পুলিশ যখন তাদের সদস্যদের লাশের হিসেব বের করবেন, তখন তো হাসনাত, সারজিস, নাহিদ ইসলাম হুকুমের আসামী হবেন। হাসনাত সারজিসদের মতো জুলাই আন্দোলনের বিপ্লবী নেতা, জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র নেতা কিম্বা নানারকম মঞ্চ গড়ে ২০২৪ থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন, সারা বাংলাদেশ দাপিয়ে বেড়িয়েছেন, তারেক রহমান ক্ষমতা গ্রহণের পরে পরে এই বার্তা দিয়েছেন যে তিনি তাদের কোনওভাবেই মাথায় তুলে নাচবেন না। সম্ভবত সেটা বুঝতে পেরেই নির্বাচনের দিন থেকে কারচুপি, ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ তুলে এরা সরব হওয়ার চেষ্টা করেন। এদিন বাংলাদেশে পালাবদলের পর বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলা শুরু হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট করেন। পোস্টে তিনি কুমিল্লা – ৪ (দেবীদ্বার) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং এনসিপির দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাকে ট্যাগ করেন। সেখানে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পুনরায় দৃশ্যমান হওয়ায় বিষয়টি দ্রুত উল্লেখ করে দ্রুত সংস্কার ও বিচার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি জানতে চান।
নাসীরুদ্দিন তাঁর পোস্টে বলা হয় – “হাসনাত আবদুল্লা কই? লীগ তো দোকান খোলা শুরু করেছে। নির্বাচন তো হইল। এইবার সংস্কার আর বিচার হইব্বে। ” তাঁর ভাষায় আওয়ামী লীগ আবার প্রকাশ্যে সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করেছে। এই অবস্থায় সংস্কার ও বিচার কতদূর এগোলো সে বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা প্রয়োজন। প্রসঙ্গত ২০২৪-য়ের ৫ অগাস্ট ছাত্র –জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যূত হয় আওয়ামী লীগ। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন শেখ হাসিনা। পরবর্তীতে ৮ অগাস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। রাষ্ট্রপরিচালনায় বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগের ঘোষণা করা হয়। আখতারা হোসেন যেমন তাঁর এলাকায় জয়ী হয়েছেন। কিন্তু তিনি তাঁর এলাকায় গিয়ে স্বস্তি পাচ্ছেন না। বাতাসে তেমনই গুঞ্জন। স্বস্তি পাচ্ছেন না জাতীয় নাগরিক পার্টির হান্নান মাসুদও।
নোয়াখালির দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চানন্দী ইউনিয়নের প্রকল্প বাজার এলাকায় হাতিয়া- ৬ আসনের নবনির্বাচিত এমপি ও এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদের কনভয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি ককটেল চার্জ ও বেশ কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। স্থানীয় বিএনপি দাবি করেছে, এনসিপির সন্ত্রাসীরা তাদের অফিসে হামলা চালায় এবং অফিস ভাঙচুর করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। একে অপরকে লক্ষ্য করে ধাওয়া করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এমপি হান্নান মাসউদ দলীয় নেতাকর্মীদের গাড়ি বহর নিয়ে প্রকল্প বাজার এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া কয়েকজন লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কনভয়ের ওপর চড়াও হয়। ছোঁড়ে ককটেল বোমা, কনভয় লক্ষ্য করে তারা ইট পাথর ছুঁড়তে শুরু করে। ভাঙচুর করা হয় গাড়ি। ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়। এই হামলার বিষয়ে হান্নান মাসউদ জানিয়েছেন, “আওয়ামী লীগের বেলাল মাঝি ও আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি কর্মীরা আমাদের লক্ষ্য করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। আমাদের ওপর হামলা করে। আমাদের পাঁচজন অধিক লোককে তারা অবরুদ্ধ রাখে। আমাদের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। কনভয়ে থাকা ১০টি গাড়ি তারা ভাঙচুর করে। সব কিছুই হয়েছে পুলিশের উপস্থিতিতে। পুলিশ সব কিছু দেখেও নীরব দর্শকের ভূমিকায় ছিল।”
তারেক রহমান জানিয়ে দিয়েছেন যে পুলিশ হত্যার তদন্ত হবে। আর জুলাই যোদ্ধারা বুঝে গিয়েছেন, তারেক রহমান তাদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসবেন। পুলিশ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এখনও পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যা বলেছেন, সেটাই কার্যকর হবে।












Discussion about this post