এ যেন কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরোনোর উপক্রম।বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদল হতেই প্রকাশ্যে আসছে ইউনূস আমলের বিশাল বিশাল পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতির খসড়া। অল্পবিস্তর নয়, পদের অপব্যবহার করে কয়েক হাজার কোটির আর্থিক তছরূপের অভিযোগ উঠল প্রাক্তন উপদেষ্টা তথা ছাত্রদের দল এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইঞার বিরুদ্ধে। অভিযোগ, উপদেষ্টা পদে থাকাকালীন তিনি বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং পদের যথেচ্ছ অপব্যবহার করে লুট করেছে বাংলাদেশের টাকা। আর এই অভিযোগ ভারত থেকে নয়, বাংলাদেশ থেকেই উঠছে সরকারিভাবে। তিনদিনের মধ্যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের যাবতীয় তথ্য পেশ করার নির্দেশে তাঁকে নোটিস পাঠিয়েছে বাংলাদেশের ফিনান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিট বা বিএফআইইউ। তাকে চ্যালেঞ্জ করে আসিফ মাহমুদ অবশ্য আবার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেব।’সে উনি মুখে যাই বলুক না কেন কিছু ঘটে তবেই তো কিছু রটে। ঘটনাক্রমে ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের জেরে বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হন নোবেলজয়ী মহম্মদ ইউনূস। তাঁর অধীনে বিভিন্ন মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলানোর জন্য বসানো হয় অন্যান্য উপদেষ্টাদের। তার মধ্যে অন্যতম ছাত্রদলের নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইঞা ছিলেন অন্যতম। ইউনূসের আস্থাভাজন এই ছাত্রনেতাকে দেওয়া হয় যুব, ক্রীড়া, শ্রম, কর্মসংস্থান মন্ত্রকের উপদেষ্টার পদ। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত পদে ছিলেন আসিফ মাহমুদ। তারপর তিনি উপদেষ্টা পদ থেকে ইস্তফা দেন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়বেন বলে। কুমিল্লার একটি আসন থেকে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত প্রার্থী হননি। পরবর্তীতে এনসিপি-র মুখপাত্র হন।
গত মাসে বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদলের পর প্রধানমন্ত্রী হন বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমান। পুরোদমে প্রশাসনিক কাজকর্ম শুরুর পর ক্ষমতা পাওয়ার এক মাসের মধ্যেই প্রাক্তন অন্তর্বর্তী সরকার অর্থাৎ প্রধান উপদেষ্টা মোঃ ইউনূস ও তার উপদেষ্টা মহলের পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতির হদিশ পান। অভিযোগ, উপদেষ্টা পদে থাকাকালীন বিলাসবহুল জীবনযাপন করতে প্রচুর অর্থ ব্যয় করেছে সজীব ভুঁইঞা। বাংলাদেশের ফিনান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিট বা বিএফআইইউ সজীব ভুঁইঞার বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তুলে নোটিস পাঠায়। তিনদিনের মধ্যে তাঁকে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত খতিয়ান পেশ করতে বলা হয়েছে। তাতে পালটা প্রাক্তন উপদেষ্টা ফেসবুকে লেখেন, ‘আগামিকাল আমি নিজেই ব্যাংক স্টেটমেন্ট সবার জন্য উন্মুক্ত করবো। পদত্যাগের আগে আয়-ব্যয়ের হিসেব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে দিয়ে এসেছি।’ এখন দেখার কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিএফআইইউ।জানা গিয়েছে, দেশের ৫৬টি তফসিলি ব্যাঙ্ক ও অন্যান্য নন-ব্যাঙ্কিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এই সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে আসিফের নামও। আগামী তিন দিনের মধ্যে আসিফকে তাঁর নামে থাকা সব ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য চেয়ে পাঠানো হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন আসিফ। ছাত্রজীবনে ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি ছিলেন। হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে কোটা আন্দোলনে বাংলাদেশ যখন উত্তাল, সেই সময়ে ছাত্র নেতৃত্বের প্রথম সারিতে উঠে এসেছিল আসিফের নাম। তারপর থেকেই আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি আসিফকে রাতারাতি বদলে যায় তার জীবন যাত্রা।ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন তাঁকে ‘অপহরণ’ করা হয়েছিল বলে দাবি করেছিলেন আসিফ। তাঁকে বন্দি করে ‘বিশেষ ইঞ্জেকশন’ দেওয়া হয়েছিল বলে গুরুতর অভিযোগ করেছিলেন আসিফ। এমনকি, ‘বন্দি’ অবস্থায় তাঁকে আন্দোলন প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন এই ছাত্রনেতা। এই সবের পিছনে হাসিনা প্রশাসনের হাত ছিল বলে অভিযোগ। যদিও রাজনৈতিক মহলের এক অংশ দাবি করছেন। আসিফ রাতারাতি তার রাজনৈতিক কেরিয়ারে উন্নতির জন্যই এইসব পন্থার অবলম্বন করেছেন। আর সেই অনুযায়ী নিজের জীবন এবং অর্থনৈতিক উন্নতিও ঘটিয়ে ফেলেছিলেন রাতারাতি। বর্তমানে বাংলাদেশে তারেক রহমানের সরকার এক মাসের মধ্যেই ক্ষমতায় এসেই আসিফের দুর্নীতির পর্দা ফাঁস হতে চলেছে। এখন দেখার বিষয় ভবিষ্যতের পদক্ষেপ আসিফকে মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে কোন পথে নিয়ে যায়।












Discussion about this post