২৬ মার্চ বাংলাদেশের ইতিহাসের সব থেকে আবেগঘন দিন। লাল-সবুজ পতাকা, জাতীয় সংগীত, সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মানুষের ঢল। সব মিলিয়ে এক অনন্য আবহ। তবে এবার স্বাধীনতা দিবসকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে জমছে টানটান উত্তেজনা। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগ না কি দিনটিকে কেন্দ্রে করে তারা তাদের সাংগঠনিক উপস্থিতি জানান দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। যদিও আইনশৃঙ্খলাবাহিনী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে নিষিদ্ধ দলের প্রকাশ্য কার্যক্রমের কোনও সুযোগ নেই। তাহলে কী ঘটতে যাচ্ছে ২৬ মার্চ? আবেগ, আইন, রাজনীতি আর কৌশলের এই জটিল খেলায় কার চাল, কতটা গভীর।
২৬ মার্চ নিছক জাতীয় দিবস নয়। দিনটি বাংলাদেশবাসীর আত্মপরিচয়ের দিন। এমনদিনে রাজনৈতিক উপস্থিতি মানেই প্রতীকি শক্তির প্রদর্শন। সূত্র বলছে, ২৬ মার্চ আওয়ামী লীগ সাভারের জাতীয় সৌধে ফুল দিয়ে এক ধরনের প্রত্যাবর্তনের বার্তা দিতে চায়। লক্ষ্য জাতীয় আবেগকে ব্যবহার করে জনসমর্থনের একটি নরম মাটি তৈরি করা। কিন্তু প্রশ্ন হল এটি কি নিছক শ্রদ্ধা নিবেদন? না কি সুদূর প্রসারী রাজনৈতিক রিহার্সাল? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন আবেগঘন দিনে উপস্থিতি মানে সরাসরি সংঘর্ষ নয়। বরং Moral legitimacy তৈরি করা। অর্থাৎ জনগণের সহানুভূতি অর্জন করে ভিত্তি গডা়। মাঠ পর্যায়ে আওয়ামী লীগের অফিস খোলা যেন সেই নীরব শক্তির প্রদর্শন। দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় পরিত্যক্ত বা সিল দেওয়া দলীয় কার্যালয় প্রতীকীভাবে খোলার চেষ্টা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ইতোমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের বিভিন্ন ভিডিও। নিউজ বর্তমান সেই সব ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি। সেই সব ভিডিওতে দেখা গিয়েছে কোথাও পতাকা উত্তোলনের চেষ্টা, কোথাও ঝটিকা মিছিল বা ভোর বেলা কয়েক মিনিটের অবস্থানকর্মসূচি। প্রশ্ন উঠছে এগুলি কি স্বতস্ফূর্ত? না কি কেন্দ্রীয় কোনও সমন্বিত বার্তার অংশ?
গোয়েন্দাসূত্র বলছে ২৬ মার্চের আগে অন্তত একবার করে প্রতিটি জেলায় উপস্থিতির বার্তা দিতে চায় আওয়ামী লীগ। এর রাজনৈতিক অর্থ হল, সংগঠন পুরোপুরি ভেঙে যায়নি। এটা মনস্তাত্ত্বিক খেলা। রাজনীতিতে অস্তিত্ব আছে- এই বার্তাই অনেক সময় বড়ো শক্তি। ভারতে অবস্থানরত দলীয় শীর্ষনেতৃত্ব অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বার্তা দিতে পারেন বলে রাজনৈতিকমহলে একাংশ মনে করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী মাঝারি ও তৃণমূল পর্যায়ের কিছু নেতা দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ বা গ্রেফতার হতে পারেন। বিশ্লেষকদের মতে এটি একটি কৌশলগত চাল। গ্রেফতার হলে কারাগার, আদালত, পরিবার – সব মিলিয়ে তৈরি হয় আবেগঘন দৃশ্যপট। মিডিয়ায় মজলুম ইমেজ তৈরি করা সহজ হয়। রাজনীতিতে Victim narrative একটি অত্যন্ত শক্তিশালী অস্ত্র। ইতিহাস বলছে, দমনপীড়নের অভিযোগই অনেক সময় সংগঠনকে মজবুত করেছে, পুনরুজ্জীবীত করেছে। তবে ঝুঁকিও কম নয়। আইনিভাবে নিষিদ্ধ অবস্থায় মাঠে নামা সরাসরি সংঘর্ষ ডেকে আনতে পারে। সম্প্রতি এক ছাত্রলীগ নেতাকে ঘিরে তৈরি হওয়া আবেগঘন প্রচার নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর নজরে এসেছে। অভিযোগ, কিছু গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্দিষ্ট বয়ান তৈরি করে একটি মানবিক ইমেজ দাঁড় করানো হয়।
এখানেই মূল প্রশ্ন? এটা কি বিচ্ছিন্ন ঘটনা? না কি বৃহত্তর narrative তৈরির ট্রায়াল রান? রাজনীতিতে মিডিয়া একটি বড়ো যুদ্ধক্ষেত্রে। যে দল মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, সেই দল মাঠেও ভালো রাজনীতি করতে পারে। ২৬ মার্চকে সামনে রেখে যদি আবেগ, মানবিকতা ও জাতীয়তাবাদের মিশ্রণ তৈরি হয়, তবে তা জনমনে প্রভাব ফেলতে পারে। হাসিনা মঙ্গলবার ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক ডাকেন। বৈঠক হয়েছে ভার্চুয়াল। দলের শীর্ষনেতারা সোমবারের ভার্চুয়াল বৈঠকে হাজির ছিলেন। বৈঠকে হাসিনা বলেন, আওয়ামী লিগ এমন কোনও অপরাধ করেনি যে কারণে সন্ত্রাস দমন আইনে তাদের কার্যক্রমের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা যায়। দুই. মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার ছিল অবৈধ সরকার। সেই সরকারের নির্দেশ কখনই বৈধ হতে পারে না। বিএনপি সরকারের নাম না করে হাসিনা বলেন, আমরা আশা করব বর্তমান সরকার এই অবৈধ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে। যদি না করে তখন আমরা আমাদের মতো করে সিদ্ধান্ত করব। কর্মসূচি ঘোষণা করব।












Discussion about this post