ঢাকা সফরে এসেছেন পল কাপুর। তাঁর এই সফর নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এই সফর কি শুভেচ্ছা সফর হিসেবে দেখা হবে? অর্থাৎ বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী এবং নতুন সরকারকে শুভেচ্ছা জানাতে পল কাপুর ঢাকায় এসেছেন? না কি ইউনূসের আমলে হওয়া বাংলাদেশ-আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তি বাস্তবায়িত করার বার্তা নিয়েই পল কাপুরের ঢাকা সফর। এই সফর নিয়ে রাজনৈতিকমহল নিশ্চিত যে নিছক শুভেচ্ছা জানাতে অতদূর থেকে ঢাকায় আসেননি ট্রাম্পের এই বিশেষ দূত। তবে তাঁর এই সফরের মাঝে হাটে হাঁড়ি ভেঙেছেন ইউনূস আমলে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
পল কাপুরের ঢাকায় পৌঁছান নির্ধারিত সময়ের দেড় ঘণ্টা আগে। তাঁকে অভ্যর্থনা দেওয়ার কথা ছিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের। অভ্যর্থনা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশ যাওযার আগে দিল্লি ঘুরে যান। পল কাপুর এসেছেন বাংলাদেশে ত্রয়োদশ নির্বাচন শেষ হওয়ার প্রায় মুখে মুখে। ট্রাম্পের এই বিশেষ দূত ঢাকায় পৌঁছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করেন। বাংলাদেশ-আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে তিনি বাংলাদেশের বাণিজ্যচুক্তি নিয়েও কথা বলেছেন।
খলিলুর রহমান বলেন, “পল কাপুর আমাকে বলেছেন, আমার মনে আছে আপনি ওয়াশিংটন সফরে বলেছিলেন যে আপনারা এই নির্বাচন উৎসবমুখর করতে চান। তখন আমরা ভেবেছিলাম আদৌ কি তাই হবে? পরে আমরা দেখলাম, আসলেই একটি উৎসবমুখর নির্বাচন হয়েছে।” খলিলুর রহমান বলেন, পল কাপুরের সঙ্গে সাক্ষাতে এটা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পল কাপুরের সঙ্গে সাক্ষাতে জানানো হয়েছে ‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতিতে এই সরকার চলবে। খলিলুর রহমান বলেন, “আমাদের স্বার্থ সম্পূর্ণভাবে বজায় রেখে অন্যান্য সব দেশের সঙ্গে আমাদের পররাষ্ট্র কর্মকাণ্ড নির্বাহ করবো, এটা আমরা তাকে বলেছি। কাপুর আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে আগামী দিনগুলোতে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় ও বিস্তৃত হবে।”
খলিলুর রহমান বলেন, “আমরা বৈধ কাগজপত্রবিহীন বাংলাদেশি, যারা যুক্তরাষ্ট্রে আছেন, তাদের ফিরিরে আনার ব্যাপারেও কথা বলেছি। প্রসেসটা যাতে সহজ হয় এবং সম্মানের সঙ্গে তারা আসতে পারেন, সেই নিয়ে আমার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মার্কিন রাষ্ট্রদূত এই বিষয়ে আগে কথা বলেছেন বলে আমাকে জানিয়েছেন।”
এই চুক্তি নিয়ে খলিলুর রহমানের বিবৃতি বাংলাদেশে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে। তিনি বলেন, আমেরিকার বাণিজ্য প্রতিনিধি, বিএনপি এবং জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তাদের সম্মতিতেই পূর্বতন সরকার আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি সই করেছে। এটাকে বলা হয়েছে Non discloser agreement. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নির্বাচনের দুই দিন আগে বাণিজ্য চুক্তি সই করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। অথচ সেই চুক্তি আমেরিকা প্রকাশ করে দিল। সেই চুক্তি কার্যকর করার বিষয়ে আলাপ হয়েছে পল কাপুর এবং খলিলুর রহমানের মধ্যে। পল কাপুর বৃহত্তর দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ জোরদারে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির বিধান বাস্তবায়নের গুরুত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নীতি ধারাবাহিকতায় সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
এই চুক্তি অনুযায়ী, সাড়ে তিনশো কোটি ডলারের কৃষিজাত পণ্য আসবে আমেরিকা থেকে। স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের কৃষিজাত পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার বিষয় তাদের বৈঠকে উঠে আসে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সব পক্ষের সংযম প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এবং প্রাণহানি কমাতে এবং এই অঞ্চল ও এর বাইরে আরও অস্থিতিশীলতা রোধে সংলাপ ও কূটনৈতিক উপায়ে সংঘাতের দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানান। ড. খলিলুর রহমান বলেন, “আমি পল কাপুরকে জানিয়েছি, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতে আমাদের দুজন বাংলাদেশি মারা গেছেন, সাত জন আহত হয়েছেন। যদি যুদ্ধ দীর্ঘায়িত বা বিস্তৃত হয়, তবে বাংলাদেশের মতো দেশের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়বে। আমরা চাই যত দ্রুত সম্ভব কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এই সংকট সমাধান করা হোক।”












Discussion about this post