আগামী ১২ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য প্রথম সংসদ অধিবেশনে দেশের রাজনৈতিক উত্তাপ ফের একবার নতুন করে ধরার মুখে। বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বর্তমান রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পু বহু বিবাদের কেন্দ্রে আবারও দাঁড়াতে পারেন যখন সংসদে তীব্র রাজনৈতিক হিংসা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। সরকারি পরিকল্পনা অনুসারে এই অধিবেশন মূলত ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব অনুমোদন ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইনি সিদ্ধান্তের জন্য ডাকা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক মহলে চলছে এমন গুঞ্জন যে, আগের মতো পাল্টাপাল্টি ধাওয়া–দৌড়া ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বিরোধীরা আবারও মঞ্চে নামতে পারে, যার ফলশ্রুতিতে রাষ্ট্রপতির কক্ষে পর্যন্ত হট্টগোল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ এনসিপি বলছে, তারা ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নিযুক্ত রাষ্ট্রপতিকে কোনওভাবেই ভাষণ দিতে দেবে না। ফলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন, রাষ্ট্রপতি মবের শিকার হতে পারেন।
দু তিন দিন আগে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছিলেন, রাষ্ট্রপতিকে ইম্পিচমেন্ট করতে হবে। তাকে সরিয়ে দিতে হবে। এমনকি আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলছেন, রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দিতে হবে। তিনি বলছেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণ দিয়ে কোনওভাবেই সংসদে অধিবেশন শুরু করা যাবে না। অথচ সংবিধান বলছেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণ দিয়েই সংসদে অধিবেশন শুরু হবে। সেক্ষেত্রে বিএনপি এখন কি করবে?
বিএনপি সরকার গঠন করার পর বলেছিল, তারা সরকারে এসেই পুলিশ হত্যার বিচার করবে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, সেটার কোনও উচ্চবাচ্য নেই। এদিকে যখন রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে নানা আলোচনা, তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সংবিধান মেনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দিয়ে সংসদ শুরু হবে। কিন্তু ১২ই মার্চ আসতে এখনও কয়েকদিন বাকি রয়েছে। এরমধ্যে এই সিদ্ধান্তেই কি অটল থাকবে?
এদিকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি-জাতীয় জোটের চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত সপ্তাহে এক বিবৃতিতে বলেছেন, হিংসা ছাড়া বাংলাদেশে রাজনৈতিক শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। ১২ই মার্চ সেটিই প্রমাণিত হবে। এই মন্তব্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এমন ভাষণ বিরোধীদের মনোবল শক্ত করেছে বলেও মত রয়েছে।
অন্যদিকে, দেশের কার্যকরী রাষ্ট্রপ্রধান শাহাবুদ্দিন চুপ্পু পরিস্থিতি শান্ত রাখার জন্য সংসদীয় নেতৃত্ব ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে জরুরি আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। রাষ্ট্রপতির সভাকক্ষে ইতোমধ্যেই নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনঃসমীক্ষা ও সংশোধনী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে রাষ্ট্রপতিকে নিরাপদ কক্ষে সরিয়ে নেওয়ার জন্য পরিকল্পনাও প্রণয়ন করা হয়েছে।
রাজনৈতিক তরুণরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মব এবং রাষ্ট্রপতি হ্যাশট্যাগে আলোচনা জোরদার করেছে। অনেকে মনে করছেন, ১২ মার্চ দেশে এক নতুন রাজনৈতিক সংঘাতের সূচনা হতে পারে, যখন কিছু দল পুনরায় সক্রিয় আন্দোলনের ইঙ্গিত দিয়েছে। আবার কিছু পর্যবেক্ষক সতর্ক করে বলছে, এটা দেশজুড়ে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই হতে পারে। তা অনাকাঙ্ক্ষিত বিশৃঙ্খলার শাখা না হয়ে।
তবে সরকারের পক্ষ থেকেও বার্তা ইতোমধ্যেই পরিষ্কার করা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী দেশকে অনিশ্চয়তার দিকে নিয়ে যেতে দেবেন না। নিরাপত্তা বাহিনী সঠিক নির্দেশনার আওতায় থাকবে এবং সংসদ সদস্যদের অভ্যন্তরীন কার্যক্রমকে অটল রাখার পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
পরিবর্তনের বাংলাদেশ আবার নতুন করে অশান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ১২ই মার্চ সংসদ অধিবেশনেই দেখা যাবে, আদতে সেদিন রাষ্ট্রপতি স্বাভাবিকভাবেই ভাষণ দিতে পারেন নাকি তাঁকেও মবের শিকার হতে হয়!












Discussion about this post