বাংলাদেশে এখন তদারকি সরকারও নেই। ইউনূসও নেই। কিন্তু দেশি-বিদেশি প্রেসক্রিপশনের নির্বাচনে তারা ঠিকই সংসদে ঢুকে পড়েছে। যদিও তাদের থাকার কথা ছিল জেলে। মজার বিষয় হল, মাস তিনেক আগেও ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে তাদের জামাই আদর করে নিয়ে গিয়ে পরামর্শ দেওয়া হত দেশ দখলের। অভিযোগ তেমনই। আর ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টে আমেরিকা, লন্ডন, জাতিসঙ্ঘ, সকল কূটনীতিকরা এই জুলাই যোদ্ধাদের অর্থ, বাসস্থান দিয়ে সাহায্য করেছে। পাকিস্তান দূতাবাস দিয়েছিল স্নাইপার রাইফেল। কিন্তু এই মুহূর্তে ঢাকা সফররত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পল কাপুর এনসিপির সঙ্গে বৈঠকের তারিখ দিয়েও বৈঠক বাতিল করে। অথচ তিনি জামায়াতের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এনসিপির তরফে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ৫ মার্চ সকাল ১০টায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে এনসিপি নেতৃবৃন্দের যে সাক্ষাৎ হওয়ার কথা ছিল তা বাতিল করা হয়েছে। একই দিনে জামায়াত নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন পল কাপুর। বৈঠকে বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় সংসদে সরকার দলীয় ও বিরোধীদলের অংশগ্রহণ জানতে চেয়েছেন পল কাপুর। এ বিষয়ে জামায়াত বলেছে, সংসদে তারা ভাইব্রেন্ট রোল প্লে করবে। জনগণের স্বার্থ রক্ষা হয়, এমন বিষয়ে তারা সংসদে কথা বলবে। এ ছাড়া ইতিবাচক সব বিষয়ে সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করবে। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন জামায়াতে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। প্রতিনিধিদলে ছিলেন সংসদ সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম, ব্যারিস্টার মীর আহমেদ কাসেম, সংসদ সদস্য সাইফুল আলম মিলন এবং প্রাক্তন কূটনীতিবিদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা ড. ইফতেখর আহমেদ চৌধুরী। বাংলাদেশে ভারতীয় দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই জুলাই যোদ্ধাদের বৈঠক করতে দেখা যায়। কিন্তু ঠিক কী হল? কারণ, নির্বাচনের মুখে মুখে বাংলাদেশে শোনা গিয়েছিল একটি স্লোগান – দিল্লি না ঢাকা? দিল্লি দিল্লি। তাহলে সব কিছু এক লহমায় কোন জাদুতে বদলে গেল? তবে কি পল কাপুর এনসিপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক বাতিল করায় তারা এখন ভারতের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছে? সে কারণে কি তারা বাংলাদেশে ভারতীয় দূতাবাসে গিয়েছিলেন?
ড. ইউনূসকে ক্ষমতায় বসিয়েছিল জামায়াতে ইসলামি। জুলাই সন্ত্রাসের নেতৃত্ব দিয়েছিল তারা এবং দলটির ঔরসজাত তথাকথিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। পরবর্তীতে তারা ইউনূসকে ক্ষমতায় বসিয়ে তারা কিংস পার্টি গঠন করে। সরকারি পয়সায় করেছে মোচ্ছব। এরা গত ১৮ মাসে মূলত ইউনূস সরকারের ভাড়াটে মব বাহিনী হিসেবে কাজ করেছে। এই মব বাহিনীকে ইউনূস তাঁর মত করে ব্যবহার করেছে। আবার যখন ভারতের বিরুদ্ধে তাদের প্রয়োজন হয়েছে, তখন তাদের ভারতীয় হাইকমিশন দখলের জন্য রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সর্বোপরি এই মবকে দিয়েই ভারত-বিরোধী অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে দিল্লি না ঢাকা, দিল্লি দিল্লি , ঢাকা ঢাকা স্লোগান দিয়ে দেশকে উত্তাল করে তোলা হয়েছিল। বাংলাদেশকে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জাতীয় নাগরিক পার্টির এই ভোল পাল্টানো নাটক কেবল হাস্যকর নয়। বরং আন্তর্জাতিক কূটনীতির টেবিলে একটি দেউলিয়া সংগঠনের প্রতিচ্ছবি।
মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের ঢাকা সফরকে কেন্দ্র করে এনসিপির মধ্যে যে উচ্চাশা তৈরি হয়েছিল, তা মুহূর্তের মধ্যে ধুলিসাৎ হয়ে যায়। মার্কিন এই কূটনীতিকের ঢাকা সফরের উদ্দেশ্য ছিল নিরাপত্তা সহযোগিতা, ইন্দো-প্যাসেফিক কৌশল এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য। সেখানে এনসিপির মতো একটি দলের সঙ্গে তিনি দেখা করবেন, এমন আশা করাটাই তো অলীকা কল্পনা। মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এনসিপির বৈঠক স্থগিত হওয়ার খবরের মধ্যে দিয়ে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে যায় যে ওয়াশিংটন আর কিংস পার্টির কাঁধে হাত রাখতে চাইছে না। পল কাপুর, যিনি সন্ত্রাসবাদ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষণে একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব তিনি সম্ভবত এনসিপির অতীত কর্মকাণ্ডের বিষয়ে যে অবগত, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তাই, যারা হিংসায় মদত দেয়, মবের রাজত্বের সমর্থক, সেই রকম একটি দলের সঙ্গে কী করে পল কাপুরের মতো একজন সজ্জন ভদ্র মার্কিন সরকারি দূত কেন এনসিপির নেতাদের সঙ্গে দেখা করবেন?












Discussion about this post