এবার যুদ্ধে বাংলাদেশকে পাশে চাইছে আয়াতুল্লা খামেইনির ইরান। সৌদি, দুবাইয়কে পাস কাটিয়ে কেন বাংলাদেশকে পাশে চাইছেন ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদি? খামেইনিকে চিরতরে সরিয় দেওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে যখন একের পর এক বিশ্বাসঘাতকতার খেলা চলছে, সেই সময় ঢাকার সাহায্য চেয়ে বসল তেহরান। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে যে সব মুসলিম দেশ তাদের পাশে না দাড়িয়ে তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, সেই সব দেশের থেকে তেহরান ছিঁটেফোঁটা সাহায্য নেবে না। প্রশ্ন হল হঠাৎ করে কেন বাংলাদেশের সাহায্য চেয়ে বসল ইরান?
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, শনিবার সকালে গোপন সূত্রে সিআইএ খবর পায়, তেহরানের একটি সুরক্ষিত জায়গায় মেজর জেনারেল মহম্মদ পাকপুর এবং রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী শামখানির মতো বিশিষ্ট সামরিক কর্তারা জরুরী বৈঠকে বসেছে, সেই সময় আমেরিকা ইরান হামলার ছক তৈরি করে ফেলে। ইজরায়েলের সময়ে ভোর ছটায় যুদ্ধবিমানগুলি গোপন ঘাঁটি থেকে আকাশে ওড়ে। তেহরানের সময় ঠিক সকাল ৯.৪০ মিনিটে সেই সুরক্ষিত জায়গায় আকাশ থেকে আছড়ে পড়ে একের পর এক মিসাইল। মূল জমায়েত থেকে একটু দূরে প্রাত্যহিক কাজ করছিলেন আয়াতুল্লা খামেইনি। প্রথমদিনেই তাকে হত্যা করা হয়। পুরো ঘটনার নাটের গুরু সৌদি যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমন। অথচ কিছুদিন আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেকশিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন এই যুবরাজ। কথা দিয়েছিলেন সৌদি আকাশসীমা কোনও দেশকে ব্যবহার করতে দেবেন না। সূত্রের খবর, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লাগাতার ফোন করে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাবার পরামর্শ দেন। তার উদ্দেশ্য ছিল ইজরায়েল আর যুক্তরাষ্ট্রকে দাবার ঘুটি বানিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আধিপত্য কায়েম করা। ইরানের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশও মুখ খোলেনি। তাতে যুগপৎ বিস্মিত তেহরান।
বাংলাদেশে গত ৪ মার্চ ইরান দূতাবাসে সাংবাদিক সম্মেলন করে জলিল রহিমী জাহানাবাদী। সেই সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বাংলাদেশের সাহায্য প্রার্থনা করেন। ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ একটি মুসলিম দেশ। একই সঙ্গে ওআইসি ও জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের (ন্যাম) সদস্য। সেই হিসেবে একটি আগ্রাসী শক্তিকে সরাসরি নিন্দা বা এর প্রতিবাদ করবে, এমনটাই আমরা আশা করি। ইরান দীর্ঘমেয়াদে এ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ড্রোন ও মিসাইলসহ প্রয়োজনীয় সামরিক শক্তি রয়েছে। আমরা অন্য কোনো দেশের কাছ থেকে লজিস্টিক সাপোর্ট চাই না। আমরা শুধু চাই, একটি মুসলিম দেশ আক্রান্ত হলে অন্য মুসলিম দেশগুলো তার প্রতি সহানুভূতি ও সমর্থন প্রকাশ করুক।ইরানে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কত সংখ্যক বাংলাদেশি ইরানে আছে তার সঠিক পরিসংখ্যান এই মুহূর্তে আমার হাতে নেই। তবে আমি এতটুকু জানি, তেহরানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছে। যখনই কোনো ধরনের সহযোগিতা চাওয়া হবে বা কোনো বিষয় ইরান সরকারকে জানানো হবে, অবশ্যই সে অনুযায়ী সর্বোচ্চ ও উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ‘আমরা ইরানি বা বিদেশি- এভাবে পার্থক্য দেখি না। আমাদের দেশে বর্তমানে যারা অবস্থান করছেন, তাদের যেকোনো সমস্যায় সমাধানের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সমানভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হবে’- এমন প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন জলিল রহিমী জাহানাবাদী। জাতিসংঘ ইতিমধ্যেই ইরানের ওপর হামলার নিন্দা জানানোয় রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেন, একটি মুসলিম দেশ হিসেবে সকল মুসলিম দেশের উচিত আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো এবং তাদের ভূখণ্ড বা সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে অন্য দেশে হামলার অনুমতি না দেওয়া। এটি পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
সামরিক সক্ষমতা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনে যথেষ্ট শক্তিশালী। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আমাদের অস্ত্র মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা যত দিন যুদ্ধ চালাতে চাই, চালাতে সক্ষম।’ আয়াতুল্লাহ খামেনি হত্যাকাণ্ডকে তিনি ‘কাপুরুষোচিত’ বলে উল্লেখ করেন।












Discussion about this post