বাংলাদেশে নির্বাচন হয়ে গিয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় আসীন হয়েছেন। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। কিন্তু পূর্বতন সরকারের কোনও কোনও উপদেষ্টা এখনও স্বপদে বহাল রয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম মোস্তাফা সারওয়ার ফারুকি। তিনি এখনও তাঁর পদে বহাল রয়েছেন বলেই খবর। গণভবনকে জুলাই অভ্যুথান স্মৃতি জাদুঘর হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেটির উদ্বোধন করার কথা ছিল ২০২৫-য়ের ৫ অগাস্ট। কিন্তু কাজ এখন শেষ হয়নি। সরকার বিদায় নিলে কী হবে। সারওয়ার ফারুকি এখন সেই কাজের তদারকির দায়িত্ব সামাল দিচ্ছেন। এর জন্য তিনি একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছেন। সেই কমিটির সদস্য আবার তাঁর পছন্দের লোক। এই প্রকল্প নিয়ে সারওয়ার ফারুকি বেশ তৎপর। উপদেষ্টার দায়িত্ব তিনি ছেড়েছেন ঠিকই। জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে তিনি নিয়মিত যাতায়াত করছেন। কাজ তদারকি করছেন। তাঁর কাছের লোকজন নিয়মিত সেখানে যাওয়াআসা করলেও অন্য কাউকে বা পরিচিত কাউকে সেখানে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকী সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের সেখানে প্রবেশ নিষেধ। এর জন্য আগের সরকার বরাদ্দ করে গিয়েছে ১১১ কোটি ১৯ লক্ষ ৮১ হাজার টাকা। কাজ শেষ হওয়ার দিনও ঠিক হয়ে গিয়েছে। আগামী ৫ অগাস্টের মধ্যে জাদুঘরের রূপান্তর কার্যক্রম সমাপ্ত করতে এই জাদুঘরের সিভিল ও ই /এম অংশ নির্মাণকাজ বা সংস্কার কাজ ক্রয় পদ্ধতিতে করার অনুমোদন দিয়ে গিয়েছেন অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। জাদুঘরের ই/এম অংশ বলতে ইলেক্ট্রো মেকানিক্যাল অংশকে বোঝায়।
ইউনূস সরকারের বিদায়ের দুইদিন আগে ওই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির দায়িত্ববলেই মোস্তাফা সারওয়ার ফারুকি তাঁর দায়িত্ব পালন করে চলেছে। গণভবনের ভিতরে কী ধরনের কাজ হচ্ছে, তা নিয়ে এতো গোপনীয়তা বজায় রাখার রহস্য তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে জাদুঘর নির্মাণে এক সঙ্গে এতোজন নিয়োগ করা হল কেন ? এই সব কিছুই নেওয়া হয়েছে দ্রুত। এই ৯৬ জনের মধ্যে রয়েছেন ব্যবস্থাপক, উপব্যবস্থাপক, কিউরেটর, ডেপুটি কিউরেটর সহ ৯৬ জন। গণভবনকে – “জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর ” বানানোর কাজে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে যেভাবে প্রায় ১১১ কোটি টাকা ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। তারা বলেছে, যেভাবে বিদ্যমান আইন ও নীতিমালা এড়িয়ে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতির যুক্তিতে কাজ দেওয়া হয়েছে, তা স্বচ্ছতা জবাব দিহির প্রতি অন্তর্বর্তীকালীন সরাকারের অঙ্গীকারের সঙ্গে একেবারেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
দরপত্র ছাড়া এই ক্রয়প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ আখ্যা দিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জমান বলেন, “অভ্যুত্থানের স্মৃতিচিহ্ন, শহীদদের স্মারক ও আওয়ামী লীগ সরকারের নিপীড়নের ঘটনা তুলে ধরার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনার বাসভবন অর্থাৎ গণভবনকে জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতি জাদুঘর করার প্রশংসনীয় উদ্যোগটি এখন প্রশ্নের মুখে পড়ার ঝুকি তৈরি হয়েছে। ” প্রশ্ন মোস্তাফা সারওয়ার ফারুকির ভূমিকা নিয়েও। তাঁর সরকারের বিদায় নিশ্চিত সেটা জানার পরেও তিনি কী করে এই ধরনের একটি কমিটি গঠন করলেন। কমিটির প্রধান পদে নিজে আসীন হলেন। আর কেই বা তাকে দিল গণভবনকে জুলাই অভ্যুথান স্মৃতি জাদুঘর হিসেবে গড়ে তোলার অনুমতি? জাতীয় স্মৃতি বা স্মারককে এভাবে মুছে ফেলা যায় না কি?
কাহিনী তলিয়ে দেখলে দেখা যাবে সারওয়ার ফারুকির স্ত্রী অভিনেত্রী নুসরত ইমরোজ তিশা এবং ফারুকির আরও কয়েকজন ঘনিষ্ঠের সংস্থাকে নির্মাণকাজের বরাত পাইয়ে দেওয়ার জন্য কোনওরকম দরপত্র প্রকাশ করা হয়নি। কাগজে একাধিক প্রতিষ্ঠান তৈরি করে সেই সব প্রতিষ্ঠানকে এই কাজের বরাত দেওয়া হয়েছে। “প্রশ্ন হলো, নিয়মিত এ ক্রয়ের জন্য কেন সরাসরি ক্রয়পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে? এ কাজের জন্য যে দুটি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হলো, তা কীসের ভিত্তিতে? কোন যুক্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্বাচিত করা হলো; কার্যাদেশের মূল্য নির্ধারণের ভিত্তিই-বা কী? এ ক্ষেত্রে ব্যয়িত অর্থের “ভ্যালু ফর মানি” কীভাবে নিশ্চিত হবে?” সারওয়ারকে এই নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি সংবাদমাধ্যমকে এড়িয়ে চলেছেন। আর যারা প্রশ্ন করছেন, তারা আহাম্মক।












Discussion about this post