সরকারে আসীন হওয়ার পর তারেক রহমান বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেন। সিদ্ধান্তগুলি ছিল অহেতুক সরকারি পয়সা খরচ করা থেকে বিরত থাকা। তিনি তাঁর কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছেন। সরকারি গাড়ি ব্যবহারের পরিবর্তে নিজের গাড়ি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন। সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে নিজের ব্যক্তিগত টয়োটায় চেপে যান। সেখান থেকে তিনি মন্ত্রিসভার বৈঠক করেন। সরকারের তরফে আরও কয়েকটি নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভার বৈঠক তিনি নিজের দফতরে করবেন না। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি সচিবালয়ে যাবেন। কারণ, মন্ত্রীদের দফতরে ডাকলে পরে ঢাকায় একাধিক মন্ত্রীর একসঙ্গে যাত্রার ফলে যানজট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। নতুন প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মন্ত্রীদের যাতায়াতের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হোক এটা তিনি চাইছেন না। যদিও অনেকে বলছে, এই সব পদক্ষেপ আসলে লোক দেখানো। প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হওয়ার পর কিছু না করলেই নয় বলে তারেক রহমান এই সব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এবার রমজানেও চমক দেখালেন প্রধানমন্ত্রী।
দেশের সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনা করে জাঁকজমকপূর্ণ ইফতার মেহফিল এডিয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান এই প্রধামন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে শুধু দুটি ইফতার মাহফিল যথাক্রমে আজ ৬ মার্চ কুটনীতিকদের সম্মানে এবং ৭ মার্চ এতিম-আলেমা এবং উলামা-মাশায়েক সম্মানে দুটি ইফতার আয়োজন করেছেন। দুটি হবে রাষ্ট্রীয় অতিথিশালা যমুনায়। প্রধানমন্ত্রী রাজনীতিবিদদের সম্মানে ৮ মার্চ এবং গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সম্মানে ১০ মার্চ রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় ইফতার পার্টির সময়সূচি নির্ধারিত থাকলেও সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে বাতিল করা হয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত প্রেস সচিব।
প্রধামনমন্ত্রী হিসেবে একাধিক ইফতার পার্টির প্রচলন আছে। বলাই বাহুল্য এই সব ইফতার পার্টির খরচ সরকারি কোষাগার থেকে দেওয়া হয়। কয়েক ঘণ্টার খাওয়া-দাওয়ার অনুষ্ঠানে বিশাল পরিমাণ টাকা খরচ হয়ে যায়। প্রতিবছর রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার সম্মানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করে তারেক রহমান নিজের বাড়িতেই পরিবারের সঙ্গে ইফতার করছেন। রাষ্ট্রীয়ভাবে জাকজমকপূর্ণ ইফতার হচ্ছে না। এই ধরের ইফতার পার্টি হাসিনা আমলেও হয়েছে। হয়তো জিয়ার আমলেও হয়েছে। তারেক রহমানের কাছে ইফতার পার্টি সংক্রান্ত একটি তালিকা তুলে দেওয়া হয়। সেই তালিকা থেকে বাছাই করে মাত্র দুটি ইফতার পার্টি আয়োজনে সম্মাতি দেন। দুটি ইফতার হবে সরকারি অতিথিশালায়।
এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র সরকারের জন্য প্রযোজ্য হবে এমনটা নয়। তারেক রহমানের এই বার্তা আপামর বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্যও। প্রধানমন্ত্রী এই বার্তাই দিতে চেয়েছেন ভবিষ্যতের কথা ভেবে অপ্রয়োজনীয় খরচে লাগাম পরাতে হবে। বাংলাদেশের আর্থিক অবস্থা বিশেষ ভালো নয়। আর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য এই সংঘাত এক বহুমুখী অস্তিত্বের সংকট তৈরি করেছে। বাংলাদেশের শ্রম বাজারের প্রায় ৬০ শতাংশ সৌদি আরব কেন্দ্রিক। কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী এবং জর্ডনের মতো দেশগুলি আমেদের রেমিট্যান্সের মূল ভিত্তি। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৬০ লক্ষ বাংলাদেশি অবস্থান করছে। গত বুধবার ৪ মার্চ ঢাকায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ ও ডেইলি স্টার আয়োজিত “বাংলাদেশের উন্নয়ন ভাবনা: নবনির্বাচিত সরকারের স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি অগ্রাধিকার ” শীর্ষক এক আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দূর্বল বিনিয়োগ এবং ব্যাংক খাতে অস্থিরতা এবং রফতানিতে মন্থরতার কারণে অর্থনীতি এখন চাপে রয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে দ্রুত ও কার্যকর কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া বিকল্প নেই।












Discussion about this post