান যে কোনও মূল্যে হাসিনাকে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করবেন। আর আওয়ামী লীগ যাতে আবার জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে আসতে পারে, সেই ব্যবস্থাও তিনি করবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা সেটাই দৃঢ়তার সঙ্গি বিশ্বাস করেন।












Discussion about this post