ইজরায়েল-ইরানের যুদ্ধের প্রভাবে কিছু দেশের জ্বালানি সংকট যে তৈরি হতে পারে, সে কথা আগেই জানিয়েছিলেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। আর সেটাই সত্যি হতে হচ্ছে। জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমায় দেশের বাজারে সংকটের আশঙ্কা প্রকট হচ্ছে। এইবার জ্বালানি সংকট কাটাতে ভারতের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ। আসামের নুমলীগড় রিফাইনারি লিমিটেড রাষ্ট্রায়াত্ত প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তির আলোকে নিয়মিত ডিজেলের যোগান চায় ঢাকা। অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর ভারতীয় হাইকমিশনার প্রনয় ভার্মা জানিয়েছেন, পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এগোতে চায় দুই দেশ।
অনেকে বলছেন, ক্ষমতায় এসেই তারেক সরকারকে বেগ পেতে হচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, আসামের এনআরএল থেকে ২০২৩ সালে আমদানি করা হয়েছে, ৩৫ হাজার ৭১৮ টন ডিজেল। ২০২৪ সালের ২৮ হাজার ২০৪ টন। ২০২৫ সালে ১ লক্ষ ২৪ হাজার ২১৬ টন। ১৫ বছর মেয়াদের চুক্তির আওতায় চলতি বছরে আমদানির কথা আরও ২ লক্ষ ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল। একাধিক সূত্র বলছে, জ্বালানি তেলের মজুদ স্বাভাবিক রাখতে এবং নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে, সরকার জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের এই দুই প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানো প্রস্তাবে আগামী চার মাসের মধ্যে ৫০ হাজার টন ডিজেল বাংলাদেশের সরবরাহের প্রক্রিয়া শুরু করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ভারতের এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ডিজেল আমদানি চুক্তি সম্পন্ন হলে তা দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতির ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র বলছে, জ্বালানি সংকট কাটাতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি বর্তমান জরুরি পরিস্থিতির সামাল দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সারাও পাওয়া গিয়েছে। ইতিমধ্যেই ভারতের হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা ইতিবাচক সাড়াও দিয়েছেন।
ফলে খুব দ্রুতই বাংলাদেশে আসা শুরু করবে ডিজেল। ভারত থেকে জ্বালানি আমদানিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে, মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত ডিজেলের নিয়মিত যোগান চাওয়ার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামের পরিবর্তে দিনাজপুরে সরবরাহ করার কথা জানানো হয়েছে। এছাড়াও পরিবহন সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, খুব দ্রুত ভারত থেকে বাংলাদেশে রফতানি হবে ডিজেল।
অনেকে বলছে, এই সময় যদি অন্তবর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় থাকত, তবে তাদের অনেক বেগ পেতে হত ভারতের সহযোগিতার ক্ষেত্রে। কারণ মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার ভারত বিদ্বেষ চরম পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল। দুই দেশের মধ্যে চলা স্বাভাবিক চুক্তি, প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিয়েছিল ভারত। সেক্ষেত্রে সহযোগিতার হাত আদেও বাড়াত কিনা ভারত, সেটা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। কিন্তু তারেক সরকারের সঙ্গে ভারত যে স্বাভাবিক পর্যায়ে সম্পর্ক চায়, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই দ্রুত বাংলাদেশের সংকটকালে ভারত পাশে এসে দাঁড়াচ্ছে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে কিছু দেশের উপর পরোক্ষভাবে পড়তে শুরু করেছে। দিনে দিনে এই সংঘাত আরও বিস্তার লাভ করছে। যদিও ভারতের মতো কিছু দেশের জন্য ইরান হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ায় বিশাল ক্ষতির হাত থেকে রেহাই পেয়েছে। কিন্তু অন্যান্য ক্ষেত্রেও ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে দেশ। বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার, শেষমেশ কি পরিস্থিতি তৈরি হয়।












Discussion about this post