এক মার্কিন কুটনীতিকের বাংলাদেশ সফর ঘিরে তোলপাড় পদ্মা। বাংলাদেশে এসেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত তথা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর। দায়িত্ব নেওয়ার পরে পরেই তিনি বাংলাদেশ সফরে এসেছেন। ঘুরিয়ে বলা যেতে পারে, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হওয়ার পরেই পল কাপুর ঢাকা এলেন। প্রশ্ন উঠছে, এটা কি নিছক শুভেচ্ছা সফর? না কি ট্রাম্পের তরফে বিশেষ বার্তা নিয়ে তিনি ঢাকায় এসেছেন? প্রশ্ন ওঠার কারণ পূর্বতন সরকার বিদায় নেওয়ার মাত্র কয়েকদিন আগে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি করে। তদারকি সরকারের তরফে বলা হয়েছিল, এই চুক্তির প্রাথমিক এবং প্রধান শর্ত হল গোপনীয়তা। অতচ আমেরিকা সেই চুক্তি প্রকাশ করে দিয়েছে। দেখা যাচ্ছে এই চুক্তি আসলে তারেকের গলার কাঁটা। মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে, প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প তারেক রহমানকে একটি শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছিলেন। সেখানে তিনি বিশেষ কিছু বলেছেন, যা থেকে স্পষ্ট যে তারেককে ট্রাম্প যেটা পাঠিয়েছেন, সেটা শুভেচ্ছা বার্তার আড়ালে হুকুমনামা। ইউনূসের আমলে হওয়া চুক্তি যাতে বিএনপি সরকার কার্যকর করে সেটা নিশ্চিত করতেই ট্রাম্প তারেককে ওই চিঠি পাঠিয়েছেন।
ব্যাপারটা এই পর্যন্ত ঠিকঠাক ছিল। তাল কাটল খলিলুর রহমানের একটি মন্তব্য। আর তাঁর সেই মন্তব্য জামায়াতে মেজাজ হারিয়ে ফেলেছে। তারা খলিল এবং তদারকি সরকারের সাবেক তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দ রিজওয়ানাকে বাংলার নতুন মির্জাফর বলে আখ্যা দিয়েছে। কী বলেছেন খলিলুর? তারেক রহমানের এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির বিষয়ে জামায়াত এবং বিএনপির সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছিল। তারা সম্মতিও দিয়েছিল। চুক্তির আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দর কষাকষিতে বাংলাদেশের তরফে প্রধান ভূমিকায় থাকা খলিলুর রহমান বলছেন, “এই ডিলটা কিন্তু ঠিক তিনদিন আগে শেষ হয়েছে, তা নয়।” পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “এই রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ আরোপ করা হয় সম্ভবত এপ্রিল মাসে এবং তারপর থেকে এই আলোচনা শুরু হয়। এপ্রিল থেকে জুলাই টানা আলোচনা চলেছে। শুধু আমাদের না, আরও অনেক দেশের সঙ্গে। সেই আলোচনার পরে কিন্তু আমরা ২০ শতাংশ পেয়েছিলাম, আপনাদের হয়ত খেয়াল আছে। সেই সময় মোটামুটিভাবে এগ্রিমেন্টটা হয়ে গেছিল।” তিনি বলেন, “একটা হচ্ছে, আমরা তাদেরকে বলেছিলাম যে, আমেরিকান কটন দিয়ে তৈরি বা আমেরিকান ম্যানমেড ফাইবার দিয়ে তৈরি যে পোশাক আমরা তাদের কাছে পাঠাব, সেইখানে আমরা জিরো রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ চাই, সেইটা করতে তাদের সময় লেগেছে। এটা কিন্তু আমাদের স্বার্থে। “আর দ্বিতীয় হচ্ছে রুলস অব অরিজিন, তাতেও তারা সময় নিয়েছেন। এগ্রিমেন্ট আমরা করে রেখেছিলাম জুলাইয়ের ৩১ তারিখে এবং এক তারিখে আমরা ২০% পেয়েছিলাম। সুতরাং এটা যে চট করে নির্বাচনের তিন দিন আগে করা হয়েছে, সেটা ঠিক নয়।” যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসার পর ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল শতাধিক দেশের ওপর চড়া হারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। বাংলাদেশের ওপর বাড়তি ৩৭ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা আসে।
খলিলুরের এই মন্তব্যে বেজায় চটেছে জামায়াত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি দাবি করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টাকে বাংলার নতুন ‘মীরজাফর’ আখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগের ব্যাপারে জাতির কাছে অন্তর্বর্তী সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে। বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ছিলেন লন্ডন ষড়যন্ত্রের মূল হোতা। বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় আনতে তিনি বিগত সরকারের মধ্যে থেকে নানা ষড়যন্ত্র করেছেন। আবদুল্লাহ তাহের আরও বলেন, সাবেক এই উপদেষ্টারা জাতির সুষ্ঠু নির্বাচনের আকাঙ্ক্ষাকে ভণ্ডুুল করে দিয়েছেন। তারা বাংলার নতুন মীরজাফর। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অভিযুক্ত সাবেক দুই উপদেষ্টাকে আইনের মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে।












Discussion about this post