বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে নতুন একটি সুর তৈরি হয়েছে। সেটা হল মাইনাস ওয়ান ফর্মুলা। ১/১১ –য়ের সরকারের সময় সামনে এসেছিল মাইনাস টু ফর্মুলা। সেই সময় আওয়ামী লীগ সুপ্রিমো শেখ হাসিনা এবং বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করে সংসদ ভবনের সামনে দুটি বাড়িতে তাদের বন্দি করে রাখা হয়। সেই সময় আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি থেকে তাদের বাদ দেওয়ার অনেকে চেষ্টা হয়। অর্থাৎ মাইনাস টু ফর্মুলা। কিন্তু কোনও চেষ্টা সেই সময় কার্যকর হয়নি। দীর্ঘ কয়েকবছর বাদে আবার সেই মাইনাস ওয়ান ফর্মুলা প্রকাশ্যে এসেছে। অর্থাৎ বাস্তবতার নিরিখে আওয়ামী লীগের মিত্র শক্তি যারা, তারাও মনে করছে বর্তমান পরিস্থিতিতে হাসিনার দেশে ফেরা প্রায় অসম্ভব। এই অবস্থায় দলকে জাতীয় রাজনীতিতে ফিরতে হলে মাইনাস ওয়ান ফর্মুলায় এগোতে হবে। অর্থাৎ হাসিনাকে বাদ দিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। তা না হলে দলের অস্তিত্ব প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড়ে যাবে। আওয়ামী লিগের শুভাকাঙ্খীরা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে, দলনেত্রীকে বাদ দিয়ে তাদের অগ্রসর হতে হবে। চতুর্দিকে গুঞ্জনও শুরু হয়েছে।
ভারত এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে লন্ডনে একটি বৈঠক হয়েছে বলে গণমাধ্যমের খবর। সেখানে এই নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে একটি সূত্রে দাবি করা হচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে এই মাইনাস ওয়ান ফর্মুলা তৈরি হয়েছে কোথায়? বাংলাদেশে না কি প্রবাসে আওয়মী লীগের শুভাকাঙ্খিরা চাইছেন হাসিনাকে বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে আসার চেষ্টা করুক? প্রবাসের এক সাংবাদিক এই ব্যাপারে তাঁর নিজস্ব মতামত দিয়েছেন। অনেকে আবার তাঁর মতামতকে সমর্থনও করেছেন।
শেখ হাসিনার মিত্র এবং শুভাকাঙ্খিরা মনে করছেন, দলনেত্রীকে এই মুহূর্তে আর প্রাসঙ্গিক করা সম্ভব হবে না। কারণ, হাসিনার ওপর মৃত্যুদণ্ডের পরোয়ানা রয়েছে। সেই পরোয়ানা মাথায় নিয়ে তাঁর পক্ষে দেশে ফেরা একপ্রকার অসম্ভব। রাজনীতি করাও সম্ভব নয়। শেখ হাসিনা বর্তমানে দিল্লিতে রয়েছেন। ফলে, আওয়ামী লীগ যদি মাইনাস ওয়ান ফর্মুলা নিয়ে এগিয়ে যেতে চায়, সে ক্ষেত্রে হাসিনার অবস্থান কোথায় হবে? তিনি কী বাকি জীবন দিল্লিতে কাটাবেন? না কি দিল্লি ছেড়ে অন্য কোনও দেশে পাড়ি দেবেন?
এই পরিস্থিতিতে লন্ডনে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমানের একটি বৈঠক হয়েছে। সূত্রের খবর, বৈঠকে হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে একটি সূত্রে দাবি করা হচ্ছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। উভয় দেশই কিন্তু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নতির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে তৈরি হয় ভয়াবহ জ্বালানি সংকট। দিল্লি কিন্তু ঢাকাকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। ওসমান হাদির হত্যাকারীকে গ্রেফতার করে ঢাকার হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাউথব্লক। এই সংকেত থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট যে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের উন্নতি হচ্ছে। অনেকে মনে করেন, বিএনপির ক্ষমতায় আসার পিছনে ভারতের সবুজ সংকেত ছিল। সাউথব্লক থেকে তারেকর ওপর কিছু শর্ত দেওয়া হয়। তার মধ্যে একটি বড়ো শর্ত ছিল আওয়ামী লীগকে জাতীয় রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনতে হবে। বিএনপি সরকার আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফেরাবে। তবে এই ইস্যুতে তারা তড়িঘড়ি কিছু করবে না। আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার অন্য একটি বড় কারণ জামায়াত, এনসিপি। জামায়াত বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তারা এনসিপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে তারেক সরকারের ওপর চাপ তৈরি করবে। বিএনপির একার পক্ষে সেই চাপের মোকাবিলা করা সম্ভব হবে না। সে ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগকে পাশে পেলে কাজ অনেকটা সহজ হয়ে যাবে। অর্থাৎ, আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তারেক রহমানেরও স্বার্থ রয়েছে।












Discussion about this post