২৬ ও ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬। বরিশাল, নারায়ণগঞ্জ, কুষ্টিয়া, কক্সবাজার – একটার পর একটা আদালত কক্ষে উচ্চারিত হচ্ছে একটি শব্দ – জামিন মঞ্জুর। সাবেক এমপি জেবুন্নেছাসহ আ’লীগ-যুবলীগের তিন নেতার জামিন মঞ্জুর হয়েছে। বাকিরা হলেন, বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবং বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদের প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন এবং বরিশাল মহানগর যুবলীগের যু্গ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন। জামিন পেয়েছেন তালুকদার ইউনূস জামিন পান। সেলিনা হায়াৎ আইভি আইনি প্রক্রিয়ায় স্বস্তি পাচ্ছেন। কুষ্টিয়ায় হানিফের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা এখন অনেকটাই শ্লথ গতিতে চলছে। এই নামগুলি শুধু ব্যক্তি নন, এরা প্রতীক। কক্সবাজারের আব্দুর রহমান বোদিও জামিন পেয়েছেন।
যে দলটিকে নিয়ে ভাবা হয়েছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে মুছে ফেলা যাবে, সেই দলের কার্যালয় একে একে খুলছে। এখন পর্যন্ত ৭২ টি কার্যালয় খোলা হয়েছে। জামিনে মুক্তি পাচ্ছেন একের পর এক নেতা। এটা কি স্বাভাবিকতা? না কি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা আসলে রিভার্স গিয়ার? আদলতের বক্তব্য পেশ পরিষ্কার। চার্জশিট দূর্বল, অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই। ৫ অগাস্ট পরবর্তী আবেগি গণমামলা আদালতের কাঠগড়ায় টিকছে না। আইনের ভাষায় এটি স্বাভাবিক। কিন্তু রাজনীতির ভাষায় এটিকে বলা যায় মুড চেঞ্জ। ৭২টি কার্যালয় খুলে নীরব প্রত্যাবর্তন আওয়ামী লীগের। একসময় তালাবন্ধ ছিল যে অফিসগুলো- জেলা, মহানগর, উপজেলা পর্যায়ে আওয়ামী লীগের ৭২টি কার্যালয় খুলে গিয়েছে। রাজনীতিতে কার্যালয় মানে শুধু ভবন নয়। এটা সংগঠন পুনর্গঠন, মাঠ দখল, বার্তা দেওয়া। আর সেই বার্তা হল, আমরা ছিলাম, আমরা আছি, আমরা থাকব। রাজশাহি রেঞ্জের ডিআইজি মহম্মদ শাহজানের নির্দেশনা পরিষ্কার। মাঠে নামলে অন্য মামলায় পুনরায় গ্রেফতার করতে হবে। অর্থাৎ প্রশাসন পুরোপুরি নরম নয়। প্রশ্ন উঠছে, আদালত বারবার জামিন দিলে প্রশাসনিক কড়াকড়ি কতদিন টিকবে। এখানেই তৈরি হচ্ছে দ্বিমুখী বাস্তবতা।
আদালত বলছে পাকাপোক্ত প্রমাণের অভাবেই অভিযুক্তের জামিন মঞ্জুর করতে হচ্ছে। প্রশাসন বলছে, সক্রিয় হলে আবার গ্রেফতার। আর রাজনীতি বলছে, পর্দার আড়ালে কিছু চলছে কি? এদিকে, রাজনীতির পাড়ায় সমঝোতার গুঞ্জন। বিএনপি কি কৌশলগতভাবে আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান মেনে নিচ্ছে? ধারণার দুটি কাজ করতে পারে এই ক্ষেত্রে। সরকার কিম্বা বড়ো দলগুলি ভাবছে সম্পূর্ণ নির্মূলের রাজনীতি বডো অস্থিরতা তৈরি করে। অপরদিকে, একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চাইলে বড়োদলকে পুরোপুরি বাইরে রাখা যায় না। কিন্তু বিএনপি কর্মীরা এই বাস্তবাদ মেনে নিচ্ছে। মূল প্রশ্নে যাওয়া যাক।
বিএনপি কি ভালো করছে ? না কি নিজের পায়ে নিজেরাই কুড়ুল মারছে? বিশ্লেষকেরা বলছেন, মাঠের রাজনীতিত বদলে যাবে যদি আওয়ামী লীগ নেতারা মাঠে ফিরতে পারেন। তবে বিএনপির একক আধিপত্যের স্বপ্ন ভেঙে যাবে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা মানে ভোট বিভাজন। কর্মীদের মনেও মানসিক আঘাত। ১৫ বছর জেল-জুলুম সহ্য করা কর্মীরা যদি দেখেন প্রতিপক্ষের কর্মীরা জামিন পাচ্ছন, তবে হতাশা তৈরি হতে পারে। রাজফতে রাজনীতি আবেগ চলে।
তাছাড়া রাজনীতিতে মিডিয়া একটি বড়ো যুদ্ধক্ষেত্রে। যে দল মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, সেই দল মাঠেও ভালো রাজনীতি করতে পারে। ২৬ মার্চকে সামনে রেখে যদি আবেগ, মানবিকতা ও জাতীয়তাবাদের মিশ্রণ তৈরি হয়, তবে তা জনমনে প্রভাব ফেলতে পারে। হাসিনা মঙ্গলবার ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক ডাকেন। বৈঠক হয়েছে ভার্চুয়াল। দলের শীর্ষনেতারা সোমবারের ভার্চুয়াল বৈঠকে হাজির ছিলেন। বৈঠকে হাসিনা বলেন, আওয়ামী লিগ এমন কোনও অপরাধ করেনি যে কারণে সন্ত্রাস দমন আইনে তাদের কার্যক্রমের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা যায়। দুই. মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার ছিল অবৈধ সরকার। সেই সরকারের নির্দেশ কখনই বৈধ হতে পারে না।












Discussion about this post