নতুন সরকার আসলেই কি সব ধরনের মব সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে প্রস্তুত? না কি নিজেদের বিরুদ্ধে থাকা মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করতে সক্ষম হবে? বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের ঘটনার পর এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া জরুরী হয়ে পড়েছে। মব সংস্কৃতির অবসানের জন্য সব ধরনের আন্তরিক প্রচেষ্টার প্রয়োজন রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) যে পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে, তা বর্তমান সরকার সমর্থিত মব-কালচারের আনুষ্ঠানিক সূচনা বলে মনে হচ্ছে। ইউনূস বিদায় নিয়েছেন, তারেক এসেছেন। কিন্তু মব সংস্কৃতির অবসান ঘটেনি। এর অবসানের জন্য চাই দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা, নিরপেক্ষ আইনের শাসন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। না হলে শুধু মুখের কথায় মব কালচার শেষ ঘোষণা করলেই এই সমস্যার সমাধান হবে না। বরং এটি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। ড. ইউনূসের ১৮ মাসের শাসনামলে দেশ পরিণত হয়েছিল মবের রাজত্বে। তার ভয়াবহ দুঃশাসনের অবসান হয় ইতিহাসের কুখ্যাত ভোট জালিয়াতির মধ্য দিয়ে। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ রেখে একতরফা নির্বাচনে বিএনপিকে জয়ী করার তামাসা এখন সারা দেশে পরিষ্কার। তারপরেও অনেকে ভেবেছিলেন এবার হয়তো সরকার মবের রাজনীতিতে লাগাম দেবে। কিন্তু সেই আশায় গুড়ে বালি পড়তে এক সপ্তাহ সময় লাগেনি। বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন বলেছিলেন, দেশে কোনও মব কালচার থাকবে না।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনস্থ সব দফতর এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে তিনি বৈঠক করেছিলেন। বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ আমাদের সরকারের অগ্রাধিকারগুলির মধ্যে প্রথম অগ্রাধিকার হচ্ছে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন করা। সেই সঙ্গে জনগণের শান্তি ও স্বস্তি প্রদান করা। সেই লক্ষ্যে আমরা কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি। একটা হচ্ছে ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে যে সব আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল, সেই সব লাইসেন্স আমরা আবার ভেরিফিকেশন করব। এটা যথাযথ হয়েছে কি না এবং এমনও আছে কিছু কিছু লাইসেন্সই আছে হয়তো অস্ত্র ক্রয় করেনি সেরকম সংখ্যা কিছু থাকতে পারে। আমরা আশা করি এই কাজটা খুব দ্রুততার সঙ্গে আমরা করতে পারব। কারণ এ লাইসেন্সধারী কারা এবং তাদের যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে কিনা, তারা লাইসেন্স পাওয়ার উপযুক্ত কিনা আইন অনুসারে সেগুলো সবই যাচাই-বাছাই করা হবে। এগুলো স্ক্রুটিনি করার পরে কি পরিমাণ লাইসেন্স যোগ্যতা আছে তাদের লাইসেন্স বহাল রাখা সেই পরিমাণে বহাল রাখবো।”
অথচ বাস্তবে দেখা গেল মব কালচার বহাল তবিয়তে রয়েছে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে চাঁদা না দেওয়ায় লেগুনাচালক নুরে আলম ওরফে খায়রুল ইসলাম (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার যাত্রাবাড়ী সুফিয়া গার্মেন্টসের সামনে এ ঘটনা ঘটে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তার মৃত্যু হয়। নিহত লেগুনাচালক নুরে আলম শরীয়তপুরের শফিপুর সদরের মোয়াল্লেম সরদারের ছেলে। তিনি মাতুয়াইল এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন। ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার ২৭ ফেব্রুয়ারি। এই ঘটনার ছয়দিন আগে ভাষা দিবেসের দিন শহীদ মিনারে ফুল দিতে বাধা দেওয়া হয় রুমিন ফারহানাকে। তিনি বলেন, ওয়ারেন্ট প্রিসিডেন্স অনুযায়ী নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে ১২টা ১ মিনিটে তাঁরই সবার আগে ফুল দেওয়ার কথা। কিন্তু বিএনপির কিছু নেতাকর্মী তার ও তাঁর সমর্থকদের ওপর রীতিমতো হামলা চালায়। গত বুধবার মব তৈরি করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের উপদেষ্টা আহসান উল্লাহকে বের করে দেওয়া হয়। তৌহিদুল ইসলাম নামে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন অতিরিক্ত পরিচালক উপদেষ্টার ঘাড় ধরে গাড়িতে তোলায় নেতৃত্বও দেন। এর আগে গভর্নর পরিবর্তনের সংবাদ প্রচারিত হওয়ার পর উত্তেজনা বাড়তে থাকলে আহসান এইচ মনসুর বাংলাদেশ ব্যাংক ছেড়ে চলে যান।












Discussion about this post