বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে শীর্ষ পর্যায়ে আরও একদফা রদবদল করা হয়েছে। এবার কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেলসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাহিনীর শীর্ষপদে এটি দ্বিতীয় দফায় রদবদল। রদবদলের অংশ হিসেবে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কম্যান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হককে নতুন কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়ে এনডিসির নতুন কম্যান্ড্যান্ট হয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ ফয়েজুর রহমান। তিনি এর আগে কিউএমজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২৩ তম বিএমএ লং কোর্সের মাধ্যমে কমিশন পাওয়া এক কর্মকর্তা রংপুরে ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবও দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও ঘাটাইল এরিয়া কম্যান্ডার মেজর জেনারেল হোসাইন আল মোর্শেদকে সেনা দফতরের নতুন অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। বর্তমান অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিজ্জুমানকে মিলিটারি ইন্সটিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির নতুন কম্যান্ড্যান্ট করা হয়েছে। এমআইসিটির বর্তমান মেজর জেনারেল মো. নাসিম পারভেজকে পরারাষ্ট্র মন্ত্রকে বদলি করা হয়েছে। রদবদলের অংশ হিসেবে ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি এবং রংপুর এরিয়া কম্যান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কামরুল হাসানকে ঢাকা সেনানিবাসের লজিস্টিক এরিয়ার জিওসি এবং এরিয়া কম্যান্ডার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা সেনানিবাসের লজিস্টিক এরিয়ার প্রাক্তন প্রধান মেজর জেনারেল মুহাম্মদ মোস্তাগাইসুর রহমান খান অবসর নিয়েছেন।
এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি পুলিশ প্রশাসন রদবদল ঘটান তারেক রহমান। আইজিপি পদ থেকে বাহারুল আলমকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের মধ্যে দিয়ে সেটা পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। বিডিআর হত্যাকাণ্ডের যারা জড়িত বলে অভিযুক্ত, তাদের একটি নামের তালিকা প্রকাশ্যে এসেছে। সেই তালিকায় নাম রয়েছে পুলিশের মহানির্দেশক বাহারুল আলমের। এই প্রসঙ্গে তদন্ত কমিশনের প্রধান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ. ল. ম. ফজলুর রহমান বলেন, তদন্তে যে পাঁচ পুলিশকর্তার নাম রয়েছে, তাঁদের মধ্যে একজন বাহারুল আলম। ঘটনার সময় তিনি এসবির কর্মকর্তা ছিলেন। স্পর্শকাতর ওই প্রতিবেদনে আইজিপির নাম আসার পর থেকেই প্রশাসনের ভিতরে নানা আলোচনা শুরু হয়। অনেকে বলছেন, তারেক রহমান আগে থেকেই বাহারুল আলমকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে মনস্থির করে ফেলেন। তিনি শুধু সময়ের অপেক্ষা করছিলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং পুলিশের একাধিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে বাহারুল আলমে বিদায়ঘণ্টা বেজে গিয়েছে। তাঁকে একটি বিদায়ী সম্বর্ধনার মাধ্যমে সরিয়ে দেওয়ার পাকা ব্যবস্থা হয়ে গিয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, বাহারুল আলম তারেক রহমানের কাছে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। এছাড়া বিএনপির প্রাক্তন সাংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন পিন্টুর কারাগারে মৃত্যুর পিছনে এই বাহারুল আলমের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ। পিন্টু স্মৃতিসংঘের লাগাতার আন্দোলন পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করেছেন।
দীর্ঘ ১৮ মাসের প্রশাসনিক অস্থিরতা ও সেনাবাহিনীর ভিতরে টানাপোড়েন। যার অবসান ঘটিয়ে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ফিরে পেলেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ্জামান। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সমান্তরাল শাসনব্যবস্থা তিনি ভেঙে দিয়েছেন। শীর্ষপদে এনেছেন রদবদল। এর মাধ্যমে তিনি কম্যান্ড পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন জেনারেল ওয়াকার। সম্প্রতি ভারতের একটি দৈনিক নর্থ ইস্ট নিউজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নিয়ে একটি খবর প্রকাশ করে। সেই খবরে বলা হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সেনাবাহিনীর ওপর একটি বিকল্প তদারকি ব্যবস্থা চাপিয়ে দিয়েছিলেন সেই সরকারে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। এই সময়ে এনএসএ এবং সশস্ত্র বাহিনীর পিএসও সেনাসদরে বার বার হস্তক্ষেপ করতেন। বিশেষ করে পদন্নোতি, বদলি এবং সামরিক কেনাকাটায়। অবশেষে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর এই দ্বৈত শাসনের অবসান ঘটে। জেনারেল ওয়াকারা বাহিনীর শীর্ষস্তরে বড়ো ধরনের রদবদল করেছেন। এর ফলে বাহিনীর শীর্ষপদে জামাতের প্রভাব অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও এখনও একটি বড়ো বাধা রয়ে গিয়েছে। লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফয়জুর রহমান এখন তাঁর পদে বহাল রয়েছেন। সেটাই সেনপ্রধান ওয়াকারে পথের কাঁটা।












Discussion about this post