পদ্মাপারে নির্বাচন হয়ে গিয়েছে। বিএনপি পেয়েছে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা। তারা সরকার গঠন করেছে। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমান। দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে জামায়াত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি। আওয়ামী লীগকে যাতে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেওয়া হয়, তার জন্য হাসিনা বেশ কয়েকবার আবেদন করেছিলেন। কিন্তু ইউনূস সরকার সেই আবেদনে সাড়া দিতে অস্বীকার করে। পদ্মাপারে অভিযোগ উঠেছে, এই নির্বাচন আসলে একটা সেটিং। আওয়ামী লীগ যাতে কোনওভাবেই জাতীয় রাজনীতিতে ফিরতে না পারে, তার জন্য পূর্বতন সরকার প্রধান ও বিএনপির মধ্যে একটা সমঝোতা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে অনেকে লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে ইউনূসের মধ্যে হওয়া বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে ধরছেন। তুলে ধরছেন প্রবাসে থাকাকালীন জিয়া পুত্রের সঙ্গে সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর বৈঠক। তারেকে এই বৈঠকের উদ্দেশ্যই ছিল বাহিনীর সঙ্গে একটা রফা করা যাতে তিনি দেশে ফিরলে বাহিনী তাঁকে গ্রেফতার না করে। সেই সবুজ সংকেত পাওয়ার পর তারেক জিয়া দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। কোনও কোনও প্রান্ত থেকে এটাও বলা হচ্ছে, তারেককে দেশে ফিরতে দেওয়া হয়েছে এই শর্তে যে তিনি আওয়ামী লীগ সুপ্রিমোকে সসম্মানে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করবেন। আওয়ামী লীগের ওপর থেকে তুলে নেবেন নিষেধাজ্ঞা।
বাংলাদেশে পালাবদলের পর যে প্রশ্নটি নিয়ে এখন সব থেকে বেশি আলোচনা হচ্ছে তা হল আওয়ামী লীগের ভবিষ্যত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একাধিকবার দাবি করেছেন যে তিনি কোনও রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণার পক্ষপাতি নন। তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পক্ষপাতি নন। হাসিনার আমলে এই বিএনপিকে দীর্ঘদিন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। তারেক রহমান সেই পথে হাঁটবেন কি না, সেই প্রশ্ন এখন ঘোরাঘুরি করছে। যে ভারত বিরোধী শক্তি আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল, তাঁর নেপথ্যে জামাতের একটা বড়ো ভূমিকা ছিল। বাংলাদেশে জামায়াত বহু এলাকায় নিজেদের শক্তি বাড়িয়েছে। তারা এখন জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে তারেকের অবস্থানের ওপর ভারতের সঙ্গে তাঁর সরকারের সম্পর্ক অনেকাংশে নির্ভর করছে। জুলাই গণহত্যা মামলায় বাংলাদেশের আদালতে তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তাঁকে দেওয়া হয়েছে মৃত্যুদণ্ড।
এই অবস্থায় বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় একটি খবর প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি একটি অলিখিত নির্দেশিকা জারি করেছন। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ফ্যাসিস্টরা জামিন পেয়ে দলীয় কাজে সক্রিয় হলে তাহলে তাদেরকে পুনরায় গ্রেফতার করে Shown arrest দেখাতে হবে। এই ফ্যাসিস্ট বলতে আওয়ামী লীগকেই বোঝানো হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে আওয়ামী লীগের যে সব নেতারা বিভিন্ন জেলে আটক রয়েছেন, তারা জামিন পেতে চাইলে মুচলেকা দিতে হবে যে তারা আগামীদিনে কোনওভাবেই সক্রিয়া রাজনীতিতে অংশ নেবে না। অর্থাৎ জামিন পাওয়ার পরে আওয়ামী লীগের ঝাণ্ডা ধরা যাবে না। জয় বাংলা বলা যাবে না। এদের সবাই যে কোনও না কোনও দুর্নীতিতে জড়িত, এমনটা নয়। সংখ্যাগরিষ্ঠই আওয়ামী লীগের হয়ে পথে নেমেছিলেন। করেছিলেন সভা। হাসিনা দিল্লি থেকে সম্প্রতি ওয়ার্কিং কমিটির যে বৈঠক করেন, সেই বৈঠকে তিনি দলের নেতাকর্মীদের মাঠে নামার পাশাপাশি জেলে আটক নেতাদের জামিনের বিষয়টিও নিশ্চিত করার কথা বলেছেন।
তবে এই ধরপাকড়ের বিষয়টি আগামী মাসে আরও বেশি করে হবে বলে আশঙ্কা করছে বাংলাদেশের রাজনৈতিকমহল। যুক্তি হিসেবে তাঁরা তুলে ধরেছেন আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে হাসিনার নির্দেশ। হাসিনা দলের নেতাকর্মীদের অবিলম্বে দেশে ফেরার নির্দেশ দিয়েছেন। সামনেই বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে বদ্ধপরিকর। প্রশ্ন হল তারেক রহমান কি আওয়ামী লীগকে সেই রাস্তা তৈরি করে দেবে।












Discussion about this post