নারদ, নারদ।
মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে কোমরে গামছা বেঁধে ঝগড়া শুরু হয়েছে তারেক সরকার আর জামায়াতের সঙ্গে। কিছুদিন আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান দাবি করেছিলেন যে এই চুক্তির বিষয়ে জামায়াত জানে। তাদের সঙ্গে এই চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। চাওয়া হয়েছিল সম্মতি। তারা সম্মতি দিয়েছে। চুক্তি নিয়ে বিএনপির সঙ্গে ও আলোচনা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জামায়াত এই চুক্তির বিষয়ে বিন্দুবিসর্গ জানে না বলে যে দাবি করা হচ্ছে, সেটা ভুল। তাঁর কথায়, মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি প্রধান দুটি দলের প্রধানের সঙ্গে নির্বাচনের আগেও কথা বলেছেন। এমন নয় যে চুক্তির বিষয়ে তাদের অন্ধকারে রাখা হয়েছে। যদিও বিএনপি থেকে কোনও বক্তব্য আসেনি। তাছাড়া খলিলুর বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ধরে নেওয়া যেতে পারে, দল বা সরকার তাঁর বক্তব্যের বিরোধিতা করে কোনও বক্তব্য দেবে না।
খলিলুর রহমান আরও বলেন, “এই ডিলটা কিন্তু ঠিক তিনদিন আগে শেষ হয়েছে, তা নয়। এক বছর আগে ২০২৫ সালে সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম তাদের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে আমরা কথা বলি। এই রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ (পাল্টা শুল্ক) আরোপ করা হয় সম্ভবত এপ্রিল মাসে এবং তারপর থেকে এই আলোচনা শুরু হয়। এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত টানা আলোচনা চলেছে। শুধু আমাদের না, আরও অনেক দেশের সঙ্গে। সেই আলোচনার পরে কিন্তু আমরা ২০ শতাংশ পেয়েছিলাম, আপনাদের হয়তো খেয়াল আছে। সেই সময় মোটামুটিভাবে অ্যাগ্রিমেন্টটা হয়ে গিয়েছিল। ” পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “একটা হচ্ছে আমরা তাদের বলেছিলাম যে, আমেরিকার কটন দিয়ে তৈরি বা আমেরিকার ম্যানফেড ফাইবার দিয়ে তৈরি পোশাক আমরা তাদের কাছে পাঠাব। সেখানে আমরা জিরো রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ চাই। সেটা করতে তাদের সময় লেগেছে। এটা কিন্তু আমাদের স্বার্থে। দ্বিতীয় হচ্ছে রুলস অব অরিজিন। তাতেও তারা সময় নিয়েছেন। অ্যাগ্রিমেন্ট আমরা করে রেখেছিলাম জুলাইয়ের ৩১ তারিখ এবং এক তারিখে আমরা ২০ শতাংশ পেয়েছিলাম। সুতরাং, এটা যে চট করে নির্বাচনের তিনদিন আগে করা হয়েছে, সেটা ঠিক নয়। ” পূর্বতন সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতা ছাড়ার ৭২ ঘণ্টা আগে আমেরিকার সঙ্গে এই চুক্তি করে।
খলিলুরের দাবি নস্যাৎ করে দিয়েছেন জামায়াতে আমির শফিকুর রহমান। আমির তার পোস্টে বলেন, ‘বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সরকার কয়েকটি চুক্তি সম্পাদন করেছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এ ধরনের কোনো চুক্তি নিয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করা হয়নি। আমরা বহুবার দাবি জানিয়েছিলাম যে, সংসদ না থাকার কারণে সরকার বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে যেভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করেছে, ঠিক সেভাবেই আন্তর্জাতিক চুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতেও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল।’ জামায়াতে আমির আরও লিখেছেন, “কিন্তু তৎকালীন সরকার আমাদের সেই দাবিগুলোকে আমল দেয়নি। অতএব এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান বেশ স্পষ্ট। এখানে কোনও ধরনের ধোঁয়াশা তৈরির সুযোগ নেই। ” জামায়াতের এই অবস্থানে মহাসংকটে পড়ে যাচ্ছেন খলিলুর রহমান।
এই বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে জামায়াত যে তারেক রহমান সরকারকে এক ইঞ্চি জমি ছেড়ে দেবে না, সেটা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিদায়ি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার (৬ মার্চ) জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম থেকে এ বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এর আগে দলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে জনগণের রায়কে পালটে দেওয়ার অপরাধে সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান ও ড. খলিলুর রহমানের গ্রেপ্তার এবং জিজ্ঞাসাবাদের দাবিত জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়।












Discussion about this post