যুদ্ধ শুধুমাত্র একটি সুনির্দিষ্ট ভূখণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। সময়ের হাত ধরে সেটা ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের অন্যত্র। মধ্যেপ্রাচ্যের যুদ্ধ প্রথমদিকে দু একটি দেশ বা ভূখণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন তার প্রভাব বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তেও পড়তে শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভবিষ্যদ্বাণী ছিল এই যুদ্ধ স্বল্পমেয়াদের নয়। আর যুদ্ধ এমন একটি ভূখণ্ডে শুরু হয়েছে, যার অবসম্ভাবি প্রভাব পড়তে বাধ্য। প্রভাব পড়বে অর্থ বাজারে। সেই ভবিষ্যদ্বাণী মিলে গিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দক্ষিণ এশিয়াতেও। বাংলাদেশের পর এবার পাকিস্তানে। ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। পাকিস্তানে দেখা দিয়েছে তীব্র জ্বালানি সংকট। জ্বালানি সংকটের জেরে গত শনিবার পেট্রোলের দাম ৫৫ পাকিস্তানি রূপি বৃদ্ধি করা হয়েছে। যা দেশটির ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ। আকাশছোঁয়া দাম সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস তুলছে। অন্যদিকে, হাই-স্পিড ডিজেলের দাম ২০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি লিটারে ৩৩৫.৮৬ রুপি। এই জরুরী পরিকল্পনার আওতায় আগামী দুই মাসের জন্য অ্যাম্বুল্যান্স এবং গণপরিবহন ব্যতীত সব সরকারি ও দপ্তরের জ্বালানি বরাদ্দ ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হবে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ গত সোমবার ৯ মার্চ এক গুচ্ছ নীতি নির্দেশিকা জারি করেছেন। আপাতত পাকিস্তানের সব স্কুল বন্ধ। সরকারি অফিসে কাজের দিন কমিয়ে আনা হয়েছে। সপ্তাহ শেষ হতেই সমস্ত স্কুল টানা দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন পাকিস্তান সরকার। উচ্চশিক্ষার ক্লাস হবে অনলাইনে। অফিসের ক্ষেত্রেও কাজের সময়সূচির পরিবর্তন করা হয়েছে। ব্যাংক বাদে সমস্ত সরকারি দফতর এখন থেকে সপ্তাহে চারদিন খোলা থাকবে। জরুরী পরিষেবা বাদে সব সরকারি দফতরে ৫০ শতাংশ কর্মীকে বাড়ি থেকে কাজের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী দুই মাস সরকারি দপ্তরগুলোর জন্য জ্বালানি বরাদ্দে ৫০ শতাংশ কাটছাঁট করা হবে। আধিকারিকদের ডিনার ও ইফতার পার্টিও হ্রাস করা হয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি ঠেকাতে পাকিস্তান সরকার চূডা়ন্ত ব্যর্থ। মুদ্রাস্ফীতি ঠেকাতে একবারেই ব্যর্থ পাকিস্তান। আর সেটা আরও একবার সামনে চলে এল রমজানের সময়। সেই দেশের পঞ্জাব প্রদেশে ফল এবং সবজির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী সব সংসদ সদস্যের বেতন ২৫ শতাংশ কমানোর ঘোষণাও দিয়েছেন। ২০ এবং তার বেশি গ্রেডের সকল সরকারি কর্মকর্তা, যাদের মাসিক আয় ৩,০০,০০০ টাকার বেশি তাদের দুই দিনের বেতন কমানোর মুখোমুখি হতে হবে। এ ছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরের ব্যয়ও ২০ শতাংশ কমানো হবে।
শেহবাজ বলেন, কোনো ফেডারেল মন্ত্রী, উপদেষ্টা বা বিশেষ সহকারী আগামী দুই মাস বেতন পাবেন না। সকল ফেডারেল ও প্রাদেশিক মন্ত্রী, উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী এবং সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা থাকবে। তিনি বলেন, পাকিস্তান উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আসা তেল ও গ্যাসের উপর নির্ভরশীল। এই বাস্তবতা মাথায় রেখে, সরকার দেশের অর্থনীতির জন্য কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, সরকার চেষ্টা করলেও খাবারের দামে কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। উল্টে দাম বাড়ছে অনেকটাই। এক ডজন ভাল মানের কলার সরকারি দাম ২৪০ পাকিস্তানি টাকা। যদিও সেই দামে বিক্রি হচ্ছে না। দোকানিরা সেই ৩০০ পাকিস্তানি টাকায় বিক্রি করছে। ঠিক সেভাবেই খাতায় কলমে ১৪৫ পাকিস্তান টাকায় ১ কেজি পেয়ারা বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু সেখানে খারাপ মানের পেয়ারার কেজিই ১৫০ পাকিস্তানি টাকা। এছাড়া দাম বেড়েছে বেদানারও। এটির সরকারি দাম হওয়ার কথা ৬৩০ টাকা প্রতি কিলো। তবে সেটাই এখন ৭০০ পাকিস্তানি টাকা প্রতি কিলোতে বিক্রি হচ্ছে। আবার দাম বেড়েছে আপেল, আদা সহ অন্যান্য খাবারেরও।












Discussion about this post