বাংলাদেশের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভুঁইয়া নেটিজেনদের কাছে আইকেবি নামে পরিচিত। হাসিনা সরকারের আমলেন, দুর্নীতি ও গুম সহ নানা বিষয়ে সক্রিয় অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন। এবার সাবেক এই সেনাপ্রধান ফাঁসতে চলেছেন মামলার জালে। ভারতের নর্থ-ইস্ট নিউজের একটি প্রতিবেদনে এমনই একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে বেশ কিছু অপরাধের তথ্য। আদালতে তিনি মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। অভিযোগ উঠেছে অবসরপ্রাপ্ত এই সেনাকর্তা নিজের অপকর্ম ঢাকতে সহকর্মীদের ওপর দোষ চাপিয়েছেন। গত ১ মার্চ মেজর জিয়াউল হাসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে তিনি আদালতে এসেছিলেন। গত ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। ৮ অগাস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে শতাধিক মানুষকে গুম ও খুনের ঘটনায় সাবেক সেনাকর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১ এ এই মামলার বিচার শুরু হয়। তার আগে গত ১৪ জানুয়ারি জিয়াউলের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল ১। এই মামলায় সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ আনা হয় দ্বিতীয় অভিযোগে অপরাধের সময়কাল হল ২০১০ থেকে ২০১৩। আদালতে সাক্ষ্য দিতে এসে বিচারকদের বাক্যবাণে তিনি বিদ্ধ করেন।
বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আওয়ামী শাসনামলে শতাধিক মানুষকে গুম করে খুনের মামলায় বিচার চলছে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের। এ মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মামলায় আদালতে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া তার সাক্ষ্যে বলেছিলেন, সিরিয়াল কিলারের অভিযোগ থাকায় জিয়াউলকে প্রোমোশন দিতে চাননি তিনি। এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে শতাধিক মানুষকে গুম ও খুনের ঘটনায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভুঁইয়া। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ ইকবাল করিম দ্বিতীয় দিনের মতো জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি শেষ হলে তাকে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের সাক্ষ্য দেওয়ার দিন ধার্য করা হয় গত ১৮ ফেব্রুয়ারি। গতকাল ছিল চতুর্থ দিনের মতো জেরা।
জবানবন্দিতে ইকবাল করিম বলেন, ‘র্যাবের ডিজি বেনজীরের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে এডিজি র্যাব হিসেবে দায়িত্ব নেন জিয়াউল আহসান। এরপর আর্মি সিকিউরিটি ইউনিট (এএসইউ) সূত্রে খবর পাই, কর্নেল জিয়া বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছেন। তারা আরও জানান, জিয়া নিজের আবাসিক টাওয়ারে একজন গার্ড রেখেছেন, বাসায় অস্ত্র রাখছেন এবং পুরো ফ্ল্যাটে সিসিটিভি বসিয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে তাকে বলা হয় গার্ড সরিয়ে নিতে, ক্যামেরা খুলে ফেলতে, বাসায় অস্ত্র রাখা থেকে বিরত থাকতে এবং অফিসিয়াল কোয়ার্টারের সামরিক নিয়ম-কানুন মেনে চলতে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তার আচরণ আরও উচ্ছৃঙ্খল হয়ে ওঠে।’
জেরার সময় সেনাবাহিনীর আবাসন প্রকল্প নিয়ে তাঁকে বিস্তারিত প্রশ্ন করা হয়। ইকবাল করিম স্বীকার করেন সেই সময় তিনি এই প্রকল্পের প্রধান ছিলেন। তিনি আরও জানান রূপগঞ্জে জমি অধিগ্রহণের সময় তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। আত্মরক্ষার্থে সেনাবাহিনী গুলি চালিয়েছিল বলে তিনি আদালতে বয়ান দেন। তবে এর দায় তিনি তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মুবিন এবং অপারেশন ডিরেক্টরেটের ওপর চাপিয়ে দেন ইকবাল করিম ভূঁইয়া। এক প্রশ্নের জবাবে সাবেক এই সেনাপ্রধান বলেন, ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সিনিয়র অফিসার অনেকেই ছিল। তবে তাদের নাম মনে নেই। অফিসারদের বিরুদ্ধে অবৈধ আয়ের উৎস শনাক্ত করে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করিনি। কারণ, তা আমার এখতিয়ারের বাইরে ছিল। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান তাঁর দীর্ঘ ব্যাখ্যায় রীতিমতো বিরক্ত হয়ে বলেন, আপনার এত ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। আমি উত্তপারের বিশেষজ্ঞ হলে আমরা দক্ষিণ পারের বিশেষজ্ঞ।












Discussion about this post