পুলিশ হত্যার তদন্ত হবে। বিএনপি সরকারের তরফ থেকে সেটা স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে পুলিশ হত্যার তদন্তের দাবি উঠেছিল। একবার নয়, একাধিকবার। যদিও পূর্বতন তদারকি সরকার প্রধান এই বিষয়ে নিশ্চুপ ছিল। তবে নতুন সরকার আসার পর এই ব্যাপারে সবুজ সংকেত মিলেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এবং পুলিশের বিভিন্ন সূত্র বলছে, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুলিশের বিভিন্ন দফতর, পুলিশকর্মীদের ওপর হামলা, তাদের হত্যা নিয়ে ফের আলোচনা শুরু হয়। দেড় বছরেও তদন্ত না হওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেন শীর্ষ মহলের কেউ কেউ। পুলিশের কোনও কর্মকর্তা এই বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করলেও সরকারের সাহায্য পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ। তবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত ২৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার দুপুরে ঠাঁকুরগাওয় শহরের হাজীপারা হাফেজিয়া মাদ্রাসার নতুন ভবনের উদ্বোধন শেষে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলার সময় সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়টি স্পষ্ট করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, “ জুলাই অভ্যাত্থানে পুলিশ হত্যার তদন্তের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেটা বলেছেন, সেটাই হবে। দ্রুত তদন্ত হবে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা শুনে আসছিলাম ফ্যাসিস্ট সরকারের রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দূর্বল ও অকার্যকর করে ফেলেছিল। নতুন সরকারের সামনে বড়ো চ্যালেঞ্জ হল সে সব প্রতিষ্ঠানকে পুনর্গঠন করা। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং সুশাসনের কাঠামো পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা। ”
তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের বক্তব্য নিয়ে কিছুটা হলেও এই তদন্ত নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের আইনি সুরক্ষা দিতে যে অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়েছিল, সেই অঙ্গীকারনামাময় আমরা সই করেছি। সেই অঙ্গীকারনামার প্রেক্ষিতে আমরা কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তার আলোকেই আমরা যা কিছু সিদ্ধান্ত নেয়ার নেব। একই সঙ্গে জুলাইয়ে নিহত পুলিশের তদন্তের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো বক্তব্য দেননি বলেও জানান তিনি।
বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল বলেন, জুলাইয়ে নিহত পুলিশ সদস্যদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেটা বলেছেন, সে অনুযায়ী চলবে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ ব্যাপারে কিছু বলেছেন? মহাসচিব কেন এ ব্যাখ্যা দিলেন আমি জানি না। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেইনি। আমাদের মহাসচিব কী বলেছেন আমি জানি না। এই প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় যারা নেতৃত্ব দিয়েছে, অংশগ্রহণ করেছে, তাদের আইনি সুরক্ষা দিতে হবে। সাংবিধানিক সুরক্ষা দিতে হবে৷ এসব অঙ্গীকারনামায় আমরা সই করেছি, অঙ্গীকার করেছি। তার আলোকেই আমরা যা কিছু সিদ্ধান্ত নেয়ার নেব।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা আর কতদিন মাঠে থাকবে এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বশস্ত্র বাহিনী কতদিন মাঠে থাকবে উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সেনাবাহিনী নিজেরাও মাঠে থাকতে চায় না। কারণ তাদের প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য কর্মকাণ্ডে সমস্যা হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনশৃঙ্খলার কতটা উন্নতি হয়েছে, তা দেখতে হবে। তবে এই মুহূর্তে বলতে পারছি না মাঠ থেকে সেনাবাহিনী কবে প্রত্যাহার হবে। তবে অবশ্যই এক সময় তোলা প্রয়োজন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটিলিয়নের (র্যাব)নাম ঘোষণা করা হয়। বদলে ফেলা হয় পোশাক। এই বিষয়ে বিএনপির অবস্থান জানতে চাওয়া হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, র্যাবের বিষয়ে জনগণের একটা চাহিদা আছে। জুলাই জাতীয় সনদেও সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের বিষয়ে কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সেই সিদ্ধান্ত হবে বাস্তবতার নিরিখে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, ভারতীয় হাইকমিশনার তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে। নিরাপত্তা ও সীমান্ত হত্যা বন্ধের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। টুরিস্ট ভিসা ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।












Discussion about this post