২০২৪ সালে গণঅভ্যুথানের জেরে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে যান। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে যাপার পর ওই বছর ৮ ই অগস্ট মহম্মদ ইউনূস ক্ষমতায় বসে। ইউনূস ক্ষমতায় বসে একের পর এক কাজ করে গেছে। তবে সেটা নিজের দেশের মানুষের জন্য না সেটা নিজের স্বার্থের জন্য। নিজের কীসে ভালো ভালো হবে সেইগুলো বরাবর দেখেছে অন্তবর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা। দেশের মানুষের ভালো করার বদলে তিনি শুধু খারাপ টাই করেছে। তরুণ সমাজের কীভাবে উন্নতি হবে সেই দিকে ইউনূস একবারের জন্য দেখেনি। প্রশাসনিক আমলাদের ক্ষেত্রেও তিনি কোনও বদল আনেনি। যারা করেনি অন্যায় তারা পেয়েছে দিনের পর দিন শাস্তি। যারা করেছে অন্যায় লোকেদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে তারা বাংলাদেশে খোলা মাঠে ঘুরে বেরিয়েছে। ইউনূস তাদের বিরুদ্ধে কোনও রকম ব্যবস্থা নেয়নি। অনেক ঘটনা ঘটে যাবার পর বাংলাদেশে নির্বাচন হয়। সেই নির্বাচনে বিএনপির সরকার ক্ষমতায় আসে। অন্তবর্তীকালীন সরকারের হয় অবসান। তাতে কিন্তু ইউনূস ক্ষুদ্ধ। তিনি চেয়েছিলেন জনগণ তাকেই ভোট দিক তিনি আগামী ৫ বছর ক্ষমতায় থেকে বাংলাদেশকে একেবারে খারাপের দিকে নিয়ে যাবে। কিন্তু সেগুড়ে বালি। জনগণ তারা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে বিএনপিকে ক্ষমতায় এসেছে। তারেক এখন বাংলাদেশের প্রধাবনমন্ত্রী। তারেক ক্ষমতায় বসার পর থেকে একাধিকবার তিনি বলেছেন কোনও দুর্নীতি হবে না। স্বচ্ছভাবে সরকার চলবে। যারা অন্যায় করবে তারা শাস্তিও পাবে। ইউনূসের আমলে যেসব দুর্নীতি হয়েছে তার তদন্ত শুরু করেছে বিএনপির সরকার। কিন্তু মহম্মদ ইউনূস ক্ষমতা থেকে চলে যাবার পরও তারা দম্ভ কমেনি এক বিন্দু মাত্র। বিদায় নেওয়ার আগেও নিজের জন্য রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নিতে ভোলেননি ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই দিন আগে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস নিজেকে এক বছরের জন্য ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা করেছেন। এর ফলে পরবর্তী এক বছর তিনি বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর অর্থাৎ SSF নিরাপত্তা-সুবিধা পাবেন। তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লা পান্নার সই করে বলা হয়, সরকার বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইনের ক্ষমতাবলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে তাঁর দায়িত্ব হস্তান্তরের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া SSF-তরফে VVIP-র বাসভবন, অফিস বা অনুষ্ঠানের স্থানে সমস্ত দর্শনার্থী, যানবাহন এবং বস্তুর প্রবেশ ও প্রস্থান এই বাহিনী দ্বারা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে। যা রাজনৈতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন। ক্ষমতা থেকে চলে যাবার পরও তিনি VVIP TRATMENT পাবেন। তিনি যে বিশেষ নিরাপত্তা নিয়ে পেয়ে নিজেকে চটুরতা প্রমাণের পাশাপাশি নিজে যে ভয়ে রয়েছে সেটাও পরিস্কার। ১০ ফেব্রয়ারি, ২০২৬। ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রাক্কালে জারি করা হয় গেজেট। আইনি ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হয় বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইন, ২০২১। এই আইনের আওতায় ভিভিআইপি স্ট্যাটাস পেলে তিনি পাবেন ২৪ ঘণ্টা বিশেষ নিরাপত্তা এসএসএফ প্রোটোকল। বিমানবন্দরে ভিভিআইপি লাউঞ্জ সুবিধা এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক প্রোটোকল। প্রশ্ন হল অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, যিনি নির্বাচিত নয়, বরং অস্থায়ী প্রশাসনক প্রধান, তাঁর জন্য এক বছরের ভিভিআইপি মর্যাদার কি স্বাভাবিক? গেজেট বলা হয়েছে – “এটা রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি হয়েছে।” ধরে নেওয়া যেতে পারে রাষ্ট্রপতি চুপ্পু এটা জানতেন। তাঁর অনুমোদনের পরেই এটি জারি করা হয়েছে। কিন্তু তাই যদি হয়ে থাকে, তাহলে এটা নিয়ে এতো তাডা়হুড়ো কেন? এতো গোপনভাবে করা হল কেন? আরও বড়ো প্রশ্ন, যখন একজন ক্ষমতাধারী ব্যক্তি নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজের জন্য নিশ্চিত করেন, তখন সেটিকে ‘conflict of interest’ বলা যাবে কি না? নির্বাচনের দুদিন আগে গেজেট করা হয়েছে। তা এতদিন গোপন রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকার গঠনের মাধ্যমে শেষ হয় অন্তর্বর্তী সরকারের আলোচিত-সমালোচিত দেড় বছরের শাসনকাল। এ বিষয়ে ওই দিন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ভেঙে গেছে বলে গণ্য হবে। অধ্যাপক ইউনূসের প্রধান উপদেষ্টা থাকাকালীন সময়ের প্রেস সচিব শফিকুল আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় লিখেছেন যে, SSF সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রধান উপদেষ্টা কোনো আইন লঙ্ঘন করেননি। বাংলাদেশে নিয়মে রয়েছে সাবেক উপদেষ্টাদের ক্ষমতা থেকে সরে যাবার পর ৩ মাস করে নিরাপত্তা পেয়ছেন। কিন্তু এখান থেকে একটা প্রশ্ন সামনে আসে,, আগের উপদেষ্টারা ৩ মাস করে পেয়েছিলেন ইউনূস কেন ১২ মাস অর্থাৎ ১ বছর পাবেন। তিনি কী তাহলে ভয় পাচ্ছেন জনরোষের? কারণ ১৮ মাসে মহম্মদ ইউনূস প্রচুর অন্য়ায় করেছেন আওয়ামী লীগের কর্মীদের ওপর অত্যাচার। বিভিন্ন জায়.গায় চলেছে লুটপাট। আদালত দখল করা হয়েছে। তিনি নিজেই খুব ভালো করে জানেন ক্ষমতায় না থেকে তিনি মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়বেন। আগামী দিনে জল কতদূর গড়ায় নজর থাকবে সেদিকে।












Discussion about this post