বিগত দেড় বছরে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহম্মদ সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে অপসারনের মেটিকুলাস ডিজাইন করেছিল। বঙ্গভবনের সামনে মব সৃষ্টি করে রাষ্ট্রপতিকে কোনঠাসা করার চেষ্টার পাশাপাশি, সমস্ত হাইকমিশনের কার্যালয় থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশিকা জারি করা বা বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠক করে তৎকালীন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল দেশের রাষ্ট্রপতিকে অরসারণের উদ্যোগ নেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এখন ক্ষমতা থেকে সরেছে ইউনূস সরকার। নির্বাচনের মাধ্যমে বিপুল ব্যবধানে জিতে বাংলাদেশে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তারেক রহমান। এই আবহেই বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহম্মদ সাহাবুদ্দিন একটি গণমাধ্যমে বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেখানেই তিনি বিগত সরকারের আমলে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরে তাঁকে চুরান্ত অপমানিত করার প্রচেষ্টা নিয়ে সরব হয়েছিলেন। এটাই কার্যত মৌচাকে ঢিল মারার সামিল ছিল। রাষ্ট্রপতি কিভাবে গণমাধ্যমে মুখ খুললেন, ঠেলায় পড়ে এবার তা নিয়েই সরব হল বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপির নেতারা।
বিশেষ করে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম যে দাবি করেছেন তা কার্যত মামার বাড়ির আবদার বললেও কম বলা হয়। তিনি রাষ্ট্রপতি মোহম্মদ সাহাবুদ্দিনকে অভিশংসন করে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘চব্বিশের জুলাইয়ে গণহত্যা ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন। এ জন্য তিনি গণহত্যার দায় এড়াতে পারেন না। তাই সংসদের প্রথম অধিবেশনে তাকে অভিশংসন করতে হবে। এরপর গণহত্যার দায়ে তাকে গ্রেফতার করতে হবে।
এই বক্তব্যের মাধ্যমেই নাহিদ কার্যত স্বীকার করে নিলেন, রাষ্ট্রপতি ভবনের সামনে যে মব সৃষ্টি করার ঘটনা সামনে এসেছে তা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মদতেই হয়েছিল। কিন্তু তিনি যেটা দাবি করেছেন তা কি কোনও মতে সম্ভব? ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে এনসিপি ও জামাত ফের মুহাম্মদ ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি করার বিষয়টি সামনে আনতে চাইছে। কারণ, সরকারি দল বিএনপি যে বর্তমান রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে সরাতে নারাজ তা কার্যত বুঝিয়ে দিয়েছে। প্রথামাফিক রাষ্ট্রপতিই আসন্ন সাংসদ অধিবেশনের প্রথমে ভাষণ দেবেন। তখন হয়তো তাঁর অভিশংসনের প্রস্তাব তুলবে এনসিপি ও জামায়াত। কিন্তু বিএনপি না চাইলে ওই প্রস্তাব পাস হবে না। কারণ, জামায়াত ও এনসিপির প্রয়োজনীয় সংখ্যাই নেই।
যদিও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বুধবারই এক বিবৃতি দিয়ে দাবি করেছেন, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও গোপনীয় বিষয় জনসমক্ষে প্রকাশ করে শপথ ভঙ্গ করেছেন এবং রাষ্ট্রের গোপন বিষয়ের মতো আমানত রক্ষায় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। এতে দেশবাসীর মনে নানা প্রশ্ন, বিতর্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আমি তার এ সাক্ষাৎকারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। তাঁর আরও দাবি, সংবিধান, রাষ্ট্রীয় শপথ এবং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার প্রশ্নে তিনি জাতিকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলেছেন। রাষ্ট্রপতি পদে থেকে এমন বক্তব্য দিয়ে তিনি শপথ ভঙ্গ করেছেন, যা রাষ্ট্রের মর্যাদা ও ভাবমর্যাদার সঙ্গে একেবারেই অসামঞ্জস্যপূর্ণ। সবমিলিয়ে জামায়াত ও এনসিপি বিগত সরকারের আমলে যা করতে পারেনি, এখনও সেই চেষ্টাই করে চলেছে। কিন্তু ওয়াকিবহাল মহলের মতে, তারেক রহমানের অনুমতি ছাড়া রাষ্ট্রপতি গণমাধ্যমে ওই সাক্ষাৎকার দিতে পারেন না। অর্থাৎ, খেলাটা এখন জামায়াত ও এনসিপির হাতে নেই।












Discussion about this post