মনোবিজ্ঞানের পরিভাষায় এটাকে বলে অস্তিত্ব সংকটের আতঙ্ক। এটা সাধারণভাবে মানুষের মধ্যে দেখা যায়। কিছু মানুষ আছেন, যাঁরা সব সময় একটা আতঙ্কের মধ্যে দিয়ে চলাচল করেন। সেই আতঙ্ক হল নিজের অস্তিত্ব বোধহয় হারিয়ে যেতে বসেছে। প্রতিবেদনের শিরোনামে যিনি রয়েছেন, তিনিও ওই শ্রেণির মানুষর মধ্যে পড়েন। ২০২৪-য়ের জুলাই-অগাস্টের আন্দোলনের একেবারে অগ্রভাগে ছিলেন নাহিদ ইসলাম। একটা গণতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে একটি অবৈধ সরকারকে তারা ক্ষমতায় বসিয়েছে। সেই শাসনামলে বাংলাদেশের পরিণতি কী হয়েছিল, তা আর নতুন করে বলার দরকার পড়ে না। ইউনূসের শাসনামলে বাংলাদেশের এমন কোনও প্রান্ত ছিল না যে প্রান্তে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেনি। ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে নির্বাচন হয়েছে। বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তারা সরকার গঠন করেছে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হয়েছেন। বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করেছে গণতন্ত্রের রেলগাড়ি। এই এতো কিছুর মাঝখান থেকে নাহিদ ইসলামের মতো জুলাই যোদ্ধারা সোনার কেল্লার সেই দুষ্টু লোকটার মতো ভ্যানিশ হয়ে গিয়েছে। ফলে, তারা পড়ে গিয়েছে অস্তিত্ব সংকটে। তারা যে মুছে যায়নি, সেটা জানাতে তারা আবার হাজির। সেই জুলাই যোদ্ধাদের একজন হলে নাহিদ ইসলাম।
৪ মার্চ বুধসন্ধ্যায় সন্ধ্যায় সিলেটের হিলভিউ কনভেনশন হলে এনসিপির ইফতার অনুষ্ঠানে নাহিদ বলেন, ‘এবার আমরা ভুল করতে চাই না। এবার আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামতে চাই। গণ-অভ্যুত্থান হয়তো হয়ে গিয়েছিল। সেই গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী করণীয়তে আমরা অনেক কিছুই ভুল করেছি। ফলে আজকের এই বেহাল অবস্থা আবারও তৈরি হয়েছে।’ এই জুলাই যোদ্ধা জানিয়েছেন, ‘দেশ আবারও গণতন্ত্র থেকে স্বৈরতন্ত্রে যাবে কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছে। দেশের প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনকে আবারও একদলীয়করণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিস্থিতি আপনারা দেখেছেন। মিডিয়ার ভাইবোনেরা বাসসের পরিস্থিতি আপনারা দেখেছেন। সর্বশেষ আমরা দুদকের পরিস্থিতি দেখলাম। দুদক আইন অনুসারে একটি স্বাধীন নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান। কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনোই এটি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনি। দুদকের চেয়ারম্যান-কমিশনাররা কেন পদত্যাগ করলেন। সেটা আমাদের কাছে স্পষ্ট না। সেই জবাবদিহি আমরা চাই। সংসদে গিয়ে আমরা এটা নিয়ে কথা বলব। দুদকের চেয়ারম্যান দলীয়ভাবে নিয়োগ হবে, নাকি বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করে নিয়োগ হবে, সে বিষয়ে প্রশ্ন আমরা রেখে যাচ্ছি।’
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তনসহ রাষ্ট্রীয় কিছু প্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতি তুলে ধরে এই জুলাই যোদ্ধা বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিস্থিতি আপনারা দেখেছেন। বাসসের পরিস্থিতি আপনারা দেখেছেন। সর্বশেষ আমরা দুদকের (দুর্নীতি দমন কমিশন) পরিস্থিতি দেখলাম। দুদক একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান। কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনোই দুদক স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে নাই। ” বিএনপির বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পূর্বের কথা স্মরণ করিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘বিএনপির মহাসচিব একসময় বলেছিলেন, এই দুদক হচ্ছে বিরোধী দল দমন কমিশন। এই আমলেও সেই জিনিসটাই থাকবে কি না, এই প্রশ্ন উঠছে। দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনাররা কেন পদত্যাগ করলেন? নাহিদের প্রশ্ন, “সরকারের কোনও চাপে পদত্যাগ করেছেন কি না, তা আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়। এই বিষয়ে সংসদে এবং জনগণের পক্ষে থেকে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। দুদকের পরবর্তী চেয়ারম্যান কী ভাবে নিয়োগ করা হবে, সেই প্রশ্ন আমরা রেখে যাচ্ছে।”
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির কথা স্মরণ করিয়ে নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য ওসমান হাদিকে দিনদুপুরে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। প্রশাসনে আগের মতোই দলীয়করণ করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, সরকারের উদ্দেশ্যে তাঁর হুমকি – “আপনাদের সংশোধনের সুযোগ দিচ্ছি; যদি হেদায়েতের পথে না আসেন, তবে তরুণদের ভয়ংকর পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে।”












Discussion about this post