বাংলাদেশের সেনা বাহিনীর শীর্য পর্যায়ে বড়ো ধরনের রদবদল হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পাঁচদিনের মধ্যে প্রথম দফায় এবং ১০ দিনের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় সেনাবাহিনীর শীর্যপর্যায়ে বড়ো ধরনের রদবদল ঘটল। প্রথম দফায় ২২ ফেব্রুয়ারি সেনাবাহিনীর ছয় কর্মকর্তাকে বদলি করার পর ২৬ ফেব্রুয়ারি আরও ছয় কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সেনা সদর থেকে এই রদবদল নিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। এই রদবদল একটি রুটিন প্রক্রিয়া। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের পরে পরে বাহিনীতে দু দফায় রদবদল নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলে এই নিয়ে শুরু হয়েছে গুঞ্জন। বিশেষ করে মুহাম্মদ ইউনূসের আমলে সেনাবাহিনীর শীর্ষপর্যায়ের একটি পক্ষের সঙ্গে সরকারের দূরত্ব ছিল ওপেন সিক্রেট। বাহিনীতে ইউনূসে যারা ঘনিষ্ঠ ছিলেন, তাদের অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলি করা হয়েছে। কাগজে কলমে তাঁরা চাকরিতে বহাল থাকলেও তাদের এমন জায়গায় পোস্টিং দেওয়া হয়েছে যেগুলিকে বলা হয় punishment posting. আবার সেনাবাহিনীর এমন বদলির সঙ্গে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক শক্তিগুলির প্রভাবের সঙ্গে সম্পর্ক আছে কি না, সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সেনা সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরে পরে যেভাবে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ঢেলে সাজাচ্ছেন, তাতে একটি বিষয় পরিষ্কার। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে তিনি সেনাবাহিনীর রাশ শক্তহাতে ধরার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। আর তিনি সেটা করছেন ইউনূস প্রশাসনের ঘনিষ্ঠদের বাদ দিয়ে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশাসনিক এবং নীতি নির্ধারনী পর্যায়ে সেনাপ্রধান বা চিফ অব আর্মি স্টাফ বাহিনীর সর্বোচ্চ পদ। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদটি হল কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) । সর্বশেষ রদবদল অনুযায়ী, এনডিসির কম্যান্ড্যান্ট হিসেবে এতোদিন দায়িত্ব পালন করে এসেছেন মোহাম্মদ শাহীনুল হক। তাঁকে বদলি করা হয়েছে কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল পদে। অপরদিকে, কিউএমজি দায়িত্ব পালন করে আসা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমানকে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের (এনডিসি) কম্যান্ড্যান্ট হিসেবে বদলি করা হয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ফয়জুর রহমান কিছুদিন ডিজিএফআইজ-তে ছিলেন। তারপর কিউএমজি হিসেবে দায়িত্ব নেন। নতুন সরকারের আমলে লেফটেন্যান্ট জেনারেল রহমানকে কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল পদ থেকে সরিয়ে এনডিসির কম্যান্ড্যান্ট করা হয়েছে। নতুন কিউএমজি শাহীনুল হক একসময়ে সিজিএস ছিলেন। তিনি সেনা সদর দফতরের এমজিও হিসেবেও একসময় দায়িত্ব পালন করেন।
বাংলাদেশের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ এবং ক্ষমতাধর পদটি হল সিজিএস। সেনাবাহিনীর অপারেশন, গোয়েন্দা তথ্য ও প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়ে প্রধান তিনি। ২২ ফেব্রুয়ারি সেনা সদর থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কম্যান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাইনুর রহমানকে বাহিনীর সদর দফতরের সিজিএস করা হয়েছে। পরের গুরুত্বপূর্ণ পদটি হল প্রিন্সিপ্যাল স্টাফ অফিসার পদ। সাধারণত সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রধান হিসেবে তিনি কাজ করেন। এই পদে যিনি বসেন, তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে থাকেন। অধ্যাপক ইউনুসের আমলে সশস্ত্র বাহিনীর বিভাগের প্রিন্সিপ্যাল স্টাফ অফিসার ছিলেন এস এম কামরুল হাসান। জনশ্রুতি আছে এই কামরুল হাসান ইউনূসের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। বাহিনীতে ইউনূসের প্রভাব বিস্তার করতে তাঁর একটা সক্রিয় ভূমিকা ছিল। তাকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রকে বদলি করে দেওয়া হয়েছে। সামরিক বাহিনীর শীর্ষকর্মকর্তাদের রাষ্ট্রদূত হিসেবে না পাঠিয়ে কেবলমাত্র পররাষ্ট্র মন্ত্রকে পাঠিয়ে দেওয়া এক ধরনের punishment posting। এটা অনেকটা দফতরবিহীন কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচিত হয়।
পদোন্নতি পেয়েছেন দিল্লিতে বাংলাদেশে হাইকমিশনের কর্মরত এক সেনাকর্তাও। বাংলাদেশ সেনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান এতোদিন দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে কর্মরত ছিলেন। তাঁকে পদোন্নতি দিয়ে মেজর জেনারেল করা হয়েছে। বাংলাদেশ সেনার ৫৫ তম ডিভিশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।












Discussion about this post