দীর্ঘ দেড় বছর ধরে ক্ষমতা ভোগ করার পরে এবার মাথায় হাত পড়তে চলেছে নোবেলজয়ী মুহম্মদ ইউনূসের। বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টা মুহম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে চারটি অপরাধের পরিপ্রেক্ষিতে মামলা করার ঘোষণা করলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন।এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ইউনূস অ্যান্ড গংদের বিচার হওয়া উচিত কয়েকটি কারণে। একটি সংবিধান লঙ্ঘন, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করা। এবং আমেরিকার সঙ্গে ইউনূস যেসব চুক্তি করেছে সেসব চ্যালেঞ্জ করে আরেকটি মামলা করা যেতে পারে।’
এরপর নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে সেই অধ্যাপক আরও লেখেন, ‘আমি আরও একটি মামলা করব, সেটা হলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৩২ নম্বরের বাড়ি ভাঙচুর নিয়ে। সেখানে যে দুষ্প্রাপ্য ডকুমেন্ট ছিল, যেসমস্ত অ্যাভিডেন্স ছিল, সেটা দেশি বিদেশি কার ইন্ধনে বারবার ভাঙা হল এবং অন্তর্বর্তী সরকারের কারা ভেতর থেকে এটা হতে দিলেন। সেখানে পুলিশ সেনাবাহিনী কেন গেল না। সেটা নিয়ে একটা মামলা করব। গত ১৮ মাসে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে, যা অস্বাভাবিক বিষয়। ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১৩২টি অধ্যাদেশই অনিশ্চয়তার মধ্যে।’এদিকে ২০২৪ সালের তথাকথিক গণঅভ্যুত্থানের সময় বহু পুলিশকে খুন করা হয়। মোট ৪৪ জন পুলিশ সদস্য প্রাণ হারিয়েছিলেন তথাকথিত জুলাই বিপ্লবীদের হাতে। তবে বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, সেই দেশের পুলিশের একটি বড় অংশ দাবি করছে, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা এর চেয়েও বহুগুণ বেশি হতে পারে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এসব ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি উঠলেও তা কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আবারও চর্চা শুরু হয়েছে। এই আবহে দাবি করা হচ্ছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনার তদন্তের ‘সবুজ সংকেত’ মিলেছে তারেকের সরকারের পক্ষ থেকে। জানা গিয়েছে, বিগত দেড় বছরে তদন্ত না এগোলেও হামলার আগে ও পরের ভিডিও ফুটেজ, সিসিটিভি রেকর্ড এবং অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষিত রাখা হয়েছিল।সরকার প্রয়োজনীয় তদন্ত না করলে মহসিন রশিদ নিজেই আইনি পদক্ষেপ নেবেন বলে জানিয়েছেন।সিনিয়র সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্নার ইউটিউব চ্যানেল ‘মানচিত্র’-এর সাম্প্রতিক অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা করেন মোহসিন রশিদ।একজন প্রাক্তন উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতিকে ‘চোর’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন, যিনি ইউনূসের কাছেই শপথ নিয়েছিলেন-এই বিষয়টিও তুলে ধরেন রশিদ।প্রেস উইং অপসারণ, বঙ্গভবন ঘেরাও এবং রাষ্ট্রপতি অপসারণের প্রচেষ্টা ‘রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচারবিরোধী’ বলে অভিহিত করেন তিনি। এসব ঘটনায় ড. ইউনূসের সম্পৃক্ততা বা নীরব সমর্থন ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য তদন্ত কমিশন গঠন উচিত। উপদেষ্টা পরিষদের কয়েক সদস্যের বিরুদ্ধেও তদন্তের দাবি জানান।’রাষ্ট্র খেলার বিষয় নয়, ক্ষতি হয়েছে কি না, নিরপেক্ষ অনুসন্ধান দরকার’।সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন রশিদ। রায়ের সার্টিফায়েড কপি পেলে রিভিউ আবেদন করবেন। ভবিষ্যতে অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকার এড়াতে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। সরকার তদন্ত না করলে নোটিশ দিয়ে নিজে মামলা দায়ের করবেন এবং ইউনূসকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। খুব স্বাভাবিকভাবেই বোঝা যাচ্ছে, প্রধান উপদেষ্টার পর থেকে সদ্য অব্যাহতি নেওয়া ইউনূসের আগামী দিন যে ভয়ঙ্কর থেকে অতি ভয়ংকর হতে চলেছে তা বোঝাই যাচ্ছে।












Discussion about this post