ইরান কি কিছু লুকোচ্ছে গোটা বিশ্বের কাছে। যে দেশটির ধর্মীয় প্রধান সেনাপ্রধান সহ প্রথম সারির সবার মৃত্যুর পর, দেশটির মনবল ভেঙে পড়ার পরিবর্তে তারা শুধু ইজরায়েল আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে এমন নয়, সঙ্গে আরও মুসলিম দেশগুলির বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে, যারা এই যুদ্ধে চুপ আছে, অথবা পরোক্ষ অথবা প্রত্যক্ষভাবে আমেরিকাকে সাহায্য করছে। তবে বিষ্ময়ের ব্যাপার হল, আরবের ধনী এবং ক্ষমতাশীল দেশগুলি ইরানের আঘাত চুপচাপ সহ্য করতে বাধ্য হচ্ছে। কারণ তারা পড়েছে উভয় সঙ্কটে। যদি ইরানের বিরুদ্ধে গিয়ে যুদ্ধে নামে, তবে ইরানের আঘাত আরও তীব্র হতে পারে, কারণ তারা জানে তাদের ঐশ্বর্য্য এবং চাকচিক্য পূর্ণ্য জীবন যাপনের যে মূল ভিত্তি তা হল তেল, কিন্তু তার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হল সমুদ্রের জলকে শোধন করার প্রযুক্তি। যেখানে ইরান হামলা করলে, ঐ মরু শহরগুলি জীবন যাপনের অযোগ্য হয়ে যাবে। এছাড়া তারা ইরানকে আক্রমন করলে মুসলিম বিশ্বের কাছে অন্য বার্তা যাবে। ফলে তাদের রাজপাট আর টিকবে না। যদি আমেরিকার বিরুদ্ধে যায় আরব দুনিয়া, তাহলেও তাদের বিপদ, একতো তাদের সব সমরাস্ত্র আমেরিকা থেকে নেওয়া। ফলে সেগুলি ব্যবহার এবং যোগানে যেমন বাঁধা আসবে তেমন আবার ট্যেরিফের ভয়। ফলে তাদের ডাঙায় বাঘ আর জলে কুমিরের অবস্থা। তবে এই যুদ্ধের ফলে, হরমুজ প্রনালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে ভারতের জন্য অনেক কঠিন পরিস্থিতি হতে পারে, যদিও রাশিয়া ভারতের পাশে থেকে আশ্বস্ত করেছে যে তারা ভারতের জ্বালানির ঘাটতি হতে দেবে না। যে কোন পরিস্থিতিতে তারা ভারতে জ্বালানি সরাবরাহ চালিয়ে যাবে। যদিও ভারত বলছে তাদের তেলের যোগান মজুত আছে, কিন্তু সেটি কতদিনের। যেখানে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান চার সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।যদিও চার সপ্তাহের জায়গায় চার বছরও হতে পারে, যেমন হচ্ছে রাশিয়া ইউক্রেনের যুদ্ধ। তাছাড়া ট্রাম্প যতই বলুক ইরান কথা বলতে চাইছে। আসলে ইরান হয়তো আর তাদের ধর্মীয় নেতার মৃত্যুর পর আর কথা বলার বিষয়ে আগ্রহী হবে। কারণ তাদের যেমন অস্ত্রভান্ডার আছে তেমনই চীন এবং রাশিয়া থেকে আসছে অস্ত্রের যোগান।যদিও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে প্রয়োজনীয় সব করার অঙ্গীকার করেন ট্রাম্প।
কাতার ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান প্রায় চার সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে ওয়াশিংটন যা প্রয়োজন তাই করবো।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালায় ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনী। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, সেনাপ্রধানসহ প্রায় অর্ধশত শীর্ষ নেতা নিহত হন।
ইসরায়েলি-মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে ইরানও পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা তেলআবিবের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।
ইরানি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় এখন পর্যন্ত ইরানে অন্তত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। আক্রান্ত স্থাপনার মধ্যে হাসপাতাল, স্কুলসহ অনেক বেসামরিক স্থাপনা রয়েছে। এর মধ্যে মেয়েদের একটি স্কুলে হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দেড়শ ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।
অন্যদিকে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলায় ইসরায়েলে ১০ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ১২১ জন। আর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা আঘাতে আরব আমিরাতে ৩ জন, কুয়েতে ১ জন, বাহরাইনে ১ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশিও আছেন।












Discussion about this post