পদ্মাপারে একটা চমক জাগানো খবর তৈরি হয়েছে। খবরটি হল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় অনেক হিসেব বদলে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুস নেওয়ার অভিযোগ উঠছে। অভিযোগ উঠেছে ঘনিষ্ঠদের রাজসাক্ষী করার প্রস্তাব দিতেন। এর বিনিময়ে তিনি তাদের থেকে মোটা টাকার নিতেন। ট্রাইব্যুনালের নতুন চিফ প্রসিকিউটর হয়েছেন মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ট্রাইব্যুনালের বিচার থমকে যাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। সম্প্রতি আইসিটির সদ্য বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীমের বিরুদ্ধে দুর্নীতিতে জড়িত থাকা এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তোলে আইসিটি-র বি এম সুলতান মামুদ। সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত মো. ইসলাম জানিয়েছেন, আইসিটি আগে যে সব মামলার রায় দিয়েছেন, সেই সব রায়ও খতিয়ে দেখা হবে। তাহলে কি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এই আইসিটি যে রায় দিয়েছে, সেই রায় উল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে? প্রশ্ন উঠছে, নতুন বিচারপতি কেন আগের মামলার রায় খতিয়ে দেখতে চাইছেন? তিনি কী নতুন বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছেন? অনেক কথা বুঝে নিতে হয়। সব কথা মুখে বলা যায় না।
আইসিটিতে এখন বেশ কয়েকটি মামলা চলছে। সেই মামলার সব নথি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি বিগত দিনের মামলার নথি ও রায় নতুন চিফ প্রসিকিউটর খতিয়ে দেখবেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। এই আইসিটি হাসিনা এবং তাঁর আমলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। দুজনের কেউ বাংলাদেশে নেই। হাসিনা গত দেড় বছর ধরে দিল্লিতে রয়েছে। তাঁর আমলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও দিল্লিতে রয়েছেন বলে অনুমান করা হচ্ছে। আইসিটি রায় ঘোষণার পরে পরে হাসিনাকে ফেরত পেতে চেয়ে আগের সরকার কম চেষ্টা করেনি। কিন্তু দিল্লি সিদ্ধান্ত নিয়ে রাখে, কোনও অবস্থাতেই হাসিনাকে ঢাকায় ফেরত পাঠাবে না। তাই, আগের সরকারের সব চেষ্টা জলে যায়। হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল ছাড়াও পুলিশের বেশ কয়েকজন শীর্ষকর্তাকেও কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়েছে। যাদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ আওয়ামী লীগ পন্থী বলেই পরিচিত।
আইসিটির নতুন চিফ প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, “ ইতিমধ্যে ২৪টি মামলার ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়েছে। ২১টি মামলার বিচার চলছে ট্রাইব্যুনালে। আমি এই সব মামলার বিষয় বস্তু দেখিনি। তবে আমি সেগুলি সব দেখব। ফরমাল চার্জগুলো ঠিক হয়েছে কি না, তদন্ত যথাযথ হয়েছে কি না – এগুলো সব কিছু আমি দেখব। জাতির আকঙ্খা অনুযায়ী যাতে আমরা বিচারগুলি করতে পারি, সে বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” যে সব মামলার রায় ইতিমধ্যে ঘোষণা হয়ে গিয়েছে, সেই সব মামলার রায় তিনি খতিয়ে দেখবেন কি না, সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা সে বিষয়ে জানতে চান। জবাবে সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “েয় সব মামলার রায় হয়ে গিয়েছে, সেগুলি দেখার সুযোগ হয়নি। তাই সেই বিষয়ে আমি কোনও মন্তব্য করব না। তবে সবগুলোর দেখার সুযোগ আছে, আমি সবগুলোই দেখব। যে সব মামলার বিচার হয়ে গিয়েছে, সেই সব মামলার ফাইল দেখব। যদি কোনও বিষয়ে কোনও আইনগত পদক্ষেপ করতে হয় সেভাবে পদক্ষেপ করব। আমরা চাই ট্রাইব্যুনাল আরও গতিশীল হোক। আরও স্বচ্ছতার সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম পরিচালিত হোক। ” নতুন চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেছেন, কোনও বিভেদ বা দ্বন্দ বা সমালোচনা বিচারকাজ বা বিচারব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে না পারে, সেটা তিনি দেখবেন। তিনি কোনও ধরনের সমঝোতা করতে শেখেননি। তাঁর মাধ্যমে কোনও কোনও কম্প্রোমাইজ হবে না।












Discussion about this post