ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছ সরকার গঠন করেছে। সারা বাংলাদেশজুড়ে তাদের জয়জয়কার চলছে। প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে জামায়াত। ১১টি দলের একটি জোটও রয়েছে। বিরোধীদল হিসেবে তাদের দিন কেমন কাটছে? সার্বিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করলে স্বাভাবিকভাবে এই প্রশ্ন উঠতে পারে। তাদের মধ্য সামান্য হলেও কি ক্ষোভ রয়েছে? তাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হলে বা ক্ষোভ থাকলে, ক্ষমতাসীন বিএনপির জন্য ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথমত বর্তমান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মুক্ত। সুপ্রিমো হাসিনা রয়েছেন দিল্লিতে। দলের বেশ কয়েকজন নেতা রয়েছে কলকাতায়। অনেকে আবার রয়েছেন বিদেশে। শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের পর বিএনপি ক্ষমতা এসেছে। তাদের নেপথ্য শক্তি জুলাই অগাস্টের গণঅভ্যুত্থান। বলা হয়ে থাকে জুলাই-অগাস্ট বিপ্লবের মাস্টারমাইন্ড জামাত। জামাতের যে প্রক্সি দলগুলি ছিল, তারাই আসলে জুলাই-অগাস্ট বিল্পবের নেপথ্য কারিগর। পরবর্তীতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ক্ষমতায় আসীন হওয়ায়, উপদেষ্টামণ্ডলীর ক্ষমতাগ্রহণ – এই সব কিছুর পিছনে ডিপ স্টেটের অবদান ছিল। কিন্তু কার্যত গত ১৭ মাস ধরে অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর আধিপত্য ছিল জামায়াত এবং এনসিপির। তারা যেভাবে নির্বাচনের কথা ভাবছিল, যেভাবে বিজয়ী হওয়ার হিসেব কষছিল তাদের সব হিসেব উলটে গিয়েছে। গত ১৭ মাস তারা বেশ সুখে ছিল। বাংলাদেশে পালাবদলের পর তাদের সুখে থাকার দিন শেষ হয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিকমহল। গত ১৭ মাসে জামাতের বহু গুপ্ত ব্যক্তি যারা বিএনপিতে ছিলেন, আওয়ামী লীগের মধ্যে ছিলেন, ছিলেন সুশীল সমাজেও। এমনকী সরকারেও তাদের বেশ কয়েকজন ছিল। তারা ইউনূস জমানাতে এসে তাদের আদিরূপে আত্মপ্রকাশ করলেন। সরকারের বহু জায়গাতে তারা লোভনীয় পদে, সম্মানজনক পদে আসীন হন। বলা যেতে পারে পূর্বতন সরকারের বদান্যতায় তারা এই সব পদ আর সম্মান পেয়েছে। কিন্তু বিএনপি সরকার আসার এই সব পদে জামাতের আধিপত্য অনেকটাই ক্ষুণ্ণ হয়েছে। অনেককে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেকের চাকরি যায় যায় অবস্থা। আগামীদিনে অনেকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে ইউনূসে উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগে মামলা রুজু হতে পারে। বিশেষ একটি পক্ষ তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য মুখিয়ে রয়েছে। সুশীল সমাজের অনেকেই এই সব উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের চিন্তাভাবনা করছেন। এই মামলা মোকদ্দমা হলে জামাতের অনেকে জড়িয়ে যেতে পারেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রান্তে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে। এটিকে বিপ্লবের অপরিহার্য অংশ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। মামলা হলে অনেকেই ফেঁসে যেতে পারে। জুলাই যোদ্ধাদের মামলা থেকে রক্ষা করতে তদারকি সরকার যে রক্ষাকবচ জারি করেছিল, বিএনপি সরকার সেটা সংসদে পাশ না করালে তাদের গ্রেফতারের সম্ভাবনা আরও বাড়বে। জামাতের শীর্ষনেতারাও সেটা জানেন। তাই, তারা খুব একটা সুখে নেই বলেই বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। তাদের মধ্য কাজ করছে। তারা কতটা মানসিক চাপে আছে, সেটা বোঝা যায় জামায়াতের আমির শফিকুরকে দেখে। তিনি আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়লেন। হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করতে হয়। অন্যদিকে, হাসনাত-সারজিসরা তারাও স্বস্তিতে নেই। তাদের বিরুদ্ধে উঠছে দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ। এই সব তরুণ তুর্কি নেতাদের বিরুদ্ধে অনেকে মামলা করার কথা চিন্তা করছেন। বলা হচ্ছে, ২৪-য়ের জুলাই-অগাস্টে যে মব হয়েছে, সেই মবের মাথা এরা। পরিকল্পিত উপায়ে এরা হত্যালীলা চালিয়েছে। এরা আন্দাজও করতে পারেনি যে বাংলাদেশে একদিন পালাবদল হবে। আর তারা পড়বে বিপদে।
এদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি জামাতের সঙ্গে হওয়া তাদের নির্বাচনী জোটকে রাজনৈতিক জোটে পরিণত করার চিন্তাভাবনা করছে।












Discussion about this post