২০২৪ সালের ৫ই অগাস্ট, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেরে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। সেই আন্দোলনের জেরে যেমন ছাত্র জনতা আক্রান্ত হয়েছে, ঠিক একইভাবে পুলিশও আক্রান্ত হয়েছে। অনেকে দাবি করেন, ছাত্রজনতা যতটা না নিহত হয়েছে, তার থেকে অনেক বেশি পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। বাংলাদেশে ৪০০ বেশি থানা পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি ক্ষমতায় আসীন হওয়ার সময়, ২০২৪ সালের ৩১ অগাস্ট পর্যন্ত যা কিছু হয়েছে, সেই নিয়ে কোনও মামলা করা যাবে না। কারও বিরুদ্ধে কোনও কথা বলা যাবে না। পুলিশ হত্যাকাণ্ডের পর কেউ কোনও কথা বলেনি। এমনকি তদন্ত হয়নি। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পরে যখন দৃশ্যপট পরিবর্তন হল, এখন জুলাই যোদ্ধারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। তাঁদের চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যখন সরকারে তরফে বলা হচ্ছে, যে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিচার হবে, তদন্তে যারা দোষী সাব্যস্ত হবে, তাদের বিচার হবে…তখন জুলাই যোদ্ধারা বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়া শুরু করেছে। এমনকি ফের রাজপথে নামার আল্টিমেটাম দিচ্ছে। নাহিদ ইসলাম এই নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তবে কি সামনে সারির ছাত্র নেতারা যেমন, নাহিদ, হাসনাত, সারজিসরা ভয় পাচ্ছেন?
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যে পুলিশ হত্যার বিচার হবে, তদন্ত হবে। এই ঘোষণা যখন সরকারের পক্ষ থেকে এল, তখন একটা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। যারা তথাকথিত জুলাই যোদ্ধা নামে পরিচিত, তাঁরা মুহাম্মদ ইউনূসের আমলে বিভিন্ন টক শো-তে খোলাখুলি বলেছেন, যে যদি আমরা পুলিসকে হত্যা না করতাম, তাহলে আমরা বাঁচতাম না। তারপরও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তরফে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যখন এমন স্বীকার উক্তি উঠে আসছে, তখন নতুন সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, পুলিশ হত্যার বিচার হবে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট থেকে ৩১শে আগস্ট পর্যন্ত.. সারা দেশে যে যে ঘটনা ঘটেছে, তার জন্য যেমন একাধিক জুলাই যোদ্ধা হিসাবে পরিচিত নেতারা ফেঁসে যেতে পারেন। একইভাবে একাধিক উপদেষ্টাও ফাঁপড়ে পড়তে পারেন। এই বিষয়ে এক জুলাই যোদ্ধা তথা এমপি নাহিদ ইসলাম বলছেন, শুনলাম পুলিশ হত্যার বিচার হবে। যদি মীমাংসিত কোনও ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ব্যবস্থা নেয়, তাহলে আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হব। এখন প্রশ্ন, কোন প্রেক্ষিতে তিনি মীমাংসিত ঘটনা বলছেন? আদেও কি মুহাম্মদ ইউনূস এই ঘটনাগুলোর বিচার করেছেন? অনেকে বলছেন, নাহিদ ইসলামদের মত প্রথম সারি নেতারা হয়তো এই ধরনের কাজ করেননি। তবে তাদের আতঙ্ক দেখে মনে হচ্ছে, ইতিমধ্যেই এই ঘটনাগুলোর স্বীকারোক্তি বিভিন্ন জায়গায় দিয়ে দিয়েছেন যারা, সেফ করার চেষ্টা করছেন নাহিদ ইসলামরা।
কি কি ঘটনা ঘটেছিল তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ না দিতে পারলেও বাংলাদেশের কয়েকটি গণমাধ্যম কিছু ঘটনার খবর করেছিল। তারমধ্যে ২০২৪ সালের ১লা নভেম্বর। বাংলাদেশের গণমাধ্যম বলছে, আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। নিখোঁজ ১৮২ ব্যক্তির তালিকা যাচাইযের পুলিশকে চিঠি। অর্থাৎ ১৮২ জনকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। শুধুমাত্র একটি ফ্যাক্টরিতে। এমনকি ধামাচাপার অভিযোগ আনা হয়েছিল। অন্তত বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম ঘাটলে এই খবরগুলো উঠে আসে। কিন্তু অদ্ভুতভাবে নীরব ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং তার প্রশাসন। মৃত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা কোনও বিচার পায়নি। হয়তো তাদের জায়গাও ছিল না, তাদের বিচার ছিনিয়ে আনার। কিন্তু এখন বিএনপি সরকার সেই সুযোগ তাঁদের করে দিচ্ছে।
আরও একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ২০২৪ সালের ২৪ অগাস্ট ফরহাদ মজহার বলেছিলেন, দেশকে ইউরোপ বানাতে ৫ বছর লাগবে না। অর্থাৎ ইউনূসের আমলে দেশ ইউরোপ হয়ে যাবে। তিনিই আবার ২০২৬ এর ১৪ই ফেব্রুয়ারি বলছেন, ইউনূসের কারণে দেশ ৫০ বছর পিছনে চলে গিয়েছে। যখন সামনের সারিতে থাকা এমন ব্যক্তিত্বরা নিজেদের স্বার্থে কৌশলী কর্মকাণ্ড করেন, তখন তো বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে নাহিদ ইসলামরা এমন হুমকি দিচ্ছেন সরকারের বিরুদ্ধে। তিনি তো এখন জনপ্রতিনিধি। একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে যদি সাধারণ মানুষ ও পুলিশের পরিবারের সদস্যদের বিচারের বিরুদ্ধে গিয়ে রাজপথে নামেন, তাহলে তাঁদের আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার, কোন পথে এগোয় বাংলাদেশ।












Discussion about this post