তারেক রহামানের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করছেন মোস্তাফা সরওয়ার ফারুকী। তিনি কি কোনও মন্ত্রী হতে চান বা প্রতিমন্ত্রী হতে চান? ফেসবুকে দাবি করে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হয়েছিলেন। বিএনপি তাঁকে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী না করলে তিনি হয়তো বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যেতে পারেন। পূর্বতন সরকারের বেশ কয়েকজন ইতিমধ্যে বিদেশে চলেও গিয়েছেন। বিদেশে যাওয়ার জন্য লাইন দিয়েছেন আরও অনেকে। ২০২৬-য়ের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব ছেড়ে দেয় এবং বিএনপি সরকার ক্ষমতা দখল করে। সদ্য সাবেক উপদেষ্টারা এখন কোথায়? তারা কি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গিয়েছেন? না কি তারা নতুন কোনও পথের সন্ধানে ব্যস্ত রয়েছেন? প্রতিদিন সামাজিক গণমাধ্যম ফেসবুকে কেউ না কেউ ছবি পোস্ট করে বলছেন অমুক উপদেষ্টা, তমুক উপদেষ্টা দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছেন। কেউ লিখছেন বিমানবন্দরের লাউঞ্জে কোন কোনও সাবেক উপদেষ্টাকে দেখা গিয়েছে। কোথায় আছেন উপদেষ্টারা? বিদেশেই বা গেলেন কারা? কারা যাওয়ার পথে আছেন?
সবার আগে আলোচনায় আসবেন বাংলাদেশের পূর্বতন সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস। ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমান শপথ নেওয়ার মধ্যে দিয়ে তাঁর দায়িত্ব শেষ হয়। প্রধান উপদেষ্টা তাঁর যমুনা বাসভবন ছাড়েননি। ২৮ ফেব্রুয়ারি গুলশনে নিজের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার কথা। তবে এরই মধ্যে তিনি কাজে ফিরেছেন। ২২ ফেব্রুয়ারি তিনি মীরপুরে ইউনূস সেন্টারে যোগ দেন। সেখানে গ্রামীণ পরিবারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি বৈঠক করেন। ১৮ মাসে ইউনূস সেন্টারে থেমে থাকা কাজে গতি আনার চেষ্টা শুরু করেছেন। বরাবরের মতো এই সব কাজ করতে তাঁকে বিদেশ সফর করতেই হবে। মার্চ মাসে মুহাম্মদ ইউনুসের জাপান সফরের কথা রয়েছে। মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে জাপান সফরে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস। বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নেবেন। জাপানের পর আরও কয়েকটি দেশে তার যাওয়ার কথা। ড. ইউনূসের সঙ্গে ইউনূস সেন্টারে ফিরেছেন তাঁর প্রধান সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ। গ্রামীণ ব্যাংকে ফিরেছেন প্রাক্তন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম। ইউনূসের অন্যান্য আত্মীয় এবং গ্রামীণের সহকর্মী, যারা সরকারে ছিলেন তাদের বেশিরভাগই তাঁর সঙ্গে ফিরছেন।
আরও একজনের কথা বলা যেতে পারে। তিনি খলিলুর রহমান। তিনি সম্ভবত নতুন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেকের মন্ত্রিসভায় তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছে। তাঁর দায়িত্ব বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্র নীতিকে কার্যকর করা। ইতোমধ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, চিন, ভারত ও পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতিকে তিনি অগ্রাধিকার দিয়েছেন। পুরনো পেশায় ফিরে যাওয়ার মধ্যে সব থেকে আলোচিত নাম সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। জাফলংয়ে সাদা পাথর লুঠের ঘটনায় তাঁর জড়িত থাকায় অন্তর্বর্তী সরকার রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়ে যায়। এর মধ্যে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর পারিবারিক ব্যবসা হামিদ সোয়েটার কোম্পানির মালিকানা তাঁর স্বামীর নামে হস্তান্তর নিয়েও বিতর্ক ওঠে। উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষে ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পরিবেশ আইনজীবী সমিতি বেলার প্রধান নির্বাহী হিসেবে যোগ দিয়েছেন তিনি। আসিফ নজরুল ফিরে গিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে আসিফ নজরুল ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছেন। সব চেয়ে নির্ভার আছেন সাবেক নৌ পরিবহন ও শ্রম উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) এম শাখাওয়াত হোসেন। অবসরের পর তিনি দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেরাচ্ছেন। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারে থাকার সময় তিনি সরকারি বাংলোয় ছিলেন না। এমনকী সরকারি গাড়ি পর্যন্ত ব্যবহার করেননি। বাসা থেকে খাবার নিয়ে খেয়েছি। ফলে, পদ ছাড়ার পর আমায় কোনও বিড়ম্বনায় পড়তে হয়নি। তাঁর এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায় কেন অন্য উপদেষ্টারা এখন সংকটে পড়েছেন। আসিফ নজরুল তো বলেই ফেলেছেন সরকারি বাড়িটির জন্য তাঁর মায়া লাগছে। সামাজিক মাধ্যমে গুজব আছে তিনি এই বাড়িতে ছাগলও পুষতেন।
এরই মাঝে গুঞ্জন তৈরি হয় প্রাক্তন উপদেষ্টারা দেশ ছাড়ছেন। যদিও সেই গুঞ্জন খণ্ডন করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, উপদেষ্টারা দেশেই আছেন। তারা এ দেশের সন্তান। দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার প্রশ্ন ওঠে না।












Discussion about this post