সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। নিউজ বর্তমান সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি। সেই ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, বরিশাল অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসের ভিতরের একটি ঘটনা। এই ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, টেবিল উল্টে দেওয়া হয়েছে। চলছে চেয়ার ছোড়াছুড়ি। বিচারকের টেবিলে থাকা কাগজপত্র ছুঁড়ে ফেলা হয়েছে। এরা সকলে আইনজীবী এবং এরা বিএনপি পন্থী সংগঠনের সদস্য। তাদের মূল বক্তব্য, কেন আওয়ামী লীগ কর্মীদের জামিন দেওয়া হয়েছে। এই দাবি তুলে তারা এজলাসের ভিতরে ঢুকে তাণ্ডব চালায়। পাশাপাশি আরও একটি ঘটনাও নজরে এসেছে। সেটা হল রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মহম্মদ শাহজাহান একটি লিখিত নির্দেশিকা জারি করেছন। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ফ্যাসিস্টরা জামিন পেয়ে দলীয় কাজে সক্রিয় হলে তাহলে তাদেরকে পুনরায় গ্রেফতার করে Shown arrest দেখাতে হবে। এই ফ্যাসিস্ট বলতে আওয়ামী লীগকেই বোঝানো হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে আওয়ামী লীগের যে সব নেতারা বিভিন্ন জেলে আটক রয়েছেন, তারা জামিন পেতে চাইলে মুচলেকা দিতে হবে যে তারা আগামীদিনে কোনওভাবেই সক্রিয়া রাজনীতিতে অংশ নেবে না। অর্থাৎ জামিন পাওয়ার পরে আওয়ামী লীগের ঝাণ্ডা ধরা যাবে না। জয় বাংলা বলা যাবে না। এদের সবাই যে কোনও না কোনও দুর্নীতিতে জড়িত, এমনটা নয়। সংখ্যাগরিষ্ঠই আওয়ামী লীগের হয়ে পথে নেমেছিলেন। করেছিলেন সভা। হাসিনা দিল্লি থেকে সম্প্রতি ওয়ার্কিং কমিটির যে বৈঠক করেন, সেই বৈঠকে তিনি দলের নেতাকর্মীদের মাঠে নামার পাশাপাশি জেলে আটক নেতাদের জামিনের বিষয়টিও নিশ্চিত করার কথা বলেছেন। এই ডিআইজির অধীনে রয়েছে আটটি জেলা। আটিট জেলার পুলিশ সুপারের কাছে তিনি সেই নির্দেশ পৌঁছে গিয়েছে। বাংলাদেশে তারেক রহমান সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন। কিন্তু দুটি ঘটনা তাঁকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, তারেক রহমান আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন। ফিরিয়ে আনতে চাইছেন গণতান্ত্রিক পরিবেশ। কিন্তু তাঁর পুলিশমহলের একাংশ যে সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তাতে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ আদৌ ফিরে আসবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি যে নির্দেশিকা দিয়েছেন, সেই নির্দেশিকা জারির প্রথম এবং প্রধান কারিগর তিনি হলেও এর পিছন কারা রয়েছেন? কোন স্তর থেকে পুলিশ এবং প্রশাসনের একাংশকে ইন্ধন দেওয়া হচ্ছে?
বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং প্রাক্তন এমপি তালুকদার মহম্মদ ইউনূস আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। নেত্রীর নির্দেশ তেমনই ছিল। আত্মসমর্পণের পর অতিরিক্তি চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরিয়তুল্লা তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। সেই দিন বিএনপি পন্থী আইনজীবীরা আদালতকক্ষে ঢুকে তাণ্ডব চালায়। জামিন বাতিলের দাবি করেন। হট্টগোলের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার একটা ব্যবস্থা নিয়েছে। আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর লিঙ্কনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁকে আদালতে হাজির করানো হয়। আদালত তাকে জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয়। এরকম একটি অশান্তির পরিবেশ তৈরি হতে পারে বলে রাজনৈতিকমহলে আশঙ্কা ছিল। দেশবাসীর প্রতি তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি ছিল তিনি দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবেন। কিন্তু বিএনপি পন্থী আইনজীবীরা আদালতে যা করলেন, তাতে তো তারেক রহমানের কাছে দেশে আইনের শাসন ফিরিয়ে নিয়ে আসাটা রীতিমতো চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। তবে আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর লিঙ্কনকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে তারেক রহমান একটা বিষয় স্পষ্ট করে দিলেন যে আইনের চোখে সবাই সমান। যদি তার দলের কেউ মনে করেন থাকেন অপরাধ করে পার পেয়ে যাবেন, তাহলে সেটা ভুল ধারণা। তবে বার কাউন্সিলের তরফে ওই সব আইনজীবীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কোনও ইঙ্গিত এখনও পাওয়া যায়নি।












Discussion about this post